Friday, April 3, 2026
Homeরম্য গল্পমজার গল্পসত্যি সত্যি নাটক হবে (টং লিং -৩) – লীলা মজুমদার

সত্যি সত্যি নাটক হবে (টং লিং -৩) – লীলা মজুমদার

এতদিনে সবার মনে হতে লাগল যে শেষপর্যন্ত সত্যি সত্যি নাটক হবে। কারো মনে এখন আর কোনো ভাবনা নেই; শিশুপালের মতো শিশুপাল এসেছে, বর্ম-অস্ত্র পরালে কে চিনবে কালো-মাস্টারকে! তার ওপরে যখন সবচেয়ে ভালো কোঁকড়া চুলটা আর পাকানো গোঁফটা পরে সেজেগুঁজে লাইব্রেরি ঘরে রিহার্সালের পর এসে ছোটকার আর আমার সামনে দাঁড়াল, আমরা তো হাঁ! কী-একটা রাজা রাজা ভাব, কে বলবে সত্যিকার শিশুপাল নয়।

সত্যি কথা বলব? স্বয়ং বিশেও যে এর চেয়ে ভালো পার্ট করতে পারত এ আমার এখনও মনে হয় না। এর চেয়ে বেশি আর কী বলতে পারি? আর সে দাড়ি-গোঁফেরও তুলনা হয় না। ছোটকা বললেন, বিশু, আমার চৌত্রিশ বছর বয়স, তার মধ্যে কুড়ি বছর ধরে প্রত্যেক পুজোয় নাটক করেছি, নাটক দেখেছি, কিন্তু দাড়ি-গোঁফের এমন বাহার আমি কল্পনাও করতে পারিনি!

ইস, ছোটকা বেচারা যে এতটা বুড়ো তা আমি জানতাম না। এদিকে ফুর্তির চোটে সক্কলের। পার্ট মুখস্থ হয়ে গেল, ঝগড়াঝাটি বন্ধ হয়ে গেল। এমনকী বিভুদা আমাকে আর একদিনও মারেনি। অবিশ্যি সব সময় কালো-মাস্টার কাছে কাছে থাকত বলেও সেটা হতে পারে।

মহালয়ার দিন সকালে হঠাৎ মা আর নিমকি এসে হাজির। ভালো পড়তে পারুক না পারুক পুজোসংখ্যা দুটোকে দেখে নিমকি যে কী খুশি সে আর কী বলব? তাই শুনে কালো-মাস্টার বললে, তা হলে এবার ছোটকার কাছ থেকে সেই সাদা খরগোশ জোড়াও এনে ওকে দাও। দেখো, আরও কত খুশি হবে।

আরে, সাদা খরগোশের কথা যে ভুলেই গিয়েছিলাম। ছোটকা তখন আহ্লাদে ভরপুর, দুবার বলতে হল না, অমনি চিঠি লিখে দিলেন। সেই চিঠি হাতে করে, আমি নিজে গিয়ে খরগোশ দুটোকে নিয়ে এলাম। বড়োকাকা একটা খাঁচাও কিনে দিলেন। নিমকিটা এমনি বোকা, আমাকে বললে, ইস দাদা, তোমার মতো কেউ নাটক করতে পারে না। কী ভালো খরগোশ রে!

বলে খরগোশের গোঁফে হাত বুলোতে লাগল।

সে যাকগে, অন্যবারের মতো এবারও নাটক হল আমাদের বাড়ির মস্ত পুজোর দালানে। আজকাল আর পুজো-টুজো হয় না সেখানে, তবে ছোটকাদের ক্লাবের নানান ব্যাপার হয়। কী চমৎকার উঁচু স্টেজ বাঁধানো সেখানে। তার দু-পাশে পুজোর জিনিস রাখার ঘর দুটো বেশ আমাদের সাজের ঘর হল।

ড্রেস তো যে-যার নিজেরটা জোগাড় করবে। কালো-মাস্টারের, আমার, বিভুদার আর আমাদের বাড়ির অন্যান্য যারা নাটক করছিল, সক্কলের ড্রেস বড়োকাকা কলকাতার একটা বড়ো দোকান থেকে ভাড়া করে আনলেন। কালো-মাস্টারকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন, সে কিছুতেই গেল না। জিভ কেটে বললে, তাই কখনো হয়? সব যে আমার চেনাজানা, গেলেই হাতে হাতকড়া পড়বে।

বড়োকাকা অবাক হয়ে বললেন, সে কী বিশু, তুমি কি কোনো অন্যায় কাজ করে গা-ঢাকা দিয়ে আছ নাকি? তাহলে তো

বড়োকাকা আরও কী বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ছোটকা রেগে উঠলেন, বললেন, দেখো মেজদা, যা করেছে করেছে, নাটক শেষ হবার পর তুমিও যা হয় কোরো। এখন যদি টু শব্দটি কর তত ভালো হবে না বলে রাখলাম।

কালো-মাস্টার বললে, কী আর হবে? আমাকে ফাটকে দেবে আর ভোঁদাবাবু কাপ পাবেন। ইনি হয়তো তাই চান।

বড়োকাকা অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, কিন্তু চুরি-টুরি করেনি তো, বিশু?

