গর্ভপাত – মাঈনউদ্দিন বিন মনির

গর্ভপাত - মাঈনউদ্দিন বিন মনির

দরজার ওপাশে কারো পায়ের শব্দ শুনে সদ্য ধরানো সিগারেট আ্যশট্টের মধ্য রগড়িয়ে মাথার আগুনটা নিবিয়ে ফেলল অনিমেষ৷ মুখে পুড়ে রাখা ধোয়াটুকু যতক্ষণ জানালা দিয়ে বাইরে চালান করছিল ততক্ষণে কিছুকাল আগে শুনতে পাওয়া পায়ের শব্দটা মিলিয়ে গেল। অর্থাৎ যার পায়ের শব্দ এতক্ষণ শোনা যাচ্ছিল সে এরইমধ্যে ঘরে প্রবেশ করেছে। জানালা থেকে মুখ ফিরিয়ে সামনে যে আছে অনিমেষ তাকে দেখল কিনা তা আমরা জানিনা কিন্তু তাকে লক্ষ্য করে যা বলল তা আমরা শুনেছি। আগুন্তুক কে দেখে খানিকটা অবাক হওয়ার ভঙিতে অনিমেষ যা বলল তা হল, “আরে! তুমি!? দাঁড়িয়ে কেন? চেয়ারটা টেনে বসো।”

সাথে সাথে উত্তর এলো, ” না আমি বসার জন্য আসিনি।”
“তাহলে কি কোন কাজে এসেছ?” খানিকটা রসিকতার ছলে কথাটা বলেই ঠোঁট থেকে আংশিক রসের ভাবটা গুটিয়ে নিল।
আগুন্তুক আগ বাড়িয়ে বলল,” তোমার কি মনে হয়?”
” আমার যা মনে হয় তা তো আমি বললামই।” এবার তুমি কেন এসেছ সেটা বলে ফেল। দেখি মেলে কিনা আমার সাথে। যদিও তোমার সাথে আমার কোন কিছুতেই মেলে না।
” সেটা যখন বুঝতেই পারো তখন এতো বাজে বকছো কেন?” আগুন্তুকের কথায় পরিহাস।

এবার নিজে থেকে উঠে এসে চেয়ারটা টেনে এনে সামনে দিয়ে অনিমেষ বলল, ” কি ব্যাপার বল তো? তুমি মনে হয় এ্যাগ্রেসিভ মুডে রয়েছো।”

এটুকু শুনে আগুন্তক বললো,” মুড সুয়িং সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে বলে কি তুমি মনে করো?”
“কি হয়েছে বলবে তো, নাকি?” অনিমেষের কন্ঠে খানিকটা বিরক্তি।
” বলার জন্যই তো এসেছি” চেয়ারে না বসে দাড়িয়ে থেকেই বলল আগুন্তুক।
“বলবেই যখন বসে বল। আমি শুনছি।”

” আচ্ছা অনিমেষ তোমার কি মনে হয়? তুমি কি কোন কাজের যোগ্য?” এবার চেয়ারটায় বসেই তারপর কথাটা পারলো আগুন্তুক।
“এটা ঠিক বলেছ। আমি আসলে কোন কাজেরই যোগ্য না। তোমার বান্ধবী লিলিও তাই বলে। তবে এখন একটা কাজ করবো। তুমি বসো আমি তোমার জন্য চা করে নিয়ে আসি। তারপর তোমার সব কথা শুনবো। বসো আমি এক্ষুনি আসছি।”

আগুন্তুক বললো,” আমার চা চাইনা। তুমি বসো৷ কথা আছে। কথা গুলো শেষ করেই আমি চলে যাব। “
” তোমার নয় কিন্তু আমার চাই।এখন এক কাপ চা না হলে আমি তোমার কথা গুলো মন দিয়ে শুনতে পারবো না। অতএব একটু বসো, আমি আসছি। জাস্ট দুই মিনিট।” বলেই উত্তরের অপেক্ষা না করে অনিমেষ রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

দুই মিনিট নয়৷ চুলোর গ্যাসের আচঁটা খানিকটা কমিয়ে দিয়ে একটা কেতলি তে তিন কাপ আন্দাজ পানি বসিয়ে মুহুর্তেই আবার যথাস্থানে ফিরে এলো। এবার নিজে বিছানায় নয় অন্য একটা চেয়ার টেনে নিজে বসল আগুন্তুকের মুখোমুখি। এখনো আমরা অনিমেষের গৃহে আসা অতিথির নাম জানিনা। তাই সেই অতিথি কে আমরা আগুন্তুক বলেই সম্ভোধন করছি।

