অরণ্যের দিনরাত্রি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাংলোর ঘরে (অরণ্যের দিনরাত্রি-৫) – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাংলোর ঘরে আলো জ্বলেনি, বারান্দাও অন্ধকার। সেই অন্ধকারেই রবি আর সঞ্জয় চুপ করে বসে আছে ইজিচেয়ারে। অসীম চেঁচিয়ে উঠলো, কি রে, তোরা অন্ধকারে ভূতের মতন বসে আছিস কেন? রবির গলা তখনো থমথমে,…

অরণ্যের দিনরাত্রি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রঙিন পাখির পালক (অরণ্যের দিনরাত্রি-৪) – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

একটা বিচিত্র রঙীন পাখির পালক উড়তে উড়তে এসে পড়লো অতসী ফুলগাছগুলোর ওপরে। সঞ্জয় এগিয়ে গিয়ে পালকটা কুড়িয়ে নিলো। কোন্ পাখির পালক সেটা দেখার জন্য চাইলো এদিক-ওদিক। পাখিটাকে দেখা গেল না। অন্যমনস্কভাবে সঞ্জয়…

অরণ্যের দিনরাত্রি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

শহরে যেতে (অরণ্যের দিনরাত্রি-৩) – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পরের দিনই ওদের অবশ্য একবার শহরে যেতে হলো। প্রথমদিন ঠাণ্ডা কুয়োর জলে স্নান করার পর সঞ্জয়ের একটু সর্দি লেগেছে—ওষুধ কেনা দরকার। নেশা করলে পরের দিন ভোরে অসীমের মাথা ধরে—তার অ্যাসপিরিন লাগবে। তা…

অরণ্যের দিনরাত্রি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঠিক যেন জঙ্গলের মতন নয় (অরণ্যের দিনরাত্রি-২) – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

জঙ্গল অথচ ঠিক জঙ্গলের মতন নয়। যতদূর দেখা যায়, ঘন গাছের সারি, কোথাও কোথাও ঘন পাতার আড়ালে নিবিড় ছায়া, কিন্তু যে-জঙ্গলে হিংস্র জন্তুজানোয়ার নেই, সেটাকে তো অরণ্য না বলে বাগান বললেও চলে।…

অরণ্যের দিনরাত্রি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ধলভূমগড় স্টেশনে (অরণ্যের দিনরাত্রি-১) – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সকালবেলা ধলভূমগড় স্টেশনে চারজন যুবক ট্রেন থেকে নামলো। ছোট্ট স্টেশন, সারা দিন-রাতে দু’তিনবার মাত্র সরব হয়ে ওঠে, বাকি সময়টা অলস ভাবে নিঝুম। আলাদা টিকিট কালেক্টার নেই, স্টেশনমাস্টার নিজেই ট্রেন থেকে নামা ছোট্ট…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

আকাশে নক্ষত্রের মেলা (নক্ষত্রের রাত-১৪) – হুমায়ূন আহমেদ

নো ড্রাফট দিস মানথ। লাস্ট মানথ ড্রাফট, স্টিল মিসিং। বিগ প্রবলেম। ভেরি ওরিড। . রেবেকা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দু দিন আগে। বরফে পা পিছলে বাঁ হাতের রেডিও আলনা এবংকলার বোন দুটোই ভেঙেছে।…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

চিঠি পেয়ে স্তম্ভিত (নক্ষত্রের রাত-১৩) – হুমায়ূন আহমেদ

মা রেবা, তোমার চিঠি পেয়ে স্তম্ভিত হয়েছি। কী করে তুমি এমন একটি ডিসিশান একা-একা নিতে পার? এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেবার আগে কারো সঙ্গে তুমি যোগাযোগরও প্রয়োজন মনে করলে না? হুট করে…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

বাড়ি বিশাল (নক্ষত্রের রাত-১২) – হুমায়ূন আহমেদ

প্রফেসর ওয়ারডিংটনের বাড়ি বিশাল। ছবিতে দেখা বাড়ির মতই কাঠের তৈরী, রেবেকা মুগ্ধ হয়ে গেল। ওয়ারডিংটন খুব উৎসাহের সঙ্গে রেবেকাকে সমস্ত বাড়ি দেখাতে লাগলেন– বুঝলে রেবেকা, আমি এবং আমার স্ত্রী–এই দুজনে মিলেই এই…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

টেলিগ্রাম আসবে (নক্ষত্রের রাত-১১) – হুমায়ূন আহমেদ

সে আশা করেছিল, টেলিগ্রাম আসবে। বড় ভাই টেলিগ্রামটিতে ড্রাফট এখনো না পাওয়ার ব্যাপারটি জানাবেন। টেলিগ্রামের ভাষা হবে–নো ড্রফট। সিরিয়াস প্রবলেম। এই জাতীয় টেলিগ্রাম তিনি আগেও করেছেন। তাঁর বড় মেয়ের এ্যাপেণ্ডিসাইটিস অপারেশন হল।…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

রেবেকার অভ্যেস (নক্ষত্রের রাত-১০) – হুমায়ূন আহমেদ

রেবেকার অভ্যেস হচ্ছে প্রতিদিন কম করে হলেও চার-পাঁচ বার মেইল-বক্স পরীক্ষা করা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে যখনই সময় পায় তখনই একতলায় চলে যায়। চৌষট্টি লেখা ছোট্ট খোপটি খোলে। এই সময় তার বুক কাঁপতে…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

দেশ থেকে আসা চিঠি (নক্ষত্রের রাত-৯) – হুমায়ূন আহমেদ

দেশ থেকে আসা কোনো চিঠিই পাশা দু বার পড়ে না। দু বার পড়ার মতো কিছু কোনো চিঠিতে থাকে না। পত্রলেখকের নাম পড়ে বলে দেওয়া যায়, কী লেখা আছে চিঠিতে। দেশের অবস্থা ভালো…

নক্ষত্রের রাত - হুমায়ূন আহমেদ

প্রফেসর ওয়ারাডিংটন (নক্ষত্রের রাত-৮) – হুমায়ূন আহমেদ

প্রফেসর ওয়ারাডিংটন বললেন, রেবেকা, লাঞ্চ-ব্রেকের সময় তুমি কি আমার ঘরে এক বার আসবে? ওয়ারডিংটনের মুখে মিটিমিটি হাসি। যেন রহস্যময় কোন ব্যাপার আছে তাঁর ঘরে। এক জন অপেক্ষা করবে তোমার জন্যে। কে? তা…