Tuesday, March 31, 2026
Homeথ্রিলার গল্পসায়েন্স ফিকশনশিকারি - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

শিকারি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

শিকারি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সানি ডাইনিং টেবিলে বসে ট্রনকে বলল, ‘আমাকে এক কাপ গরম কফি দাও। কুইক।’

ট্রন সানির কাজকর্মে সাহায্য করার জন্য সদ্য কিনে আনা একটা গৃহস্থালি রোবট। সে বলল, ‘গরম কথাটি খুবই আপেক্ষিক। কারও কারও কাছে মনে হয় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হচ্ছে গরম। কেউ কেউ মনে করে, ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হচ্ছে গরম। কাজেই আপনার সুনির্দিষ্টভাবে বলা উচিত আপনি কত তাপমাত্রার গরম কফি চান।’

সানি খেঁকিয়ে উঠে বলল, ‘ব্যাটা বুদ্ধু কোত্থাকার। সোজা জিনিসটাও তোমার ঘিলুতে ঢোকানো যায় না।’

‘আপনি কয়েকটা শব্দ ব্যবহার করেছেন যাদের মাঝে কোনো সমন্বয় নেই। আপনি ব্যাটা শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমার ডিকশনারিতে ব্যাটা শব্দের অর্থ পুরুষ মানুষ। অথচ আমি পুরুষ বা মহিলা কিছু নই। আমি একটি রোবট, আপনি ঘিলু শব্দটা ব্যবহার করেছেন কিন্তু একটা বাচ্চাও জানে, রোবটের ঘিলু থাকে না। তাদের থাকে কপোট্রন।’

সানি মাথা ধরে বলল, ‘চোপ! চুপ করে আমি যা বলছি তা-ই করো। এক কাপ গরম কফি।’
‘তাপমাত্রা?’

সানি মুখ ভেংচে বলল, ‘৮০ দশমিক ৩৭। এবারে হয়েছে?’
ট্রন টিটকারিটুকু বুঝতে পারল না। শান্তভাবে বলল, ‘হয়েছে। আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।’

চোখের পলকে ট্রন এক কাপ গরম কফি নিয়ে এল। সানি সেই কফির মগ হাতে নিয়ে যখন চুমুক দেবে, ঠিক তখন ট্রন কফির মগটা ছিনিয়ে নিয়ে গেল। সানি বলল, ‘সেকি! সেকি! কী করছ তুমি?’
‘তাপমাত্রা ৮০ দশমিক ৩৭ থেকে কমে ৩৬ হয়ে গেছে।’

সানি চিত্কার করে বলল, ‘হয়েছে তো হয়েছে। আমি সেটাই খাব। কফির মগটা এক্ষুনি নিয়ে এসো আমার কাছে।’

ট্রন বলল, ‘আপনি বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছেন। একবার বলছেন তাপমাত্রা দরকার ৮০ দশমিক ৩৭, আবার বলছেন ৮০ দশমিক ৩৬-তেই কাজ চলে যাবে।
সানি অনেক কষ্ট করে নিজেকে শান্ত করে বলল, ‘ট্রন, তুমি আমার সামনে দাঁড়াও। আমি তোমাকে কয়েকটা কথা বলি।’
ট্রন সামনে এসে দাঁড়াল। বলল, ‘বলেন।’

‘তোমাকে কয়েকটা জিনিস বলি, তুমি সেটা মন দিয়ে শোনো এবং মনে রেখো, ঠিক আছে?’
‘আমাদের ইলেকট্রনিক মেমোরি। আমরা মানুষের মতো নই। আমরা কিছু ভুলি না।’

‘গুড। তোমাদের তৈরি করা হয়েছে মানুষকে সাহায্য করার জন্য। কাজেই তোমাদের মানুষের চরিত্র বুঝতে হবে। মানুষ সিদ্ধান্তহীনতা পছন্দ করে না। মানুষ সব সময় সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তার মাঝে খুঁটিনাটি পছন্দ করে না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চায়।’
‘বুঝেছি।’

‘যেমন আমি বলেছি তোমাকে এক কাপ গরম কফি দেওয়ার জন্য। এখন তুমি যদি গরম শব্দটার ব্যাখ্যা নিয়েই দিন পার করে দাও, তাহলে হবে না। গরম বলতে কী বোঝাই, সেটা জানতে হবে, তার ওপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
‘কিন্তু—’ ট্রন কিছু একটা বলতে চাইছিল, সানি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘তোমার কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আজকে সারা দিন তুমি আমার সঙ্গে থাকো। তুমি দেখো আমি কীভাবে কাজ করি। সেটা দেখে শেখো। তুমিও যদি সেভাবে কাজ করতে পারো, তাহলে আমি তোমাকে ব্যবহার করতে পারব। যদি না পারো, তাহলে তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।’

‘আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলে আমাদের কোম্পানির সুনাম নষ্ট হবে,’ ট্রন বলল, ‘আমি চেষ্টা করব আপনার সঙ্গে থেকে আপনার কাছ থেকে শিখতে।’
‘চমত্কার!’