 কালো-মাস্টার বললে, অন্যরা যা ইচ্ছে বলতে পারে, আমি ওকে চুরি বলি না। নিজের জিনিস কেউ কখনো চুরি করে?

বড়োকাকা বললেন, ওই তা হলেই হল, বিশু! এ নিয়ে আর আমি কিছু বলব না।

লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের রিহার্সাল চলতে লাগল। ওদিকে পুজোর সাত দিন আগে থেকেই অন্য যত সব প্রতিযোগিতার দলের নাটক শুরু হয়ে গেল। দশটা ক্লাব নাম লিখিয়েছিল। বড়োকাকা ব্যবস্থা করে এসেছেন, আমাদেরটা হবে সবার শেষে, নবমী পুজোর দিনে। তার আগের দিন ভোঁদারা কর্ণার্জুন করবে।

দল বেঁধে আমরা রোজ নাটক দেখতে যাই, শুধু কালো-মাস্টার যায় না। বলে, হাঃ, আর হাসাবেন না স্যার। সারাটা জীবন দেশের সেরা অভিনেতাদের সঙ্গে কারবার করে এলাম, আর এখন আমাকে রিসড়ে-শেওড়াফুলির বাহাদুরদের দেখাচ্ছেন। সে সময়টুকু বরং দাড়িটাড়িগুলোকে গুছোলে কাজে দেবে। ওগুলো জ্যান্ত জানোয়ারের মতো স্যার, রোজ ওদের চেহারা বদলায়।

গেল না কালো-মাস্টার। আমি তাতে নিশ্চিন্তই হলাম। সকলেই এত খুশি, এমন কী, কালো-মাস্টার নিজেও, আর শুধু আমারই কিনা বার বার মনে হত, ওকে বিশে বলে চালানোটা বোধ হয় ঠিক হল না। অথচ তা না করলে নাটকও হত না, চালিয়ে করিই-বা কী? ও তো আর নিজের নামে অভিনয় করবে না। নিজের কথা কিছু বলতেই চায় না।

বাবা এলেন সপ্তমীর আগের দিন সন্ধ্যেবেলায়। আমরা তেজারতি ক্লাবের কংসবধ দেখে ফিরে এসে দেখি হাঁড়িমুখ করে বাইরের ঘরে বসে আছেন। বড়োকাকাকে দেখেই জ্বলে উঠলেন, তুইও যদি ওদের দলে গিয়ে জুটি শম্ভ, তবে আর ওদের কী বলব। গলার বোতাম লাগাও, চাঁদ!–এসে দেখি বাড়িতে একটা লোক নেই, শূন্য পুরী খাঁ-খাঁ কচ্ছে, বামুনদিদি পর্যন্ত বিকেলে রাঁধাবাড়া সেরে থিয়েটার দেখতে গেছে! বলি, তোদের পাড়ার চোরগুলোরও নিশ্চয় থিয়েটার দেখার শখ আছে, নইলে বাড়ির বেবাক জিনিস পাচার হয়ে যায়নি কেন? তবু ওই খেমো চেহারার চাকরটা ছিল, সে-ই আমাকে চা-টোস্ট খাওয়াল। নইলে পৈতৃক বাড়িতে, পুজোর আগের দিন বাবুরা সব যা অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন!– বিকেলে দুধ খেয়েছিলে, চঁদ?– চাকরটা বলল, রোজই নাকি এইরকম হয়। নাঃ, চঁদটার আর কিছু হবে না বুঝতে পারছি, রোজ কলিভার অয়েলটা খাচ্ছিস তো?–যা ইচ্ছে করোগে তোমরা, তবু দে দয়া করে চাকরটাকে রেখে গেছিলে সেইজন্যে আমি কৃতজ্ঞ। যদিও বেটার চেহারাটা স্রেফ চোরের মতো!

আমরা এ-ওর মুখের দিকে চাইলাম। চাকরটা বলতে যে কালো-মাস্টার ছাড়া আর কেউ নয়, এ আমাদের বুঝতে বাকি রইল না। একটু হাসিও পাচ্ছিল এই ভেবে যে এখন যাকে চোর চোর করছেন, একবার তার শিশুপালের সাজ দেখলে তাক লেগে যাবে না!

এদিকে বাবা এসেই আমার রাতে নাটক দেখা বন্ধ করে দিলেন। পাছে নবমীর দিন আমার নাটক করাও বন্ধ করে দেন, সেই ভয়ে কোনো আপত্তি করলাম না। আমি যাব না শুনে নিমকি খুব খানিকটা কেঁদে নিল। শেষটা মা-ও গেলেন না, নিমকিও গেল না। আমাদের তাই ভোঁদার দলের কর্ণার্জুন দেখা হল না। রাতে ফিরে এসে খেতে বসে ছোটকারা খুব হাসাহাসি করতে লাগলেন। নাকি ভালো দাড়ি-গোঁফ পায়নি, সৈনিকদের সব আঁকা দাড়ি, ঘামে গলে চটচট করছিল। গোড়ায় দাড়ি-গোঁফের নাকি কী ব্যবস্থা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে ঝগড়াঝাটি হয়ে সব ভেস্তে গেছিল। ছোটকা বললেন, সহজে বলতে কী চায় ওরা? বুঝলে বিশু, তবু আঁচে জানলাম সিনেমার ওই ভবেশ রায় যে কর্ণ সাজল– কী ছিরির অভিনয় আর, বলিহারি!– ও-ই শেষ মুহূর্তে কোত্থেকে একটা লোক ধরে এনেছিল, সে-ই সবাইকে সাজিয়েছে। নিয়েওছে নাকি দু-শো টাকা, এখন সে টাকা কোত্থেকে আসে তার ঠিক নেই।

কালো-মাস্টার ব্যস্ত হয়ে বললে, কী নামটা লোকটার বললেন? দু-শো টাকা নিয়েছে? বেশি নিয়েছে। দেওয়া উচিত হয়নি। আমাদের

বাবা চমকে গিয়ে ছোটকাকে বললেন, ও কে বটু? ওই তো আমাকে চা খাওয়াল।

বড়োকাকা বললেন, ও আমাদের বিশু, চাঁদের বন্ধু। শিশুপালের বাবা তার কান ধরে টেনে নিয়ে যাবার পর বটুরা তো কেঁদে ভাসাতে লাগল, তখন চাঁদ গিয়ে ওর বন্ধু বিশুকে ধরে নিয়ে এল। তাই তো আমরা বেঁচে গেলাম।

বাবা বললেন, ও। বলে অনেকক্ষণ আমার দিকে চেয়ে থাকলেন। আমিও অমন ভালো পায়েসটাকে না খেয়েই গুটিগুটি কেটে পড়লাম আমার শোবার ঘরের দিকে। সেখানে নিমকি খরগোশের খাঁচা মাথার কাছে রেখে দিব্যি ঘুমোচ্ছে। ওর কী মজা! ওর জীবনে কোনো ভাবনা চিন্তা নেই।

সসস

চমকে ফিরে দেখি খিড়কির বাগানে দাঁড়িয়ে কালো-মাস্টার আমাকে জানালা দিয়ে ডাকছে। আস্তে আস্তে গিয়ে বললাম, কী?

কালো-মাস্টার বললে, মাপ দ্যান কত্তা, আমার জন্যে আপনাকে কতই-না ঝঞ্ঝাট পোয়াতে হচ্ছে। আর তো কালকের দিনটি, কাল তোমাদের কাপ পাইয়ে দিয়ে হাওয়া হয়ে যাব, আর বিরক্ত করব না। আর দেখো কত্তা, পরে যদি কেউ কিছু বলে কালো-মাস্টারের নামে, কিছু বিশ্বাস কোরো না। আর তোমার বন্ধু বিশের কাছে আমার হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়ো।

কান্না পেতে লাগল, গলার কাছটাতে ব্যথা করতে লাগল। এত সব হাঙ্গামার মধ্যে বিশের কথা মনেও ছিল না। বললাম, ও কালো-মাস্টার, আর গেছিলে পেরিস্তানে? আমি যে যেতে পারি না, নিমকি আমাকে ছাড়েও না, আবার পাঁচিলে চড়তেও ভয় পায়।

কালো-মাস্টার জিভ কেটে বললে, পাগল! বিশের আর সিংহের পায়ের ছাপ দেখেছি, আর কি আমি যাই সেখানে? তার নামে চরে বেড়াচ্ছি। এখন কালকের দিনটা ভালোয় ভালোয় কাটলে বাঁচা যায়। তার একেবারে কঞ্জুর হয়ে যাব, এ এলাকায় কেউ আমার টিকিটি দেখতে পাবে না- ও কী কত্তা, তোমার চোখ দিয়ে জল পড়ছে নাকি?

চোখ মুছে বললাম,

–ধেৎ! অম্বলটা বড্ড ঝাল ছিল কিনা! কিন্তু ও বিশের আর সিংহের পায়ের ছাপ নয়, কালো-মাস্টার, আর কেউ এসেছিল।

–সে আবার কী, কত্তা? কী করে জানলে তুমি?