ধুলো পড়া চেয়ারটায় বসার আগে একটা ন্যাকড়া দিয়ে মুছতে মুছতে বললো,” এই বসার সময় মুছে নিয়েছিলে? চেয়ারগুলোর উপর কেমন ধুলো পরে আছে। এই জানালাটা বন্ধ করলে আলো আসে না আর খুললেও ধুলোয় বালিতে একাকার হয়ে যায়।” বলতে বলতে এবার চেয়ারটায় বসে পড়ে বলল,” হ্যা, কি যেন বলবে বলছিলে? এবার বল।”

আগুন্তুক এতক্ষন দেয়ালের উপর বাধাই করা লিলি আর অনিমেষের এর একটা জোড়া ছবি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিল। অনিমেষের কথাগুলোও সে শুনেছে।

এবার আগুন্তুক পূর্ব-প্রসঙ্গ লোপ করে বললো,”কেন চেয়ারে ধুলো পড়ে আছে কেন? ধুলো ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করবার মতো মানুষ তো তোমার আছে। “

“হ্যা, মানুষ তো আছে। কিন্তু সে কিছুদিনের জন্য অবসরে গেছে। ঠিক অবসর নয় ছুটি।”
” সে কি ছুটিতে গেছে নাকি কর্তা তাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করেছে? কোনটা?”
” কি বলছো কি?” খানিকটা সচেতন হয়ে বললো, “এখানে মালিক শ্রমিকের কথা আসছে কোথা থেকে। আমি কি মালিক নাকি? আর এখানে কেউ মালিক কর্মচারী নয়। শুধু নিজেদের দায়িত্বে থেকে একটু ক্লান্তি ধরেছিল বোধহয় তাই হাওয়া বদল করতে গেল অন্যজন। আর আমি এই ভদ্রাসন বসে বসে পাহাড়া দিচ্ছি।” শেষে যেন কন্ঠে খানিকটা শীতলতা এলো অনিমেষের।
” সত্যিই কি তাই?” জানতে চেয়ে বললো আগুন্তুক।
” তোমার কি অন্য কিছু মনে হয়?” পাল্টা প্রশ্ন করলো অনিমেষ।
শুনে আগুন্তক বললো,” আমার অন্য কিছু মনে হবে কেন? আমি তো এক্ষুনি তোমাদের দেখতে আসলাম।”
“কিন্তু এসে তো কি যেন বলবে বলছিলে? পুরো তেঁতেঁ ছিলে মনে হচ্ছিল।”
আগুন্তুক জবাব দিল, “হ্যা, বলবো। এক্ষুনি বলছি।”
“এতক্ষণ অপেক্ষা করেছো আরেকটু পরেই না হয় শুরু করো। চুলোয় চায়ের পানি বসিয়ে রেখে এসছি। এবার অনুমান করে চা-পাতি ছেড়ে দিয়ে চা’ টা করে নিয়ে এসো। আমি নিজে করে নিয়ে সেই চা খেয়ে তোমার মেজাজ আবার বিগড়ে যেতে পারে। তার চে’ বরং তুমিই করে নিয়ে এসো।”

আগুন্তুক মনে মনে খানিকটা বিরক্ত হলো। অনিমেষ তার কথায় তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বা আগ্রহ নিয়ে শুনতে চাইছে না। বাইরে আগুন্তুক সেই বিরক্তি প্রকাশ করলো না।

হাতে চা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করল আগুন্তক। অনিমেষের চায়ের কাপটা তার হাতে দিয়ে জানতে চাইলো,” আচ্ছা, লিলি কি সত্যিই বাসায় নেই?”
অনিমেষ নিজেই যেন এবার বিরক্ত হলো। বলল,” এতক্ষণ ধরে বাসায় আছো উপরন্তু তুমি নিজেই চা করে খাওয়ালে। তারপও কি তোমার মনে সন্দেহ যে লিলি বাসায় আছে?”
“কোথায় গেছে?” আগুন্তুকের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন।
” যাবে আর কোথায়? বাবার বাড়ি। মাকে দেখতে গেছে।” অনিমেষের স্বাভাবিক উত্তর।
“কেন? পিসিমা কি অসুস্থ?” আগুন্তুকের চোখে কৃত্রিম কৌতহল।
” কি আর হবে? তার সুযোগ্য দাদা বিয়ে করে যাকে এনেছেন তিনি তো আবার রাজকন্যা। পরিবারের কোন কাজ করতে পারেন না। সব কাজ তো লিলির মা’রই করতে হয়। সেদিন নাকি কি করতে গিয়ে সিড়ি’র ধাপ গড়িয়ে কোমড়ে চোট পেয়েছেন।”

“তুমি দেখতে যাওনি?” আগুন্তুক অনিমেষ কে জিজ্ঞেস করলো।
” না। আমি গতকালও ঢাকার বাইরে ছিলাম। আজ ভোরেই বাসায় ফিরেছি। কত করে বললাম। তোমার এই সময়ে কোথাও গিয়ে কাজ নেই। ঠিক হবে এ সময় কোথাও যাওয়া। আমি তো অধিকাংশ সময়েই বাইরে থাকি। এ সময় তোমার পাশেও একজন থাকা দরকার। তার চেয়ে বরং তোমার তিনাকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসো। কে শুনে কার কথা। ওর কথা তুলো না। প্লিজ। তোমার কথা বল। কি যেন বলতে এসেছিলে?”

আগুন্তক অনিমেষের মনের অবস্থা বুজতে পেরর প্রসঙ্গ পাল্টালো। বললো, “দুপুরে কি কিছু খাওয়া হয়েছে তোমার?”
অনিমেষ অন্যমনস্ক ভাবে জবাব দিল, “হ্যা, ফ্রিজে একবেলার খাবার রাখা ছিল।”
এরপর রাতে কি খাবে কি জানতে চাইলো আগুন্তুক।

অনিমেষ জবাব দিল, ” হয়ে যাবে। তা নিয়ে আর কি ভাবনা। বাইরে খেয়ে নেব।”
আগুন্তুক সচেতন হয়ে বলল,” বাইরে কেন? লিলির দাদার বাসা তো দূরে নয় এখান থেকে। ওখানে চলে যাও।”
” তনুশ্রী, ওর কথা আর বলো না। আমার ভালো লাগছে না। তোনার কথা বলছ না কেন? বারবার ওর প্রসঙ্গ কেন টানছো?বল কেন এসেছিলে।”
এবার তনুশ্রী(আগুন্তুক) বললো, ” বলছি তো। তাড়া কিসের। এই তোমার কি কোন তারা আছে নাকি?”
“না, কিসের তারা। সারাদিনই আজ ফ্রি। তাছাড়া কালকেও ছুটি আছে।”
“তাই?” আগুন্তুকের স্বস্তি।
“হ্যা।” অনিমেষের জবাব।
” আমার মনে হয় পিসিমাকে তোমার একবার দেখতে যাওয়া উচিত।”বললো তনুশ্রী।
“না আমি পারবো না।”
“কেন?” জোড় দিয়ে কারণ জানতে চাইলো তনুশ্রী।
” তুমিই বল এ সময় এভাবে জার্নি করে ওর ওই বাসায় যাওয়া কি ঠিক হয়েছে? আমার কথা শুনলে তো। এত কষ্ট করে ওখানে না গিয়ে আগামী কয়েক মাস উনাকে আমাদের এখানে নিয়ে এলেই তো হয়। আমি আর ওর মুখও দেখতে চাইনা।” লিলির উপর অনিমেষের অসন্তোষ তার কথায় স্পষ্ট।

“মুখ দেখতে চাওনা। তাহলে চূড়ান্ত ছাড়াছাড়িটা ঝুলিয়ে রেখেছ কেন? ওটাও দ্রুত সেরে ফেল।” তনুশ্রীর কন্ঠে অনিমেষর প্রতি তিরস্কার।

তনুশ্রীর কথাগুলো হজম করতে গিয়ে গলায় আটকে গেল। তাই তখনই তা উগড়ে বের করতে অনিমেষ বললো,”মানে? কি বলছো কি তনু? তোমার মাথা ঠিক আছে? সি ইজ ক্যারিং মাই চাইল্ড এন্ড সি ইজ স্টিল চার্মিং এ্যাজ এ গার্লফ্রেন্ড জাস্ট লাইক আওয়ার ফার্স্ট মিটিং।”

লিলির প্রতি অনিমেষের ভালবাসার কমতি কোন কালেই ছিল না। তনুশ্রী সেটা ভাল করেই জানতো। তনুশ্রীর চেয়ে ভালো ওদের দু’জনকে কে চেনে? বিশেষত যখন লিলি আর অনিমেষের বিয়েটা হয়েছিল তখন অনিমেষ ছিল পুরোপুরি বেকার। তাই লিলির দাদা আর বাবা বেঁকে বসেছিলেন। তখন লিলি একপ্রকার পরিবারের অমতেই এক কাপড়ে অনিমেষের হাত ধরে চলে এসেছিল। অনিমেষও তার জন্য লিলিকে অমর্যাদা করেনি। গেল বছর লিলির পিতার অসুখের সময় আবার সব মিটমাট হয়েছিল। প্রথম দিকের সীমাহীন অভাব-অপ্রাচুর্য যাদের ভালবাসায় একটুও খাঁদ তৈরী করতে পারেনি আজ এই বসন্তে তাদের পৃথকীকরণ কোন শত্রু মাত্রও ভাবতে পারবে না। তনুশ্রী তো নয়’ই। লিলির জন্য কোনদিন অনিমেষের ভালবাসার ঘাটতি পড়বে এটা বেশ ভালো করেই জানতো তনুশ্রী। রুক্ষ-শুষ্ক গ্রীষ্মে-বর্ষা যাদের আলাদা করতে পারেনি আজকের বসন্তে তাদের আলাদা হওয়ার কথা শুধু তনুশ্রী কেন কোন শুভাকাঙ্ক্ষীই ভাবতে পারে না।

তনুশ্রী এবার নিজেকে খানিকটা সামলে নিয়ে বললো, ” তোমার সামান্য একটু কথা অমান্য করে লিলি ওবাড়িতে গেছে তাতেই তুমি বলে ফেলতে পারলে ওর মুখ আর দেখতে চাওনা। তা সেই জায়গায় আমি ছাড়াছাড়ির কথা বলে কি এমন জঘন্য অপরাধ করেছি। শুনি।” শান্ত নিস্তেজ গলায় তনুশ্রী বললো, ” আমকে তোমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে একজন ভেবো।”
” আহা, রাগ করোনা। তুমি তো জানো, হাউ মাচ আই লাভ লিলি।” অসহায়ভাবে বলল অনিমেষ।
“আমি জানি তোমরা দু’জন দু’জনকে কতটা ভালোবাসো। আর সে জন্যই বলছি, তুমি লিলিকে এবারের মতো ক্ষমা করে দাও।”

ক্ষমার কথা শুনে অনিমেষ খানিকটা হোচট খেল। লিলি কি তাকে এতোটা নিষ্ঠুর ভাবে। এতোদিনে লিলি তাহলে অনিমেষকে এতোটুকু চিনলো। আর তনুই বা হঠাৎ করে কি বলতে এসে কি সব নিয়ে কথা বলছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বললোঃ
“ক্ষমা? এখানে ক্ষমার কথা আসছে কেন? লিলি তো ভুল বা অন্যায় করেনি। কিসের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আর কেনইবা আমাকে ক্ষমা করতে হবে।”
তনু বলল,” না, লিলি ভুল করেছে।”
“মানে? রহস্য করছো আমার সাথে? কি বলতে চাও সোজাসুজি বল, অনু। আর হঠাৎ করে কিই-বা বলতে এসে কেবল লিলিকে নিয়ে কি সব বলে যাচ্ছ।”
“লিলি হ্যাজ বিন এ্যাপ্রিম্যাচ্যিউর মিসক্যারেজ।” বলেই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় তনু।
“মানে? কি বলছো কি? মুখে যা আসে তাই বলে যাচ্ছ নাকি? কোন কথা মুখে আটকায় না?” নিজেও চেয়ের থেকে উঠেই কথাটা পারলো তনুর উদ্দেশ্যে।

তনু অনিমেষের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে পুর্বস্থানে বসে নিস্তেজ নির্জল গলায় বলল,”উত্তেজিত হ’য়ো না। যা শুনেছ ঠিক শুনেছ। আমিও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। আমিও আমার শ্বশুর বাড়ি ছিলাম। লিলির দাদা আমাকে ফোন করে জানালো। গতকাল এখান থেকে যাওয়ার পথে পেছন থেকে ভ্যানের ধাক্কায় রিকশা থেকে পরে গিয়ে…” টানটা শেষ করলো না তনুশ্রী। থেমে গিয়ে আবার বললো,” তোমাকে জানাতে ও ভয় পাচ্ছিল। লিলিকে তুমি কতোটা ভালোবাসো লিলি সেটা জানে তাই তোমাকে সরাসরি জানাতে ভয় পাচ্ছিল। তাই আমাকে পাঠিয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও গন্ডি বেয়ে জলের ফোটাটা কপোল বেয়ে নিচের দিকে নামতে রওনা করেছিল সেটা দ্রুত মুছে নিয়ে আদ্র কন্ঠে অনিমেষ জানতে চাইলো,” ও এখন কোথায়?”

তনুশ্রী বলল,”গতকালই রাতে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একবার যাবে তুমি?” বলে নিজেকেও সামলে নিলো তনুশ্রী।
মূহুর্তেই যেন এক আকাশ অভিমান অভিযোগ ছাই হয়ে মেঘের মতো উড়ে গেল হিমালয়ের ওপারে। তনুশ্রীর কথা জবার না দিয়ে আলনার উপর ছড়িয়ে রাখা শার্টটা হাতে নিয়ে উঠে দাড়ালো অনিমেষ। সাথে তনুশ্রীও।

লিলি যে ঘরে শুয়ে আছে অনিমেষ সে ঘরের দরজায় এসে দাড়াতেই ভেতরে যারা ছিল সবাই এক এক করে বেড়িয়ে বেড়িয়ে গেল। অনিমেষের সাথে তনুশ্রীও এসেছিল। কিন্তু তনুশ্রী অনিমেষের সাথে লিলির ঘরে না ঢুকে অন্য সবার সাথে যোগ দিল।

অনিমেষকে দেখতে পেয়ে মুখটা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে চোখের জল লুকাতে চাইল লিলি। কিন্তু কতটুকু পারলো। অনিমেষ কাছে এসে দু’হাতে মুখখানা ঘুরিয়ে কপালের সিঁথিতে একটা চুমু এঁকে দিতেই বাঁধ না মানা চোখের জল প্রবল স্রোতের ন্যায় উজানের দিকে গাল বেয়ে নেমে যেতে থাকলো। দু’জনের কেউ-ই কোন কথা বলল না খানিকক্ষণ। তবু বলা হলো অনেক কথা। অনিমেষের বুকে জমে থাকা অভিমানের বরফ গলে গিয়ে জল হল, অনিমেষের কাছে নিজেকে সমর্পণের শপথ দৃঢ় হলো লিলির। মূহুর্তেই কেউ কোন কথা না বলে কেউ নিজেকে সমর্পণ করে কেউ ক্ষমা করে একাত্মা হপ্যে গেল।

খানিকবাদে এককাপ চা হাতে ঘরে প্রবেশ করলো লিলির দাদা নির্মলের স্ত্রী। বাড়িয়ে দেওয়া পিরিচ থেকে চায়ের কাপটা নিতে নিতে একটা পরিচিত প্রবাদ তাকে আবৃত্তি করে শোনাল। প্রবাদের মর্মার্থ এই যে, সব মেয়েরাই মা আর সব মায়েরাই কোন না কোন পর্যায়ে এসে শ্বাশুড়ি। লিলির বৌদি অনিমেষের প্রবাদের কোন প্রতি-উত্তর করলো না। কেবল এগিয়ে এসে লিলির বাম হাতটা নিজের দু’হাতের মধ্যে নিয়ে বললো,”দাদা তো এসেছেন। এবার তো কিছু একটু মুখে দাও।”

অনিমেষ লিলির চোখে চেয়ে মাথাটা একবার নাড়িয়ে জানাল লিলির প্রতি তার কোন রকম অভিযোগ নেই। হাত বাড়িয়ে লিলিকে আলিঙ্গন করতেই যেন লিলির সুপ্ত রোদন উচ্ছ্বসিত হল। অনিমেষ সেখান থেকে কুড়িয়ে নিল এক আকাশ ভালবাসা।

Facebook Comment

You May Also Like