ঝালমুড়ি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

ঝালমুড়ি - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

এদিকে-ওদিকে তুমি অনেক বড় বড় স্কুল পাবে, বিশাল বাড়ি, মাঠ, গাছ, হ্যানা ত্যানা। আমাদের এই ছোট্ট মতো স্কুলটার কোনও তুলনা নেই। একেবারে গঙ্গার ধারে। পারঘাট। বড় বড় নৌকো এপার-ওপার করছে। মাঝে মাঝে ছাগলরাও যাত্রী হচ্ছে। সারি সারি জেলেনৌকো তীরে বাঁধা। জোয়ার এলেই জলে নামবে। তখন ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ আসবে সমুদ্রের দিক থেকে। একটা সুন্দর জেটি আছে, ওপাশে। সেদিকটা বেশ নির্জন। বড় একটা বট গাছ।

বাগানঘেরা মা কালীর মন্দির। দ্বাদশ শিবমন্দির। ওখানে একজন সাধক থাকেন। ভীষণ গম্ভীর গলা। লম্বা, চওড়া, ফরসা টকটকে। খুব কম কথা বলেন। রাগি রাগি চোখ। আমাদের স্কুলটা স্বপ্নের মতো। সবচেয়ে আশ্চর্যের আমাদের হেডস্যার। তুমি ভাবতেও পারবে না, তিনি কেমন!

স্কুল ছুটির পর তিনি আমাদের কয়েকজনকে নিয়ে ওই জেটিতে বসবেন। সঙ্গে থাকবে ঝালমুড়ি। সাপ্লাই করবে আমাদের স্কুলের সর্বেসর্বা হেডপিওন কাম দারোয়ান কাম অল-ইন-ওয়ান রামাধর! আমরা বলি, রামাধর দি গ্রেট। বিশাল চেহারা। ঠোঁটের ওপর কাঠবেড়ালির ল্যাজের মতো কাঁচাপাকা গোঁফ। রামভক্ত। রোজ সন্ধেবেলা তুলসীদাসের রামচরিতমানস সুর করে। পড়ে। পড়তে পড়তে বইটা মুখস্থ হয়ে গেছে। রোজ একশোটা ডন, দুশোটা বৈঠক মারে। দুবার গঙ্গাস্নান করে। রাত্তিরবেলা গঙ্গাটা নাকি সরযূ নদী হয়ে যায়। তখন শ্রীরামচন্দ্রও লক্ষ্মণ ভাইকে নিয়ে স্নান করতে আসেন। রাজা রাম নয়, বালক রঘুবীর। ভীষণ দুষ্টু। তোমরা কী দুষ্টু! তোমাদের ডবল, তিন ডবল। রঘুবীরের আবার খিদে পায়, তখন রামাধরের ঘরে ঢুকে সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। রঘুবীরের জন্যে খাবার রাখতে হয়। নিজে নিয়ে খাবে, ছড়াবে, ছিটোবে। রামাধরের গোঁফ ধরে টানবে, চুল খামচে দেবে, তার খাঁটিয়ায় চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমোবে। ভোরবেলা আর নেই। রাম তখন রাজা হয়ে অযোধ্যার সিংহাসনে।

