পৃথিবীর অমীমাংসিত ১০টি রহস্যময় ঘটনা !

রহস্যময় এ পৃথিবী যেন একটি আজব জায়গা। প্রকৃতি সবসময়ই রহস্য পছন্দ করে। পছন্দ করে রহস্যের বেড়াজালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। বর্তমানে আমরা একবিংশ শতাব্দীতে বাস করেও এই পৃথিবীর অনেক রহস্যের সমাধান পাইনি, রয়ে গেছে অমীমাংসীত।

আমাদের কাছে এত প্রযুক্তি থাকলেও আমরা অনেক রহস্য সমাধান করতে পারিনি। এমনই রহস্যময় পৃথিবীর ১০টি অমীমাংসীত রহস্য নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

নাচের মহামারী

নাচের মহামারী

১৫১৮ সালের জুলাই মাসের ঘটনা। মিসেস ত্রোফফেয়া নামের এক নারী হঠাৎ নাচতে শুরু করেন। কিছুতেই তাঁর নাচ থামছিল না। এক সপ্তাহ পর আরো ৩৪ জন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে নাচতে শুরু করে। এক মাস পর শত শত লোক সেই অবিরাম নাচে যোগ দেয়। যাদের মধ্যে ক্লান্তি, হার্ট অ্যাটাক ও উচ্চ রক্তচাপে প্রাণ হারায় প্রায় ৪০০ জন ব্যক্তি। এক মাস ধরে অবিরাম নাচতে থাকা কোনো ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই এর যথাযথ ব্যাখ্যাও বিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি।

জমজ গ্রাম

জমজ মানুষের গ্রাম

বর্তমানে এমন একটি জায়গা সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে আপনি যেদিকেই তাকান না কেন চোখ পড়বে জোড়ায় জোড়ায় একই রকম জমজ মানুষের।

জায়গাটি হচ্ছে ভারতের কেরালা রাজ্যের কোধিনি গ্রাম। এটি সবার কাছে ” টুইন গ্রাম ” নামে পরিচিত। এটি কেবল ভারত নয় পুরো বিশ্বের কাছে একটি বিস্ময়। কারণ এটি একমাত্র গ্রাম যেখানে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জমজ এর বাস।

২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এই গ্রামের মোট ২০০০ বাসিন্দার মধ্যে ২২০ জোড়া। সমগ্র বিশ্বে গড়ে এক হাজার মানুষের মধ্যে একজোড়া যমজ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে এই গ্রামেই যমজ হওয়ার সম্ভবনা ৪২ শতাংশ। কালিকোট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম।

এই গ্রামে সব ধরনের যমজই দেখা যায়। হুবহু একই রকম দেখতে আইডেন্টিক্যাল অথবা আলাদা আলাদা দেখতে নন আইডেন্টিক্যাল এই দুই ধরনের যদি দেখা যায়। আবার জমজ ভাই বোনের দেখাও মিলবে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে ১৯৪৯ সালে এ গ্রামে প্রথম যমজ শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। এরপর থেকে প্রতি বছর এ সংখ্যা কেবল বেড়েই চলেছে। কারো কারো মতে গ্রামের পরিবেশ এবং জিনগত কারণ এই ঘটনা ঘটছে। কেবল এই গ্রামেই নয় গ্রামের যেসব মেয়েরা বাইরে বিয়ে হচ্ছে সেখানেও তারা যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু এই গ্রামে যমজের সংখ্যা এত বেশি কেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ডাক্তারের কারণ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারেন নি।

টাইম ট্র্যাভেলার

সময় ভ্রমণকারী

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য আন্ড্রু কার্লসসিন নামধারী একজন ব্যক্তিকে আটক করে। শেয়ারবাজারে ১২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন করে, যার আয় মাত্র ৮০০ মার্কিন ডলার থেকে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এফবিআইর হাতে আটক হওয়ার পর অ্যান্ড্রু দাবি করেন যে তিনি একজন সময় ভ্রমণকারী। ২২৫৬ সালের পৃথিবী থেকে তিনি সময় ভ্রমণকারী যানে চেপে ২০০৩ সালে পৌঁছেছেন। তাই তিনি অতীত থেকে তথ্য পান। অবশ্য আন্ড্রুর এ বক্তব্য মার্কিন আদালতে ধোপে টিকেনি। আদালতের রায়ে জেল হয়ে যায় তাঁর। কিছুদিন পর নিজের কথার সত্যতা প্রমাণ দিয়ে কঠোর নজরদারির জেল থেকে বেমালুম হাওয়া হয়ে যান এই সময় ভ্রমণকারী।

চুম্বক পাহাড়

চুম্বক পাহাড়

লাদাখ শুটিংস্পট এবং পর্যটন স্পট হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এখানে রহস্যময় এক পাহাড়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। লাদাখের লেহ অঞ্চল থেকে কারগিলের দিকে যেতে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে আছে এই রহস্যময় চুম্বক পাহাড়।

এখানে যে সড়কটি গেছে তা ক্রমশ পাহাড়ে উঠে গেছে। কিন্তু আপনি যদি গাড়ি ইঞ্জিন বন্ধ করে রাস্তায় রেখে দেন তাহলে তা ক্রমশ পাহাড়ের দিকে উঠে যাবে। এটি একটি অদ্ভুত ব্যাপার।

শুধু গাড়ি নয় লাদাখের এই অঞ্চলের উপর দিয়ে কোন বিমান যাওয়ার সময় খুব সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়। বিমানের গতি পথ যাতে পরিবর্তিত না হয়ে যায় সে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হয় পাইলটকে।

ওই এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন যে পাহাড়ে অতিপ্রাকৃত শক্তি রয়েছে যার জন্য গাড়ি এমনি এমনি পাহাড়ের দিকে ছুটে যায় । অনেকে আবার মনে করে যে এই পাহাড়টি চুম্বকের তৈরি। এজন্য গাড়ি কে পাহাড়টি নিজের দিকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এ পাহাড়ের রহস্য এখনো সমাধান হয়নি।

ব্রালরনে জাদুঘরের ছবি

ব্রালরনে জাদুঘরের ছবি

১৯৪১ সালে কানাডার গোল্ড ব্রিজ থেকে একটি ছবি তোলা হয়। যে ছবিতে একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়, যার পোশাক-আশাক মোটেও ১৯৪১ সালের মতো নয়; বরং তা বর্তমান সময়ের। তাঁর পরনে ছিল একটি চেন লাগানো হুডি, টি-শার্ট এবং অবাক করা ব্যাপার ১৯৪১ সালের ওই সময়ে তাঁর হাতে ছিল একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা।

অবিরাম বজ্রপাত

অবিরাম বজ্রপাত

আকাশে বজ্রপাতের শব্দ শুনলেই বুকটা বুকটা কেমন জানি কেঁপে উঠে। কিন্তু অবিরাম বজ্রপাত হতেই থাকলে ব্যাপারটা কেমন হবে?

ভেনেজুয়েলায় এমন একটা জায়গা আছে যেখানে বছরে প্রায় ৩০০ দিন বজ্রপাত হয়। ভেনেজুয়েলার পশ্চিমে একটি নদী বয়ে চলেছে। নদীর নাম হচ্ছে কাটাটুম্বো। নদীতে গিয়ে মারাকাইবো লেকে পড়েছে পড়েছে। নদীর মোহনায় নদীটির তীরে সকাল ৭ টা থেকে ১০ ঘন্টা অবিরাম বজ্রপাত হতেই থাকে। প্রায় সারা বছরই এখানে এভাবে চলতে থাকে। ২০১০ সালে হঠাৎ ছয় সপ্তাহের জন্য বজ্রপাত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে আবার আগের মত হয়ে যায়।

স্থানীয়রা মনে করেন এখানকার পাথরে প্রচুর পরিমাণ ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। এজন্য এরকম বজ্রপাত হয়। বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের জন্য স্থানীয় গরম বাতাস ও দূর থেকে আসা শীতল বাতাসে সংঘর্ষ কে দায়ী করেছেন। কিন্তু এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ওই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে পারে না।

হিমায়িত বালিকা

হিমায়িত বালিকা

হলিউডের ফ্রোজেন চলচ্চিত্রের এলসা ও আন্নাকে নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। এলসার কারণে বরফে জমে যাওয়া আন্নাকে ভালোবাসা দিয়ে সারিয়ে তোলা হয়। এবার বাস্তবের আন্নাকেই খুঁজে পাওয়া গেছে। নাম জিন হিলিয়ার্ড। ঘটনাটা ঘটেছে ১৯৮০ সালের ২০ ডিসেম্বর। ওই দিন জিন হিলিয়ার্ড তাঁর গাড়ি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার লেংবাইয়ের তুষার পড়া রাস্তা ধরে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি এসে হঠাৎ তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, গাড়ি চালানো থামিয়ে তুষার পড়া রাস্তায় একটু হেঁটে বেড়াবেন। এরপর বাড়ির লোকেরা যখন তাঁকে খুঁজে পায়, তখন তিনি অচেতন অবস্থায় ছয় ঘণ্টা ধরে তুষার পড়া রাস্তায় পড়ে আছেন। সে সময় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইটে যা হিসাব করলে দাঁড়ায় মাইনাস ৭.৬ ফারেনহাইট। যখন তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তাঁর মধ্যে বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ ছিল না। তুষারে থাকতে থাকতে তাঁর চামড়া এতটাই শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে শরীরে ইনজেকশন দিতে পারছিলেন না চিকিৎসকরা। সবাই ভেবেছিলেন, জিন মারা গেছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিন দিন বাদে হাত-পা নাড়াতে শুরু করে জিন। ছয় সপ্তাহ পড়ে সবার চোখের সামনে দিয়ে দিব্যি হেঁটে বাসায় ফিরেছেন জিন হিলিয়ার্ড।

ইস্টার দ্বীপের রহস্যময় মূর্তি

ইস্টার দ্বীপের রহস্যময় মূর্তি

চিলি থেকে প্রায় ৩৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইস্টার দ্বীপ। এ দ্বীপের একটি বিস্ময়কর দিক হলো এখানে অনেক আশ্চর্যজনক মূর্তি রয়েছে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই মুহূর্তগুলো আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগের তৈরি।

জনমানবহীন ইস্টার দ্বীপের নেই কোন বসতি। এই দ্বীপটিকে পৃথিবীর অন্যতম নিঃসঙ্গ দ্বীপ ও বলা হয়। এখানকার প্রতিটি মূর্তি বিশাল পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। ধারণা করা হয় পলিনেশীয় কিছু দ্বীপে পাথরের গায়ে খোদাই করে ছবির নমুনা দেখা যায়। যাকে বলে পেট্রগ্লিপস। পেট্রগ্লিপস সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে এই দ্বীপে। বিশেষজ্ঞদের মতে এখানে প্রায় ১০০০ টি স্থানে ৪ হাজারের মতো পেট্রগ্লিপস এর নমুনা আছে। দীপটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সাতটি বৃহদাকার ভাস্কর্য। যাদের আসলে ” নেভল অফ দা ওয়ার্ল্ড ” বলা হয়। স্থানীয়রা এসব ভাস্কর্যকে বলে থাকে মোয়াই। পুরা দীপটিতে মোয়াই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একেকটি ভাস্কর্য প্রায় ১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট, ওজন কম হলেও ২০ টনের বেশি হবে। সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটির উচ্চতা ৩২ ফুট ওজন প্রায় ৯০ টন।

এ দ্বীপটি আবিষ্কার করেন অ্যাডমিরাল জ্যাকব রগেউইন। ডাচ এই অভিনেত্রী দ্বীপটির নাম দেন ইস্টার আইসল্যান্ড। বিশ্ব বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব থর হেয়ারডাল প্রচুর গবেষণা ও খননকার্যের পর তথ্য দিলেন ৩৮০ খ্রিস্টাব্দ পেরু থেকে কিছু মানুষ এখানে বসবাস শুরু করেন। তারা এসব রাস্তা, মানমন্দির, সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল। ১২৮০ খ্রিস্টাব্দ পেরু থেকে আসা কিছু লোকজন এই দ্বীপটি দখল করে। এমনকি তারা দাবি করে মূর্তিগুলো তাদের তৈরি।

তাছাড়া এখানে আছে পাথরে তৈরি ৮০০ টি মূর্তির মাথা। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মাথাটির উচ্চতা ৩২ ফুট এবং ওজন ৯০ টন। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এখানে যে মূর্তির মাথা গুলো দেখা যায় মাটি খনন করলে পুরো দেহই পাওয়া যায়।

আর এ দ্বীপে আহু নামক পরিচিত বিশাল বিশাল প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যায়। এছাড়া এখানে বিস্ময়কর পাথরের দেয়াল, ঘর, খোদাইচিত্র পাওয়া যায়।

আরেকটি রহস্য হল মূর্তির মাথায় টুপি পরানো। দেখেই বুঝা যায় টুপিগুলোর কাজ অনেক পরে হয়েছে। আবার টুপি তৈরির কাজ কাঁচা হাতের কাজ। কিন্তু ভাস্কর্যগুলো ছিল একদম নিখুঁত। কেনই কেনইবা টুপি পরানো হল বা টুপি পরে কেন পোড়ানো হলো বা মূর্তি গুলো কিভাবে এখানে আসলো বা কে তৈরি করল তাও কিন্তু রহস্যজনক।

মূর্তি গুলো অতি প্রাচীন অথচ উন্নত সভ্যতার চিহ্ন। এ ব্যাপারটা রহস্যজনক। আবার অনেকে আবার এটাও চিন্তা করে যে দীপটিতে বাইরের জগত থেকে অভিবাসীরা বাস করে গেছে যার ধ্বংসাবশেষ এই মূর্তি গুলো। ইউনেস্কো কর্তৃক এ রহস্যময় স্থানটিকে বিশ্বের অন্যতম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।

বৃষ্টি মানব

বৃষ্টি মানব

১৯৮৩ সালের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার স্ট্রাউডসবার্গ নিবাসী ডন ডেকারের দাদা সম্প্রতি গত হয়েছেন। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে ভারাক্রান্ত ডন বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ছাদ ও দেয়ালজুড়ে বৃষ্টির মতো পানি পড়া শুরু করে। অথচ বাড়ির ছাদ বা দেয়ালে কোনো পানির পাইপ সংযুক্ত ছিল না। সমস্যা সমাধানের জন্য ডনের বন্ধু পুলিশ ডাকেন। পুলিশের সহায়তায় ডনকে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়ির কাছের পিৎজা রেস্টুরেন্টে। অবাক করা বিষয়, ডন বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির বৃষ্টি থেমে যায়। ডনের বন্ধু ও পুলিশ আরো অবাক হয় যখন তাঁরা দেখতে পায়, পিৎজার রেস্টুরেন্টে ডনের ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার দেয়াল ও ছাদজুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ ঘটনার ব্যাখ্যা আজও দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ” এ নামটি আমরা প্রায় সবাই শুনে থাকবো । কারো কারো কাছে এটি এক অজানা রহস্য কারো কাছে আবার এটি কিছুই না । বর্তমানে বহুল আলোচিত ঘটনার মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল একটি । বারমুন্ডা ট্রায়াঙ্গাল আবিষ্কারের পর থেকে মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছে এর রহস্য সমাধান করার । অনেকে মনে করেন যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য কাল্পনিক মোটেও বাস্তবিক নয় । আজ আমরা জানবো ওই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে । এটি আবার শয়তানের ত্রিভূজ নামে সমধিক পরিচিত ।

এই অঞ্চলটি যে একদম ঠিকঠাক আটলান্টিক মহাসাগর কোথায় অবস্থিত তা নিয়ে অনেক মতভেদ আছে । একদল গবেষকদের মতে এই অঞ্চলটির এক প্রান্ত হল পুয়ের্তো রিকো আরেক প্রান্ত আছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহমা ও ফ্লোরিডার দক্ষিণাংশ আর অন্য প্রান্ত হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুডা দ্বীপপুঞ্জ। কেউ কেউ আবার এ জায়গার সাথে মেক্সিকো উপসাগর যুক্ত আছে বলে মনে করেন । আবার অনেকের কাছে এটা ত্রিভুজ আকৃতির নয় বরং ট্রাপিজিয়াম আকৃতির ।

পঞ্চদশ শতকে ক্রিস্টোফার কলম্বাস যখন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় যান তখনই তিনি সাগরে অদ্ভুত এলাকা লক্ষ করেন । ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায় ১৪৯২ সালের ১১ ই অক্টোবর এই জায়গাটি নিয়ে তিনি অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন । তিনি লিখেছেন তার জাহাজের নাবিকরা দূর থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অঞ্চলের দিকে আলোর নাচানাচি আর আকাশে ধোয়া দেখেছিল। আর তার কম্পাস এলোমেলো ছোটাছুটি করছিল । অদ্ভুত এই জায়গাটি প্রায় ৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার পর্যন্ত জুড়ে রয়েছে ।

যদিও এই অঞ্চলের আবিষ্কারক কলম্বাস তবে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন লেখক ভিনসিয়েন্ট গ্যাডিস তার লেখা একটি কাহিনীতে ১৯৬৪ সালে । ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরে আটলান্টিক মহাসাগরের নামহীন এক অদ্ভুত এলাকা নিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয় । আর এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই গ্যাডীস লিখেছিল ” The Deadly Bermuda Triangle ” নামক কাহিনীটি।