আমি খালি বললাম, সে আমি জানি, কালো-মাস্টার। তাদের আসা সম্ভব নয়।

কালো-মাস্টার চলে যাবার অনেকক্ষণ পর মা শুতে এসে আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, বা রে, এই এক মাসে তুই তো দিব্যি বড়োসড়ো হয়ে উঠেছিস চাঁদ! হাত-পাগুলো কী শক্ত রে বাবা! আর দেখ চাঁদ, তোর বাবা বলছিলেন কি ওই রকম আজেবাজে বয়সে-বড়ো লোকদের সঙ্গে ভাব করিস নে আর, তুই এখনও ছোটো ছেলে–

আমি বললাম, না মা, নিমকি ছোটো ছেলে, আমার এগারো বছর কবে পূর্ণ হয়ে গেছে। বিশেরা– ওই অবধি বলে থেমে গেলাম।

মা বললেন, সেই কথাই তো বলছি, ওই বিশুটির বয়স কম করে ধরলেও ত্রিশ-পঁয়ত্রিশের কম নয়–।

আমি বললাম, কী যে বল মা, ও তো পঁচিশ বছর ধরে থিয়েটারেই কাজ কচ্ছে, বেশ বুড়ো আছে। তা ছাড়া

মা বললেন, তা ছাড়া কী? থামলি যে বড়ো?

কী আর করি, ও যে বিশে নয়, আমি মিথ্যে করে ওকে বিশে বলে চালাচ্ছি, একথা মাকে কী করে বলি? তাই হাই তুলে বললাম, এখন আমার ঘুম পাচ্ছে, মা।

মা আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আলো নিবিয়ে চলে গেলেন। কী যে খারাপ লাগছিল। কালকের দিনটা কেটে গেলেই বাঁচি।

কালকের কথা মনে পড়তেই আবার উঠে বসলাম, কাল আমাদের কাপ পাইয়ে দিয়েই কালো-মাস্টার কঞ্জুর হয়ে যাবে, আর এ-এলাকায় তার টিকিটি দেখা যাবে না।

পরদিন বললামও কালো-মাস্টারকে, তুমি কলকাতায় আমাদের বাড়িতে এসো, কেমন? আমার ডাকটিকিটের খাতা তোমাকে দেখাব।

কালো-মাস্টার জিভ কেটে বললে, কী যে বল কত্তা, তোমার একটা কাণ্ডজ্ঞান নেই। আজ রাতে তোমাদের নাটককে কাপ পাইয়ে দিয়ে বেমালুম ডুব দেব। কোনো ডালকুত্তাও আর আমাকে শুকে শুকে বের করতে পারবে না। ও কী, নাক দিয়ে জল পড়ছে কেন, কত্তা? কেমন তোমার পেরিস্তানে আবার যাবে, সেখানে তোমার বন্ধু বিশে আসবে, সিংহ আসবে– আমি জলের বোতলে আবার জল ভরে রেখেছি; খালি টিনে মুড়ি, ডালমুট, কুচো নিমকি ভরেছি, বিশেদের খেতে দিয়ো; একটা শিশিতে কিছু মুড়ি-ল্যাবেঞ্চশও রেখে এসেছি, খেয়ো তোমরা।

আমি বললাম, সে কী, তুমি আবার গেলে কী করে? নালা টপকাতে তো তোমার ভয় করে, অথচ তোমাকে বিশে বলে চালাচ্ছি! বিশেদের দেশে কী গভীর সমস্ত

থেমে গেলাম। কালো-মাস্টার বললে, বেশ তো, কাল থেকে আমি গায়েব হয়ে যাব, তোমার সাহসী বিশেকে নিয়ে থেকো তুমি। আচ্ছা এতই যদি ভালো তোমার বিশে, তাহলে বাড়ির লোকদের সঙ্গে চেনা করিয়ে দাওনি কেন শুনি?

আমি বললাম, কে ভালো কে খারাপ সে তুমি বুঝবে না। যে-ই তোমাকে ভালো খাবার খাওয়ায় তুমি তো তাকেই ভালো বল। বিশে আমাদের বাড়ির লোকদের ঘেন্না করে বলেছি-না তোমাকে। ভালো খাবারে সে ভোলে না।

আর বেশি কথা হল না। ড্রেস-রিহার্সালের জন্য সব লোকেরা এসে পড়ল। অবিশ্যি ড্রেস-রিহার্সালে বিশে ছাড়া আর কেউ ড্রেস পরল না– ওমা, কাকে আমি বিশে বলছি, কালো-মাস্টারকে সবাই সারাক্ষণ এমন বিশু-বিশু করে যে আমার সুষ্ঠু ভুল হয়ে যাচ্ছে। অথচ কীসে আর কীসে! যাই হোক, দুপুরে শেষ রিহার্সাল হয়ে গেল, তারপর যে-যার সাজপোশাক গুছিয়ে রাখল। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে বিভুদাও গড়গড় করে পার্ট বলতে লাগল! আর বাবা পর্যন্ত বললেন, তা মন্দ কচ্ছে না বটুরা। সমরেশ কি সত্যিই পাঁচশো টাকা দিচ্ছে নাকি?

বড়োকাকা বললেন, না দিলে তো আমাদের বাবুরা চোখে সর্ষেফুল দেখবেন, কান অবধি সব দেনায় ডুব রয়েছেন! বটুকে কান্তা কেবিনের পথ দিয়ে হাঁটা বন্ধ করতে হয়েছে, ধারে আর ক দিন চালানো যায়!

কালো-মাস্টারও বললে, আপনারা ভাববেন না, স্যার, আমরা মেরে বেরিয়ে যাব। নইলে আমার নাম কা– উঃ! চিমটি কাটছ কেন চাঁদ?

আমি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললাম, কোথায় চিমটি কাটলাম! চেয়ারের ফাঁকে তোমার ওখানটা চিপকে গিয়েছে বোধ হয়।

পরে বললাম, আচ্ছা, তোমার কি এত দিনেও একটু আক্কেল-বুদ্ধি হল না, আর-একটু হলেই তো সব ফেঁসে যাচ্ছিল। আমি ভুলে যাই যে তুমি সত্যিকার বিশে নও, আর তুমি ভুলতে পার না?

কাছেপিঠে তখন কেউ ছিল না, কালো-মাস্টার চট করে আমাকে একটা প্রণাম ঠুকে বললে, আহা, তাই যেন হয়, স্টেজে উঠে সবাই যেন তাই ভাবে। একটা কথা ছিল, কত্তা, অভয় দাও তো বলি।

বললাম, কী কথা বলো।

 সে বললে, কাপ তোমরা পাবে ঠিকই, সমরেশবাবুও তোমার বড়োকাকার হাতে পাঁচ-শো টাকা খুশি হয়ে দিয়ে দেবে। সব হবে, কিন্তু সন্ধ্যেটা নির্বিঘ্নে কাটবে বলে মনে হয় না। তোমার বড়োকাকাকে একটু ডাকো দিকিনি, দুটো দরকারি কথা আছে।

ডাকলাম বড়োকাকাকে, লাইব্রেরি ঘরের একটা ফালি বারান্দা, সেখান থেকে গঙ্গা দেখা যায়, সেইখানে নিরিবিলি গিয়ে আমরা বসলাম। কালো-মাস্টার বললে, স্যার, সন্ধ্যে বেলায় কয়েকটা ষণ্ডা-গোছের ভলেন্টিয়ার রাখবেন, যে-ই গোলমাল করবে তাকেই যেন বাইরে নিয়ে যায়। আর অচেনা অজানা বাজে লোকদের খবরদার ঢুকতে যেন না দেয় আমার অনেক শত্রুর স্যার, নাটক পণ্ড করে দিতে পারলে তারা ছাড়বে না। হ্যাঁ, তবে আমার বন্ধু স্যান্ডোকে বারোটা টিকিট দিয়েছি, তারা বারো জন আসবে। কোনো ভয় নেই স্যার, তাদের কতক কতক বলে রেখেছি, কেউ গোল করলেই তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে বাইরে নিয়ে যাবে কিছু বললেন?

বড়োকাকা বললেন, কাজটা কি খুব ভালো হবে, বিশু? সবাই আমাদের নিমন্ত্রিত অতিথি, একটু যদি গোলমালও করে– এই যেমন কাল বটুরা কতবার শেম শেম বলে চেঁচিয়ে এল ভোঁদাদের অভিনয় দেখতে গিয়ে।

কালো-মাস্টার হেসে ফেলল, ও-রকম গোলমালের কথা বলছি না, স্যার, আজকের অভিনয় দেখে অমন কথা কারো বলতে ইচ্ছেই করবে না। আমি বলছিলাম, আমার শত্তুররা যদি আমার নাটক করা বন্ধ করে দিতে চায়– ধরুন আপনাদের কাছেই যদি মিছে কথা লাগিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়–

বড়োকাকা বললেন, সে আমরা দেব কেন? সবই যখন শুনলাম, তখন বিভুর দলকে ডেকে ওদের ছাতুপেটা করে দেব-না– তোমার কোনো ভয় নেই, বিশু। আরে, চাঁদ দিনরাত তোমাদের সাহসের আর গুন্ডাপনার গল্প করে করে আমাদের কানের পোকা নড়িয়ে দেয়, তুমি এখন ভয় খেলে চলবে কেন? চলো, আর খুব বেশি সময়ও নেই, সাজপোশাক শুরু কত্তে হয়।

কালো-মাস্টার বললে, কিন্তু যদি পুলিশ আসে? ওরা ধরুন পুলিশের কান ভাঙিয়ে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে এল? কিংবা নিজেরাই ধরুন পুলিশ সেজে এল? থিয়েটার-করা লোক সব, চেনবার জো থাকবে না!

বড়োকাকা এবার ঘাবড়ে গেলেন। বললেন, তা হলে কী হবে, বিশু?

কালো-মাস্টার হাসল, আরে, এতটুকুতেই মুষড়ে পড়লেন? আপনাকে কিছু ভাবতে হবে না, শুধু গেটের ভলেন্টিয়ারদের বলবেন যে অচেনা লোকদের ঢুকতে দেবে না। আমার বন্ধু স্যান্ডোর দল একটা করে গাদাফুল কানে গুঁজে আসবে, তাই দেখে তাদের চিনবে। তা ছাড়া কিন্তু পুলিশ এলেও বাইরে বসিয়ে রাখবে নাটক না ভাঙা পর্যন্ত। তারপর নাটক ভাঙলে পর, আপনাদের কাপ পাওয়ার কথা সবাই শুনলে পর, স্বচ্ছন্দে আমাকে যার খুশি ধরে নিয়ে যেতে। পারে। অবিশ্যি যদি আমার নাগাল পায়।

এই বলে কালো-মাস্টার উঠে পড়ে সাজগোজের ব্যবস্থা করতে গেল।

১২.

আমাদের ওই নাটকের বিষয় বেলুড় বালি থেকে হুগলি উঁচড়ো বদ্যিবাটি পর্যন্ত লোকরা আজও গল্প করে। এমন নাটক কেউ দেখেনি। যেমনি তার সাজসজ্জা, তেমনি অভিনয়ের বাহাদুরি। আজও লোকে বলে সবচেয়ে ভালো অভিনয় করেছিল বিশ্বনাথ বলে লোকটা, যদিও তার সত্যিকার পরিচয় এখন রহস্যে ছড়ানো। সব বলছি।

চমৎকার করে স্টেজ সাজানো, পেছনে গঙ্গার কুলকুল কলকল শব্দও শোনা যাচ্ছে না, পাপা পোঁপো করে এমনি ভালো বাজনা বাজছে। তা আর বাজবে না! দি গ্রেট গ্যাঞ্জেস কত্সার্ট পার্টি যে বড়োকাকিমার মাসতুতো ভাইয়ের নিজের দল।

দেয়ালে সব গাদাফুলের তোড়া ঝোলানো হয়েছিল, তাতে বিভুদাদের দলের পাণ্ডা সুকুমার নিজের হাতে পিচকিরি দিয়ে গোলাপজল ছিটিয়ে দিয়েছিল, চারদিক গন্ধে ভুরভুর করছিল। আমি একবার পর্দা ফাঁক করে উঁকি মেরে দেখি বাবা! শুধু মাথা– গুনগুন করে সব কথা বলছে, মৌচাকের মতো শব্দ হচ্ছে। একটু পেট ব্যথা করতে আরম্ভ করে দিয়েছিল, অতগুলো লোকের সামনে দ্বিতীয় সৈনিক সেজে আমি ধপ করে পড়ে মরি কী করে! ভাবছিলাম ওরই মধ্যে কোথাও স্যান্ডো আর তার বন্ধুরা বারোজন কানে গাদাফুল গুঁজে বসে আছে, বিশের শত্তুররা এতটুকু ট্যা-ফু করলেই তাদের টুটি চেপে ধরবে।

তারপরেই কোথায় একটা ঘণ্টা বাজতে লাগল, আমার তো হাত-পা ঠান্ডা! বারে বারে বিশের মানে কালো-মাস্টারের মুখের দিকে তাকিয়ে সাহস পেতে চেষ্টা করলাম। তা ওকেও কি চেনবার জো ছিল! আমাদের সবাইকে সাজিয়েছে কলকাতা থেকে আনা সেই কোম্পানির লোকেরা, শুধু কালো-মাস্টার নিজে সেজেছে।

কী চমৎকার দেখাচ্ছিল ওকে! রং মেখে ফর্সা ধবধব করছে, লালচে দাড়ি-গোঁফ চুল পরেছে, যেখানে-সেখানে গয়না জুলজুল করছে, ভুরু দুটোকে সোজা করে টেনে মাঝখানে জুড়ে দিয়েছে, চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে; মাথার ওপর মণিমাণিক্য-দেওয়া পাগড়ি পরে এই এতখানি উঁচু দেখাচ্ছে; গায়ে মখমলের সাজ, হাতে একটা গোলাপ ফুল। সত্যিকার রাজা দেখেছিলাম একবার, কালো কোটপ্যান্ট পরা, সে এর কাছে দাঁড়াতেও পারত না। কানের পেছনে একটু আতর মেখে নিয়ে এক্ষুনি বধ হতে যাবে, বীর আর কাকে বলে!

আমরা যে অভিনয় করছি ভুলে গেলাম। মনে হল সত্যি সত্যি পঞ্চপাণ্ডব এসেছেন, ওই বুঝি শ্রীকৃষ্ণ– তবে শ্রীকৃষ্ণের হাতের গয়নাগুলো বড্ড কেটে বসেছিল, সাজের বাবুরা তাই নিয়ে হাসাহাসি করছিল, কেষ্টঠাকুরের গতর কত! ব্রজেনদা মনে মনে রেগে টং।

শেষ দৃশ্যে শিশুপালের অভিনয় দেখে সবাই কেঁদে ভাসিয়ে দিচ্ছিল, তারই মধ্যে একটা চাপা শোরগোল শোনা গেল– চুপ চুপ শব্দ, খুব নড়াচড়া, কারা যেন বেরিয়েও গেল। সব যখন শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমার পর্যন্ত কান্না পাচ্ছে, হঠাৎ অবাক হয়ে দেখি, দু-দিকে চেয়ারের সারি, মাঝখানে যাবার রাস্তা, তারই মধ্যে হাঁপাতে হাঁপাতে ভোঁদা চেঁচাচ্ছে আর বড়োকাকা, ছোটকা আরো দশ-বারোজন বড়োরা ওকে ধরে, একরকম ঠেলতে ঠেলতে দরজার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্য লোকেরা সবাই মিলে বলছে সসস, তারই মাঝখানে শিশুপাল মরে গেল, স্ক্রিন পড়ে গেল। আর সে কী আকাশ-ফাটানো হাততালি!