সব স্যারের মুখেই এক কথা, ‘রামাধর ইজ রামাধর’। রামাধর লেখাপড়া খুব ভালোই জানে। ইংরিজি, বাংলা, হিন্দি তো তার নিজের ভাষা। কিছুদিন ডাকবিভাগে চাকরি করেছে। দ্বারভাঙ্গার রাজবাড়িতে চৌকিদারি করেছে। এখন একেবারে অন্য মানুষ, যেন এক সাধু! কোনোদিন, কোনো কারণে আমার মা স্কুলের ভাত ধরাতে না পারলে একটা চিরকুটে লিখে দেন, ‘দাদা, ছেলেটাকে কিছু খাইয়ে দিও।’ মা সত্য সত্যই দাদা বলে মনে করেন। কেন জানি না রামাধরও মাকে সত্যি সত্যি দিদি ভাবে। সম্পর্কটা বেশ মজার, মা বলবে ‘রামুদা’; আর রামুদা মাকে। বলবে, ‘সীতা দিদি’। মা ঝালমুড়ি খুব ভালোবাসে। কাগজের ঠোঙা নয়, শালপাতার ঠোঙায়। আলাদা করে ঝালমুড়ি মুড়ে তারপর কাগজের ঠোঙায় ভরে রামুদা আমাকে বলবে, ‘ছুট্টে গিয়ে মাকে দিয়ে আয়।’ চার-পাঁচটা বাড়ির পরেই আমাদের দোতলা বাড়ি। বাড়ি থেকেই স্কুলের ঘণ্টা শোনা যায়। আমাদের স্কুলটা ইংরেজ আমলের। অনেকটা চার্চের মতো। বেশ গম্ভীর। ঢুকলেই। মনে অন্যরকমের একটা ভাব আসে। বড় বড় হলঘর। বড় বড় সব মানুষের তেলছবি দেয়ালে। দেয়ালে। দোতলায় একটা বইঘর। বই ঠাসা সব আলমারি। কোথাও এক ফোঁটা ধুলো নেই। হেডস্যার রবিবার রবিবার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে লোক দিয়ে সব পরিষ্কার করান। আমাদেরও বলেছেন—শ্রমদান করতে হবে। নিজের কাজ নিজে করার কত আনন্দ! বাড়িতেও নিজের সব কাজ নিজে করবি। সাজপোশাকে কাপ্তেনি খুব খারাপ। ভালো করে গামছা গিয়ে গা ঘষে ঘষে। চান করবি। সেন্ট, পাউডার মাখবি না। ওসব মেয়েলি জিনিস। পুরুষ মানুষ পুরুষমানুষের মতো হবি। যা পাবি, হাসিমুখে পেট ভরে খাবি। আর মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করবি। ব্যস, আর কিছুর দরকার নেই। সব আপসে হয়ে যাবে। আসলে কী বল তো? একটা ভালো মানুষ, সাচ্চা মানুষ হওয়া। আর গাছপালা, জীবজন্তুদের খুব ভালোবাসবি। আকাশ দেখবি, তারা দেখবি, মেঘ দেখবি, জল দেখবি, চাঁদের আলোয় ঘুরে বেড়াবি, নিজের ছায়া দেখবি, ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটবি, ভোরবেলা ফুল কুড়োবি, নির্জন জায়গায় বসে মন্দিরের চুড়ো দেখবি, ফটফট করে সাদা পায়রা উড়ছে, বসছে হাঁ-করে দেখবি, সানের মেঝেতে নিজের পায়ের ভিজে ছাপ দেখবি, ঘণ্টার ধ্বনি শুনবি, সকালের রোদে রোজ কিছুক্ষণ বসে থাকবি। হালকা নীল রঙের জামা পরবি। নিজেকে খুব শ্রদ্ধা করবি। রোজ কিছুক্ষণ মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকবি।

বিকেলের গঙ্গা। ভরা গঙ্গা। আমরা অনেকটা উঁচুতে জলের ওপরেই বসে আছি, জেটিতে। স্যার। জলের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘দ্যাখ, বিকেলবেলায় গঙ্গা যেন বেড়াতে বেরিয়েছেন। অদ্ভুত লাগে এই সময়টা। খা খা, ঝালমুড়ি খা। আজ রামু দারুণ মেখেছে, কিছু বাদ দেয়নি, মনে হয় রামজিকে খাওয়াবে। লোকটাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত। এরকম সৎ লোক খুব কম জন্মায়। কাল কী করেছে জানিস? মাইনের টাকার খামটা টেবিলের ওপর ফেলে রেখে আমি বাড়ি চলে গেছি। ভাবছি, ও গেছে। রাত নটার সময় রামা বাড়িতে গিয়ে। হাজির, ‘এই নিন স্যার। এবার থেকে অতটা অন্যমনস্ক হবেন না স্যার।’ আমি কিছু টাকা দিতে গেলুম। নিলে না, বললে, ‘আমি কি আপনার পর?’ শোন, আমি তো সেই কোন ছেলেবেলায় বাবাকে হারিয়েছি, এই সেদিন মা-ও চলে গেলেন। মানুষের মা, বাবা না থাকলে জীবনটা। কীরকম ফাঁকা হয়ে যায়, তাই না! তাই কী ভাবছি জানিস, রামুদাকে বাবা বলব। আমার বাবা। তোরা কী বলিস?

আমরা সবাই হইহই করে বললুম, ‘দুর্দান্ত স্যার, দুর্দান্ত। আমরা ফেস্টিভ্যাল করব।’

‘একদম না। চুপিচুপি। শোন, আমার খুব ভাবনা হয়েছে।’

‘কী ভাবনা স্যার? কেরোসিন তেল? প্রকাশের বাবার ডিপো আছে।’

‘ধুর, ওসব না। ও নিয়ে আমি ভাবি না। কত কিছুই তো থাকে না, থাকবে না। মানিয়ে নিয়ে চলাটাই জীবন। এই দ্যাখ না, রাজার মুকুট আছে, সিংহাসন আছে কিন্তু ঝালমুড়ি নেই, তোরা নেই। ছাড়, ওসব কথা ছাড়। এখন বল, ওর নাম ভূতনাথ, ভূতনাথ। ভূতনাথ ভট্টাচার্য বাপস। এইরকম একটা নাম ঘাড়ে নিয়ে বেশিদূর যাওয়া যাবে? দু-বছর পরেই কলেজ। ভুতো, ভুতো করে শেষকালে কলেজ ছাড়া করবে। নামটা কে রেখেছিলেন রে!’