এই বারমুডা ট্রাইঅ্যাঙ্গেল নিয়ে মানুষের মানুষের মনে চিন্তা ভাবনার কোন শেষ নেই । অনেকে মনে করে যে এখানে অতিপ্রাকৃত কোন শক্তি রয়েছে । আবার অনেকে মনে করে এই অঞ্চলটিতে ভিনগ্রহের প্রাণীর বসবাস রয়েছে । এখানে যে দুর্ঘটনা গুলি ঘটে সেগুলো নাকি তারাই ঘটায় । যে জাহাজ উড়োজাহাজ উধাও হয়ে যায় সেগুলোর পিছনে নাকি তারাই দায়ী । অনেকে মনে করে এই অঞ্চলে একবার যারা যায় তারা আর ফিরে আসে না । আর যারা ফিরে আসে তারাও তারাও পরবর্তীতে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় । আবাার অনেকে মনে করেন যে এই অঞ্চলেে শক্তিশালী চৌম্বক রয়েছে যা সবকিছুকে আকর্ষণ করে । এর ফলে জাহাজ ও বিমান গুলো হারিয়ে যায় । আবার অনেকে মনে করেন এই অঞ্চলে ওয়ার্ম হোল আছে যা জাহাজ ও বিমান সবকিছুকে টেনে নেয় । এই অঞ্চল নিয়ে যে শুধু আজগুবি চিন্তা ভাবনা করে তাই না অনেকে আবার এটিকে কিছুই মনে করে না । অনেকে মনে করে যে এখানে কিছুই নেই সব ভ্রান্ত ধারণা ।

যখনই কোন বিমান বা জাহাজ বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে গিয়েছে তখন সেগুলো কিভাবে যেন হারিয়ে যায় কিংবা সেখান থেকে যদিও ফিরে আসে তবু মুখোমুখি হয় অদ্ভুত সব ঘটনার । এসব ঘটনার কারণ এই রহস্য যেন আরো গভীর হয়ে উঠেছে ।

মারি সেলেস্ত নামের একটি মালবাহী জাহাজ ১৮৭২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে নিউইয়র্ক থেকে রওনা হয় । অনেকদিন পর যখন গন্তব্যে পৌঁছয় নি তখন শুরু হয় খোঁজাখুঁজি । অনেক চেষ্টার পর জাহাজটিকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় খুঁজে পাওয়া গেল । ভাসমান অবস্থায় কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল যে সব মালপত্র খাবার-দাবার একদম অক্ষত ছিল শুধুমাত্র ১১ জন কর্মী উধাও। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার ব্রিটিশদের সাহায্য করার জন্য ইউএসএস সাইক্লোপস নামক একটি জাহাজ পাঠায় । ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জাহাজটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাছে এসে কোন চিহ্ন না রেখে উধাও হয়ে যায় । এর সাথে ৩০৬ জন ক্রু উধাও হয়ে যায় ।

ঠিক একইভাবে একই জায়গা থেকে ১৯৪১ সালে গায়েব হয়ে যায় ইউএসএস প্রটিয়াস আর ইউএসএস নিরিয়াস নামের দুটি জাহাজ ।

তবে জাহাজের ঘটনাগুলোর মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো মেরিন সালফার কুইন নামক জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি । ১৫ হাজার টন সালফার আর ৩৯ জন ক্রু নিয়ে ১৯৩৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তে রওনা হয় জাহাজটি । ফেব্রুয়ারি ৪ থেকে জাহাজটি যখন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অবস্থান করছিল হঠাৎ রেডিও ট্রানস্মিশন অফ হয়ে যায় অথচ কিছুক্ষণ আগেও কমাণ্ডার বলেছিলেন ” কত সুন্দর আবহাওয়া ! কি চমৎকার ভাবে নেভিগেশন চলছে ! ” এভাবে হঠাৎ ৬০০ ফুটের এই জাহাজটি মানুষগুলোকে নিয়ে একদম নেই হয়ে গেল ।

এখন আসি বিমানের কথায় । সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা হচ্ছে ফ্লাইট নাইনটিন নামক পাচটি বিমান নিখোজ হওয়া নিয়ে। ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে শুরুর দিকে ইউএস নেভির সেরা পাচজন এভেঞ্জার বম্বার একটি প্রশিক্ষণ মিশনের জন্য রওনা হয় । বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল এ অবস্থান করছে এমন অবস্থায় বিমানগুলির সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এই পাচটি বিমানের খোজ আজও পাওয়া যায় নি।

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
1
+1
1
+1
0
+1
0

You May Also Like