ট্রন জানতে চাইল, ‘আপনি আজ সারা দিন কী করবেন?’
‘শিকার করতে যাব।’

‘শিকার? আমার ডিকশনারি বলছে, শিকার অর্থ পশুপাখি হত্যা করা। পশুপাখির বুদ্ধিবৃত্তি মানুষ থেকে কম। কাজেই মানুষ যদি তাদের হত্যা করতে চায়, তারা কোনোভাবেই নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। এটি একটি অসম প্রতিযোগিতা।’

সানি বিরক্ত হয়ে টেবিলে থাবা দিয়ে বলল, ‘এই যে তুমি আবার ঘ্যান ঘ্যান শুরু করেছ। আমি তোমাকে বলেছি, বাজে তর্ক না করে সিদ্ধান্ত নিতে শেখো। শিকার করা মানুষের একটা প্রাচীন স্পোর্টস। মানুষ হাজার হাজার বছর আগে থেকে শিকার করে আসছে, ভবিষ্যতেও হাজার হাজার বছর ধরে শিকার করবে। কাজেই এটা অসম প্রতিযোগিতা কি না, সেটা আমি তোমার কাছে শুনতে চাই না। বুঝেছ?’
ট্রন বলল, ‘বুঝেছি।’

ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই সানি ট্রনকে নিয়ে বনভূমিতে চলে এল। বড় একটা হ্রদের পাশে পাইনগাছের সারি। পেছনে পাহাড়, পাহাড়ের চূড়ায় মুকুটের মতো সাদা বরফ। সামনে বিস্তৃত বিশাল উপত্যকা, সেখানে ঘন সবুজ গাছ। সানি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘আহ্! কী মায়াময় পরিবেশ!’

ট্রন বলল, ‘আমার ডিকশনারিতে মায়া শব্দটির অর্থ হিসেবে রয়েছে কারও জন্য স্নেহ অনুভব করা। একটা প্রাকৃতিক দৃশ্যের বেলায়—’
ট্রন বাক্যটা শেষ করতে পারল না, সানি তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘তুমি বাজে বকবক করবে না। যেটা বলছি সেটা শোনো। কপোট্রনে জমা করে রাখো।’
‘অবশ্যই, অবশ্যই সেটা করব।’

ঠিক তখন একঝাঁক পাখি আকাশ থেকে উড়ে নিচে নেমে আসে, হ্রদের ওপর দিয়ে একটা চক্কর দিয়ে সেটা কাছাকাছি পানিতে নামতে থাকে। সানির চোখ উত্তেজনায় চকচক করতে থাকে, সে ফিসফিস করে ট্রনকে বলল, ‘বন্দুকটা দাও।’

ট্রন সানির হাতে বন্দুকটা ধরিয়ে দেয়, সে সেটা হাতে নিয়ে গুড়ি মেরে এগিয়ে যায়। হ্রদের কাছাকাছি পৌঁছে একটা বড় গাছের আড়ালে লুকিয়ে বন্দুকটা তুলে সে গুলি করল। গুলির শব্দ দূর পাহাড় থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে, সঙ্গে সঙ্গে সবগুলো পাখি কর্কশ শব্দ করে ডাকতে ডাকতে উড়ে গেল, শুধু তিন-চারটা পাখি হ্রদের পানিতে পড়ে ডানা ঝাপটাতে থাকে। সানি পানিতে নেমে পাখিগুলো তুলে নিয়ে আসে।

ট্রনও সামনে এগিয়ে যায়, পাখিগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখে বলল, ‘পাখিগুলো অনেক বড় আর শক্তিশালী।’
‘হ্যাঁ’, সানি বলল, ‘দেখতেও সুন্দর।’

ট্রন বলল, ‘আমার সৌন্দর্যের অনুভূতি নেই। তবে এই পাখিগুলোর জীবনীশক্তি অনেক বেশি। গুলি খাওয়ার পরও মরেনি, ছটফট করছে।’
সানি বলল, ‘আমার শিকারির চাকুটা দাও।’

ট্রন সানির ব্যাগ থেকে শিকারির ধারালো চাকুটা বের করে দেয়। সানি সেটা দিয়ে পাখিগুলোকে জবাই করে নেয়, পাখিগুলো তখন কয়েকবার পাখা ঝাপটিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
ট্রন জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কী করলে?’