ভুতো বললে, ‘আমার দাদু। শিবের ভক্ত।’

‘তাঁর আর কী? তিনি নাম রেখেই খালাস। তোর এই নামটা ভালো লাগে?’

‘অভ্যেস হয়ে গেছে স্যার। ভুতো বললেই চনমন করে উঠি। খিদে পেয়ে যায়।’

‘খিদে পায়? সে কীরে বাবা! ওর নাম শঙ্খচূড়। তবু শুরুতে ওর শঙ্খ আছে, তোর তো শুরুতেই ভূত!’

‘শুরুতে ভূত থাকলেও আমি ভূত নই। আমি ভূতদের নাথ, মহাদেব। আমার আলাদা একটা প্রেস্টিজ। শঙ্খচূড় তো একটা সাপ।’

‘আমার নামটাও বাজে—বিশ্ববন্ধু। আমি কার বন্ধু? কারুর বন্ধু নই! চরিত্রের সঙ্গে নামের মিল নেই। তুই এফিডেবিট করে নামটা পালটে নিবি নাকি?

‘না স্যার। এ বেশ আছে।’

হাতে হাতে ঝালমুড়ি। আমাদের সঙ্গে কে বসে আছেন? আমাদের হেডস্যার। এ কেউ ভাবতে পারবে? কখনও না। হেডস্যার বললেন, ‘তোদের নিয়ে এই গঙ্গার ধারে কেন বসি জানিস! অক্সিজেন। মাথাটা খুলবে। সামনের দুটো বছর খুব খাটতে হবে। তারপর এক-একটা পথ ধরে এগোতে হবে। চূড়ায় উঠতে হবে। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পৃথিবীর জ্ঞানভাণ্ডার কুবেরের ভাণ্ডারকে ছাপিয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ কী কাণ্ডটাই না করছে।’

‘স্যার। আপনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন না।’

‘আর তোরা যে আমাকে ছেড়ে চলে যাবি? তার বেলা!’

‘সে তো স্যার যেতেই হবে। স্কুল শেষ হলে কলেজে।’

‘আমি তোদের ছেড়ে থাকব কী করে?’

‘ছেড়ে থাকবেন কেন, আমরা রোজ আসব। এই জেটিতে। আপনি আমাদের পড়াবেন।’

‘সে হয় না রে। কলেজের অন্য আকর্ষণ। অনেক বড় জায়গা, নতুন বন্ধু। শিক্ষকরা সেখানে অধ্যাপক। নামীদামি। তাই জানিস তো, তোরা ছাড়ার আগেই আমি ছেড়ে দিচ্ছি। আর ক’টা দিন। ৩০ তারিখে আমি বরোদার একটা কলেজে চলে যাচ্ছি।’

আমাদের সব কথা বন্ধ। হাতে ধরা ঝালমুড়ির খালি ঠোঙা। কয়েক হাত নীচে ভরা গঙ্গার জলের কুলুক কুলুক শব্দ। প্রথমে কথা কইল ভুতো—’আপনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন স্যার? কত দূর? বরোদা? একটু আগে কী বলছিলেন, ভূতনাথ যার নাম, সে কতদূর যাবে? অনেক অনেক দূরে, আপনার চেয়েও দূরে!’

এই বলতে বলতে ভূতনাথ জেটি থেকে ডাইভ মেরে ভরা গঙ্গার জলে; তখন ভাটার টান। জল চলেছে সাগরে। এক মুহূর্ত! স্যার ঝাঁপ মারলেন। আমরা সবাই সাঁতার জানি। আমরাও জলে। রোজকার বেড়ানোর দল পাশের পিচ বাঁধানো রাস্তায়। বৃদ্ধদের হাতে ছড়ি। তাঁরা ভেবেছেন প্রতি বছর চাতরা থেকে বাগবাজার সাঁতার প্রতিযোগিতা হয়। তাই হচ্ছে। ছড়ি উঁচিয়ে একজন উৎসাহ দিচ্ছেন, ‘ফাস্ট, ফাস্ট’। আর একজন বলছেন, ‘বেরিয়ে গেল, বেরিয়ে গেল।’

আমরা সবাই ভালো সাঁতার জানি। ভুতো স্কুল-চ্যাম্পিয়ান। একটা সাংঘাতিক কায়দা জানে ডুব সাঁতারে। প্রচণ্ড দম। জলের তলায় বহুক্ষণ এলিয়ে থাকে। একটাই কথা, ইচ্ছে করে যদি আত্মহত্যা করে, সাঁতার না কাটে তাহলে তো কিছু করার নেই। দূরের একটা ঘাটে স্রোতের। নাবালে রামুদা সন্ধ্যাস্নান করছে। রোজের রুটিন। জমিদারি আমলের ছোট্ট একটা রামমন্দির আছে ভূতুড়ে একটা বাগানে। বাগানটা একেবারে গঙ্গা থেকে উঠেছে। সে প্রায় একশো বছর আগের ব্যাপার। এখন এদিক ভাঙছে, ওদিক ভাঙছে। রামুদা নিজের মাইনের টাকায় মন্দির সংস্কার করেছে। বামুন দিদিও টাকা দিয়েছেন। এখন রামুদা নিজেই পুজো করে। গান গায়।

জলের তলায় রামুদার পায়ের ফাঁকে কী একটা বড় মতো ঢুকল। রামুদাকে ঠেলে ওপর দিকে তুলছে সেই জলচর প্রাণীটা। প্রথমে ভেবেছিল শুশুক। তারপর দেখলে চুল রয়েছে। চুল থাকলে মাথাও থাকবে। কথায় আছে, চুল টানলেই মাথা আসবে। ভুস করে ভেসে উঠল ভুতো।

স্যার যে এত এক্সপার্ট সাঁতারু আমরা জানতুম না। রামুদা ঠিক বুঝতে পারছেনা ব্যাপারটা কী? জামাকাপড় পরে এই সন্ধেবেলা সাঁতার কাটছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আর কয়েকজন ছাত্র। ভুতোও ডুবসাঁতার কাটছিল। সে-ও বুঝতে পারেনি যে রামুদার পায়ের ফাঁকে ঢুকে গেছে। ভয়ও পেয়েছে। কারণ, এই অবেলায় কেউ স্নান করে না।

জোয়ারের সময় ঘাটের সব সিঁড়িই ডুবে যায়। ভাটা পড়েছে। জল নামছে। একটা-দুটো সিঁড়ি জেগেছে। আমরা সার বেঁধে একটা পইঠেতে দাঁড়িয়েছি। জল ঝরছে পায়ের কাছে। আমাদের ফিতে বাঁধা বুট জুতোয় জল খাপাত-খাপাত। স্যারের জুতো, চশমা, পাঞ্জাবি, ব্যাগ জেটিতে।

ভুতো সাষ্টাঙ্গে স্যারকে প্রণাম করে বললে, ‘দেখলেন তো স্যার, রামুদা চুলের মুঠি না ধরলে, চলে যেতুম সাগরে। আমার দম বেশি, তাই বেঁচে গেলুম। বলুন, আপনি যাবেন না, তা না হলে ভুতো সত্যি থাকবে না!’ স্যার অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। গঙ্গার জল আর চোখের জল এক হয়ে গেছে। ভুতোর ভিজে মাথায় ফরসা, গোল ডান হাতটা রেখে বললেন, ‘ভূতনাথ! আমি তোমার ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। তোমার এই দম তোমাকে বহুদূর নিয়ে যাবে। আমি কথা দিচ্ছি, তোমাদের ব্যাচটা বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি অন্য কোথাও যাব।’ আমরা সমস্বরে ‘হুররে’ বলে চিৎকার ছাড়লুম। কেউ বুঝল না কী হল।

তারপর কী হল শুনবে? স্যার চলে গেলেন ইংল্যান্ডে। ভূতনাথ ভট্টাচার্য, ডক্টর বি. এন. ভট্টাচার্য, জগদ্বিখ্যাত নাম। এক নম্বর হার্ট স্পেশালিস্ট। মানুষের হৃদয়ের খবর তার মতো আর কেউ রাখে না। স্যার চলে যাওয়ার পরের দিনই রামুদা চলে গেল। নর্মদার ওঙ্কারেশ্বরে। সাধু। আমার মাকে দিয়ে গেল ঝালমুড়ির রেসিপি, একটা সোনার হার আর চোখের জল। আর আমি? এই তো আমি, আমার কাছে বসে আছি লক্ষ্মী হয়ে।

Facebook Comment

You May Also Like