হাততালির মাঝখানে আর-একবার স্ক্রিন উঠল, আর সমরেশবাবু ছুটে এসে, খচমচ করে স্টেজে চড়ে, মাইকের কাছে গিয়ে চিৎকার করে বললেন, শিশুপাল-বধকেই আমরা পাঁচ-শা টাকা পুরস্কার দিলাম, আর শিশুপালকে বিশেষ পুরস্কার দেড় ভরি সুবর্ণপদক।

শিশুপালও ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে, সমরেশবাবু অমনি তাকে বুকে জাপটে ধরেছেন, সঙ্গেসঙ্গে ধন্য ধন্য রব আর আবার স্ক্রিন পড়ে যাওয়া!

এতক্ষণ স্টেজেই এত আনন্দ-কোলাহল হচ্ছিল যে বাইরের কথা কারো মনে ছিল না। এবার চারদিক থেকে কিলবিল করে লোকেরা সব স্টেজে উঠতে লাগল। বড়োকাকা, ছোটকা, ভোঁদা, সেই চিত্রতারকা ভবেশ রায়, আর ওদের দলের আরও কত কে। কী রাগ সবার!

বড়কাকা বললেন, চাঁদ!  

শুনে আমি থ! আমরা জিতেছি, কাপ পেয়েছি, তবে এরা এত গম্ভীর কেন! আর শুধু গম্ভীর কী বলছি, ভোঁদারা তো রেগে থরথর করে কাঁপছে।

বড়োকাকা বললেন, দাঁড়াও, কেউ যেয়ো না। ভবেশবাবু, দাড়ি-গোঁফ চিনে নিন। এগুলোই কি আপনাদের? একটু ভেবে বলবেন।

ভবেশ রায় গেল ঘাবড়ে, এর দাড়িতে হাত দেয়, ওর চুল দেখে, মুখটা কাচুমাচু, বললে, না, মানে দাড়ি-গোঁফ কি আর সে রকম চেনা যায়? সব সময়ই ওদের চেহারা বদলায়!

দারুণ চমকে উঠলাম, এ যে কালো-মাস্টারেরই কথা! কিন্তু কালো-মাস্টার কই? এক্ষুনি যেখানে ছিল এখন তো আর সেখানে নেই!

ছোটকা বললেন, বিশে কোথায়, চাঁদ? সে নাকি এদের দাড়ি-গোঁফ চুরি করে পালিয়ে এসেছে?

আমি ভয়ংকর রেগে গেলাম, হাত-পা ছুঁড়ে বললাম, না, না, না, ও কক্ষনো চোর না! বড়োকাকা বললেন, জিনিসই নেয়নি. তো চোর কীসের? আপনাদের দাড়ি-গোঁফ ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

ভোঁদা বললে, কিন্তু কিন্তু তাহলে তোমরা কাপ পাও কী করে? ও সাজ তো আমাদের!

সমরেশবাবু বললেন, আহা, কী জ্বালা, সাজের জন্যে তো আর কাপ দেওয়া নয়! অভিনয় কত্তে হয় তো এরাই করেছে। কিন্তু মশায়, ব্যাপারটা একটু খুলে বলুন তো, কিছুই যে বুঝলাম না।

ভোঁদা বললে, কী আবার ব্যাপার? ভবেশ ওকে আনল, বললে আমাদের থিয়েটারের মেকাপম্যান, নাম কালো-মাস্টার, এত ভালো সাজাতে কেউ পারে না; তা সে বেটা একদিন রিহার্সাল দেখেই বলে, আমাকে কর্ণ সাজাও, ভবুবাবু কিছু পারছে না! ব্যস্, ওই ওর এক কথা! এদিকে ভবেশ করছে কর্ণ, যা-তা একটা বললেই তো আর হল না! তখন কালো-মাস্টার করল কী, স্রেফ দাড়ি-গোঁফ নিয়ে কেটে পড়ল। কোম্পানিকে টাকা দেওয়া হয়ে গেছে, আর আমাদের টাকা কোথায় যে আবার দাড়ি-গোঁফ ভাড়া করব? বলুন দেখি, কী অন্যায়! আবার আমাকে হল থেকে ঠেলে বের করে দেওয়া হয়েছে!

কখন বাবাও এসে স্টেজে উঠেছেন আমি দেখিনি। আমার দিকে ফিরে বাজের মতো গলায় বললেন, চাঁদ কোথায় পেলে ওকে? সে যা-ই হোকগে, ওকে এখন ধরা হোক, হাজতে পোরা হোক। কিন্তু কোথায় ওর সঙ্গে আলাপ হল, হতভাগা?

আর কি আমি সেখানে থাকি! এক নিমেষে একেবারে হাওয়া। পেছনে শুনলাম একটা হই-হই ধর-ধর শব্দ, তারপরেই পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে, পাঁচিলে চড়ে সরু ফাঁক দিয়ে গলে, নালা ডিঙিয়ে একেবারে পেরিস্তানে!

বুকটা ঢিপঢিপ করছিল। এমন সময় শুনলাম টং লিং টং লিং–টং লিং করে পুলের ওপর দিয়ে মালগাড়ি যাচ্ছে, স্যান্ডো বেরিয়ে এসে সবুজ নিশান নাড়ছে, আর সঙ্গেসঙ্গে ওরই ঘরের ছাদ থেকে গেঞ্জি-পরা কালো একটা লোক মালগাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত নাড়তে নাড়তে চলে গেল। উঃ, আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম!

এতক্ষণে খেয়াল হল আমি একা নই, আমার সামনে আমার সমান বয়সের একটা ছেলে আর তার চেয়ে একটু ছোটো একটা মেয়ে আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। আর একটা পোড়া হাঁড়ির মতো মুখওয়ালা লেজকাটা কুকুর আমার পায়ের গোড়ালি শুকছে।

ছেলেটা বলল, আমরা পাশের গুদোম-বাড়িতে থাকি, ওই নালা পার হয়ে এসেছি। আমার নাম কালো, ও আমার বোন আলো। আর কুকুরটার নাম বাঘা। আমরা মাঝে মাঝে এখানে আসি, ভারি ভালো লাগে এ জায়গাটা– তুমি রাগ করবে না তো?

আমি বললাম, না, মোটেই রাগ করব না, এখন থেকে তোমরা আমার বন্ধু। আমার বড়ো বন্ধুর দরকার। এক্ষুনি আমাকে ধরবার জন্য লোকরা আসবে, তোমরা ভয় পাবে না তো?

তারা বললে, মোটেই না, আমরা তোমার দলে থাকব! তোমাকে সাহায্য করব।

এবার আসুক ওরা, ধরুক আমাকে! একটুও ভয় পাব না। বলব, কালো-মাস্টার চোর নয়, দেখে আসতে পার, সঙ্গে কিছু নেয়নি, সাজের ঘরে গয়না-পোশাক ছেড়ে রেখে গেছে। তার সুবর্ণপদকও নেয়নি, ওটা বিক্রি করে, ভোঁদারা কোম্পানিকে দাড়ি-গোঁফের জন্য যে টাকা দিয়েছিল সেটা পুরিয়ে দাও, ব্যস্, চুকে গেল! হাঁ করে দেখছ কী? তাকে পাচ্ছ না, সে চলে গেছে!

তখন বিভুদা হয়তো বলবে, আর তোর বন্ধু বিশে, সে কোথায়? তার সিংহ কুকুর কোথায়? বলে আমার মাথায় গাঁট্টা মারতে চেষ্টা করবে।

আমিও তখন ওর হাত ধরে মুচকে দিয়ে বলব, তাকেও ধরতে পারবে না। সেও নেই, সিংহও নেই, ছিলও না কোনদিন। আমি তাদের বানিয়েছিলাম। আমার গায়ে জোর ছিল না, আমার বন্ধু ছিল না, ভয় লাগত, একলা লাগত, তাই তাদের বানিয়েছিলাম। এখন আমার গায়ে জোর কত; আমার সত্যিকার বন্ধু হয়েছে, আর বিশেরা আসবে না। আরে, বিশে বলে কেউ আছে নাকি যে তাকে ধরবে? ভেবেও হাসি পাচ্ছে!

(সমাপ্ত)

Anuprerona
Anupreronahttps://www.anuperona.com
Read your favourite literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


Most Popular

Recent Comments

প্রদীপ কুমার বিশ্বাস on পরীক্ষা – হুমায়ূন আহমেদ
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • toto togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • desabet
  • desabet
  • rejekibetapk77.online -hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • bandar togel
  • slot gacor
  • judi bola
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot 5k
  • slot depo 5k
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • toto
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • hongkong pools
  • depo 5k
  • toto
  • situs toto
  • situs toto
  • situs togel
  • situs togel
  • hk pools
  • situs toto
  • situs togel
  • bandar togel
  • slot gacor
  • bandar togel
  • desabet
  • toto togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto slot
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4d
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto slot
  • toto slot
  • slot gacor
  • judi bola
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4D
  • kudamania
  • rejekibet
  • situs togel
  • slot gacor
  • toto togel
  • Slot Gacor Hari Ini
  • toto togel
  • kudamania
  • slot gacor
  • toto togel
  • slot dana
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot resmi
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • kudahoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • judi bola
  • judi bola
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • situs togel
  • toto slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • situs togel
  • bandar togel
  • situs togel
  • slot resmi