‘পাখিগুলোর কষ্ট দূর করে দিলাম। গুলি খেয়ে যন্ত্রণা সহ্য করছিল, এখন কোনো যন্ত্রণা নেই।’
‘ও!’
‘অহেতুক কাউকে কষ্ট দিতে নাই।’
ট্রন তার এক হাতে সানির রাইফেল এবং বন্দুক, অন্য হাতে মৃত পাখিগুলো এবং পিঠে তার ব্যাগটা নিয়ে সানির পিছু পিছু হাঁটতে থাকে।
সানি বাইনোকুলারটি চোখে লাগিয়ে তাকায়, বহু দূরে উপত্যকার নিচে সে অনেকগুলো হরিণকে দেখতে পেল। সানির চোখ আবার উত্তেজনায় চকচক করে ওঠে, সে ট্রনকে বলল, ‘তুমি আমাকে রাইফেলটা দাও। আমি তাড়াতাড়ি চলে যাই, তুমি পিছু পিছু আসো।’
‘তুমি কী করবে?’
‘ওই যে দূরে হরিণের পাল, দেখি, শিকার করতে পারি কি না।’

সানি তার রাইফেলের ম্যাগাজিনে গুলি ভরে নিচের দিকে নামতে থাকে, ট্রন পেছন পেছন যেতে থাকে। সে গৃহস্থালি রোবট, তাই সে দ্রুত কোথাও যেতে পারে না, আস্তে আস্তে হেলতে-দুলতে যেতে হয়।

ট্রন দেখতে পেল, সানি কাছাকাছি গিয়ে আবার একটা ঝোপের আড়াল থেকে গুলি করল, সবগুলো হরিণ তখন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালিয়ে যায়, শুধু একটা হরিণী নিচে পড়ে ছটফট করতে থাকে। ট্রন যখন কাছে পৌঁছাল, তখনো সেটি বেঁচে আছে। হরিণীটি তার কালো চোখ দিয়ে ট্রনের দিকে তাকিয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছিল, ট্রন কয়েক মুহূর্ত সে দিকে তাকিয়ে থেকে সানিকে জিজ্ঞেস করল, ‘এটা এখনো বেঁচে আছে?’

‘হ্যাঁ, নিশানা ঠিক হয় নাই, গুলিটা যেখানে লাগাতে চেয়েছিলাম, সেখানে লাগাতে পারিনি। হরিণটা উঠতে পারছে না, উঠতে পারলে নিশ্চয়ই পালানোর চেষ্টা করত।’
ট্রন বলল, ‘বুদ্ধিহীন নির্বোধ প্রাণী।’

‘হ্যাঁ। তবে গুলির আঘাতে কষ্ট পাচ্ছে। যন্ত্রণাটা দূর করে দেওয়া যাক।’ সানি তার রাইফেলটা দিয়ে গুলি করে হরিণীর মাথাটি চূর্ণ করে দিল। হরিণীটা কয়েকবার তার পাগুলো নাড়িয়ে নিশ্চল হয়ে যায়।
ট্রন বলল, ‘যন্ত্রণার অবসান হয়েছে?’

সানি মাথা নাড়ে, ‘হ্যাঁ, যন্ত্রণার অবসান করে দিয়েছি। অহেতুক কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।’
ঠিক এ রকম সময় কাছাকাছি ঢাল থেকে একটা ছোট পাথর গড়িয়ে নিচে নেমে আসে। সানি ওপরের দিকে তাকাতেই তার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। একটা পাহাড়ি ছাগল একটা পাথরের ওপর থেকে আরেকটা পাথরে লাফ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
সানি বলল, ‘আমার সবচেয়ে প্রিয় শিকার পাহাড়ি ছাগল।’
‘কেন?’
‘এরা ক্ষিপ্র, এরা পাহাড়ের পাথর বেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ওপরে উঠে যায়। পাহাড়ি ছাগল শিকার করা এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।’
‘তুমি এই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করবে?’
‘হ্যাঁ। রাইফেলটা রাখো, আমি শটগানটা নিয়ে যাই।’

সানি ডাবল ব্যারল শটগানে দুটো কার্তুজ ভরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল, ‘তুমি এখানে অপেক্ষা করো, আমি আসছি।’

সানি সাবধানী ভঙ্গিতে পাথরে ভর দিয়ে ওপরে উঠতে থাকে। পাহাড়ি ছাগলটা নিজের মনে ঘাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিল, হঠাত্ সেটা সানিকে দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে সেটা ওপরের দিকে ছুটে যেতে থাকে। সানি আর দেরি করল না, শটগানটা তুলে পরপর দুটো গুলি করল। পাহাড়ি ছাগলটা একটা আর্তনাদ করে, তারপর ওপর থেকে গড়িয়ে নিচে পড়তে থাকে। সেটা সোজা সানির দিকে গড়িয়ে আসছিল, সানি একটু সরে যাওয়ার চেষ্টা করল। তার পরও সেটা এসে সানিকে ধাক্কা দেয়। সানি তাল সামলাতে পারে না, পা হড়কে পড়ে গেল। সে হাত দিয়ে একটা পাথরকে খামচে ধরে নিজেকে থামানোর চেষ্টা করল, পারল না। পাহাড়ি ছাগলটার পিছু পিছু সেও গড়িয়ে নিচে এসে পড়ে।
পাহাড়ি ছাগলটি তখনো প্রাণপণে চিত্কার করে ডাকছে। ট্রন হাতের রাইফেলটা নিয়ে এগিয়ে যায়। সানির কাছে গিয়ে উবু হয়ে বসে তার দিকে তাকাল, জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কি মরে গেছেন?’

সানি মুখ বিকৃত করে বলল, ‘গাধার মতো কথা বোলো না। মরে যাব কেন? কিন্তু মনে হয় পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।’ সে পা-টা সোজা করতে গিয়ে যন্ত্রণার শব্দ করল, দেখতে দেখতে তার মুখ ঘামে ভিজে ওঠে।
ছাগলটা তখনো প্রাণপণে চিত্কার করছে। ট্রন উঠে দাঁড়িয়ে ছাগলটার কাছে যায়। কিছুক্ষণ সেটাকে লক্ষ করে তারপর রাইফেলটা দিয়ে গুলি করে ছাগলটার মাথাটা চূর্ণ করে দিল। সঙ্গে সঙ্গেই ছাগলটা একবার কেঁপে উঠে নিশ্চল হয়ে গেল।
ট্রন তখন সানির কাছে ফিরে আসে। রাইফেলটা ধরে রেখে বলল, ‘ছাগলটার যন্ত্রণার অবসান করে দিয়েছি।’
সানি বিরক্ত মুখে বলল, ‘বেশ করেছ।’
‘তোমারও কি যন্ত্রণা হচ্ছে?’
‘পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে পা ভেঙে গেলে যন্ত্রণা হয়, সেটা তোমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে? বেকুব রোবট কোথাকার!’
‘বেশ।’

সানি একটা ক্লিক শব্দ শুনল। সে মাথা তুলে তাকাল, দেখল, ট্রন রাইফেলটা ওপরে তুলছে। সানি আতঙ্কিত সুরে জিজ্ঞেস করল, ‘কী করছ? কী করছ তুমি?’
‘যন্ত্রণার অবসান করে দিচ্ছি।’

পরমুহূর্তে রাইফেলের শব্দটি পাহাড়ের ঢাল থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে।

Anuprerona
Anupreronahttps://www.anuperona.com
Read your favourite literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


Most Popular

Recent Comments

প্রদীপ কুমার বিশ্বাস on পরীক্ষা – হুমায়ূন আহমেদ
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • toto togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • desabet
  • desabet
  • rejekibetapk77.online -hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • bandar togel
  • slot gacor
  • judi bola
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot 5k
  • slot depo 5k
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • toto
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • hongkong pools
  • depo 5k
  • toto
  • situs toto
  • situs toto
  • situs togel
  • situs togel
  • hk pools
  • situs toto
  • situs togel
  • bandar togel
  • slot gacor
  • bandar togel
  • desabet
  • toto togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto slot
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4d
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto slot
  • toto slot
  • slot gacor
  • judi bola
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4D
  • kudamania
  • rejekibet
  • situs togel
  • slot gacor
  • toto togel
  • Slot Gacor Hari Ini
  • toto togel
  • kudamania
  • slot gacor
  • toto togel
  • slot dana
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot resmi
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • kudahoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • judi bola
  • judi bola
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • situs togel
  • toto slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor