Thursday, April 2, 2026
Homeথ্রিলার গল্পভৌতিক গল্পরাতের প্রহরী - হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

রাতের প্রহরী – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

রাতের প্রহরী – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

এ কাহিনী অমিয়া-মাসীর কাছে শোনা। তবে অমিয়া-মাসী হলফ করে বলেছে, এ কাহিনীতে একটুও ভেজাল নেই, প্রতিটি বর্ণ সত্য। তাঁর বাণীতেই বলি।

জান, শরীরটা বছর দু’য়েক আগে খুব খারাপ হয়ে পড়েছিল। যা খাই, কিছু হজম হয় না। পেটে অসহ্য ব্যথা। চোখ অন্ধকার দেখি। ডাক্তার বললেন, কলকাতা ছাড়তে হবে। এ শহর ব্যাধির ডিপো এখানে থাকলে শরীর সারবে না।

ঠিক হলো কোন স্বাস্থ্যকর জায়গায় গিয়ে মাস দুয়েক কাটিয়ে আসবো।

ঘাটশিলা, মধুপুর, গিরিডি‚ দেওঘর কোন জায়গাই তোমার মেসোর পছন্দ নয়। জান তো, কি খুঁতখুঁতে মানুষ! বললেন, ও সব বড় ফাঁকা জায়গা, নিরাপদ নয়।

ভাবতে ভাবতে ঠিক হলো লখনৌ। সেখানে আমার দাদা-শশুরের একটি বাড়ি ছিল। বহু পুরানো বাড়ি। উনি শখ করে তৈরি করেছিলেন, যখন লখনৌতে চাকরি করতেন। সে বাড়ির যে কি অবস্থা তাও জানি না। সেখানেই যাওয়া হলো।
চারবাগ, আমিনাবাদ, জিজ্ঞাসা করে করে বাড়ির পাত্তা মিলল। চক থেকে বেশ দূরে। আশপাশে মুসলমানের বস্তি। ছাগল, মুরগীর পাল ঘুরছে। একতলা বাড়ি। যতটা জরাজীর্ণ হবে ভেবেছিলাম, অবস্থা ততটা খারাপ নয়। আগেকার দিনের মজবুত মশলার গাঁথনি। যখন বাড়ির মধ্যে ঢুকলাম তখন বিকেল। রোদ ঝলমল করছে। দু’টো ঘর, বাথরুম। এক ফালি রান্নাঘর।

বাইরে বের হয়ে হোটেলে খাওয়া সেরে নিলাম। তারপর এদিক-ওদিক ঘুরে যখন বাড়ি ফিরলাম, তন প্রায় আটটা। তালা খুলে ঢুকতে গিয়েই দাঁড়িয়ে পড়লাম।

সেলাম সাহাব।

মুখ ফিরিয়ে দেখলাম, দরজার বাইরে একজন। পরনে কালো কুর্তা আর পাজামা, মাথায় কালো টুপি বাঁকা করে বসানো।
তোমার মেসো জিজ্ঞাসা করল, কৌন?
আপকো গোলাম হুজুর!

বাতি জ্বেলে লোকটাকে ভিতরে ঢোকানো হলো। দীর্ঘ চেহারা। কোটরাগত দুটি চোখ, কিন্তু নিষ্প্রভ নয়, জ্বলজ্বল করছে। মুখের কোথাও যেন মাংস নেই। বোঝা গেল অর্ধাহারে এমন চেহারা হয়েছে।

কি চাই?

আপনারা নতুন এসেছেন দেখলাম। কিছুদিন থাকবেন বোধহয়?

সেই রকম ইচ্ছা আছে। এ আমার দাদুর বাড়ি। বহুদিন আসা হয়নি।

লোকাটা নিচু হয়ে কুর্নিশ করে বলল‚ নিশ্চয় থাকবেন সাহাব, আলবত থাকবেন। যে কদিন থাকবেন‚ এই গোলাম পাহারা দেবে। হাজার হোক, আপনাদের পক্ষে বিদেশ-বিভুঁই।
ভালই হলো। একটা পাহারাদার থাকলে আমরা নিশ্চিন্ত। বিদেশে যখন এসেছি, চুপচাপ বাড়িতে তো আর বসে থাকব না। ঘুরে ঘুরে বেড়াব।

তোমার নাম কি?
বান্দার নাম আবদুল রিজভী।
তোমাকে কেউ চেনে এখানে?
লোকটার দুটো চোখ দপদপ করে জ্বলে উঠলো।
দেখবেন হুজুর? এই দেখুন!

আধময়লা কুর্তার মধ্য থেকে আবদুল প্রায় শতচ্ছিন্ন গোটা কয়েক কাগজ বের করলো। কাগজগুলো হলদে হয়ে গেছে। গোটা তিনেক অভিজ্ঞানপত্র। বড় বড় লোকের লেখা। ফৈজাবাদের জমিদার, অযোধ্যার নবাবের ভাইপো, গোণ্ডার রহিম, সবাই লিখেছে, আবদুল রিজভীর মতো বিশ্বাসী, কর্তব্যপরায়ণ, সৎলোক দুর্লভ।


ঠিক আছে, তোমাকে রাখবো। কত দিতে হবে বলো?
আমি একলা মানুষ খোদাবন্দ, যা দেবেন তাতেই রাজি।

আবদুল রয়ে গেল। দিন তিনেক খুব ভালভাবে কাটলো। বেড়িয়ে যখনই ফিরতাম, দেখতাম, সদর দরজার পাশে আবদুল খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে। সজাগ প্রহরী। আমাদের দেখলে কপালে হাত ঠুকে সেলাম করতো। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে শুনতে পেতাম খটখট জুতোর শব্দ। বাইরে আবদুল পাহারা দিচ্ছে।

দিন তিনেক পর রাত্রে ক্লান্ত হয়ে ঘুমচ্ছি, হঠাৎ মনে হলো, আমার খাটটা যেন নড়ে উঠলো। চমকে খাটের উপরে উঠে বসলাম। ভাবলাম, নির্ঘাত ভূমিকম্প। বাড়িতে বিজলী বাতি ছিল না। হ্যারিকেন ব্যবহার করতাম। আলো জ্বললে তোমার মেসোর ঘুম হয় না বলে শোবার আগে হ্যারিকেন নিভিয়ে দিতাম। কিন্তু মাথার বালিশের নীচে টর্চ থাকত। তাড়াতাড়ি টর্চ জ্বাললাম। দেখি, তোমার মেসোর খাট যথাস্থানে থাকলেও আমার খাট হাত দশেক সরে এসেছে।

ভূমিকম্পে তো এমন হবার কথা নয়! গলা দিয়ে স্বর বের হচ্ছিল ন। কোন রকমে চাপা গলায় ওনাকে ডাকলাম। বার কয়েক ডাকার পর উনি উঠে বসলো।
কি, কি হলো?
কি হয়েছে বলতে হলো না। খাটের অবস্থান দেখে সবই বুঝতে পারলো।
ওখানে গেলে কি করে?
তাই তো ভাবছি। কে যেন আমার খাটটা সরিয়ে নিয়ে এলো।
উনি ভুরু কুঁচকে কিছুক্ষণ কি ভেবে বললো, বুঝতে পেরেছি। তোমার রোগ তো একটা নয়। ঘুমিয়ে কথা বল, ঘুমাতে ঘুমতে শিবপুরের বাড়িতে এবার বারান্দা পর্যন্ত হেঁটে চলে গিয়েছিলে, মনে আছে? সেই রকম খাটটা ধরেই হয়তো হাঁটতে শুরু করেছে। দাঁড়াও, খাটটা ঠিক জায়গায় সরিয়ে দিই।
তোমার মেসো খাট থেকে নামবার সঙ্গে সঙ্গেই আশ্চর্য কাণ্ড ঘটলো।

আমি আমার খাটের ওপর বসে। সরসর করে খাটটা সরে পুরানো জায়গায় চলে গেল। ভয়ে হাত কেঁপে উঠতে টর্চটা নিভে গিয়েছিল। অন্ধকারে শুধু আমার কণ্ঠ শোনা গেল। তোমার মেসো উঠে হ্যারিকেন জ্বালালো। তারপর সারাটা রাত দুজনে চুপচাপ বসে। একবার তোমার মেসো দরজা খুলে বাইরে গিয়ে ডাকলো, আবদুল।
হুজুর।
উত্তরের সঙ্গে সঙ্গে আবদুল এসে সামনে দাঁড়িয়েছিল।
ফরমাইয়ে সাহাব।

কিন্তু ব্যাপারটা এমন অলৌকিক, অবিশ্বাস্য যে কাউকে বলাও যায় না। যাকে বলবে সেই ভাববে আমাদের মাথার দোষ আছে। তাই চুপচাপ রইলাম।

আমাদের দু’জনের কেউই ভূতে বিশ্বাস করতাম না। চিরকাল দুজনে শহরে মানুষ। ভূতের কথা বইয়ে পড়েছি, কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি। সেই রাতে ব্যাপারটা আমাদের দুজনকেই বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।

দিন পনেরো নির্বিবাদে কাটলো। কোন উপদ্রব নয়। এক সময় আমার নিজেই মনে হলো, সব ব্যাপারটাই হয়তো মনের ভুল!
সিনেমা দেখে ফিরতে সেদিন একটু রাত হয়েছিল। খাওয়া-দাওয়া সেরে শুতে প্রায় বারটা হলো। শীত পড়তে শুরু হয়েছে। লখনৌতে শীতের প্রকোপ একটু বেশী। জানলাগুলো সন্ধেয় বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

হঠাৎ মাঝরাতে খটখট করে সব জানলাগুলো খুলে গেল। কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝলক হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিলো। বন্ধ করার দোষে হলে একটা জানলা খুলে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু এভাবে একসঙ্গে শোবার ঘরের চারটে জানালা খুলে যায় কি করে!

তোমার মেসো খাটের ওপর উঠে বসলো! উঠেই আমাকে ধমক।

জানলাগুলোও কি ভাল করে বন্ধ করতে পারো না? মাঝরাতে আচ্ছা ঝামেলা।

তোমার মেসে উঠে সব জানলাগুলো টেনে বন্ধ করে দিলো।
তারপর উনি সবে খাটে শুয়েছেন‚ ফের খটখট করে জানলাগুলো খুলে গেল। বার তিনেক এরকম হবার পর দুজনেই একটু ভয় পেয়ে গেলাম। দরকার নেই বাপু শরীর সারিয়ে, এই ভূতুড়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়াই ভাল।
কথাটা হঠাৎ আমায় মনে হতে বললাম, আব্দুলকে একবার ডাকলে হয় না।
আবদুল? আবদুল কি করবে?
আমরা যখন ঠিকমত জানলাগুলো বন্ধ করতে পারছি না, তখন ওকে দিয়ে এবার চেষ্টা করো।
কথাটা বোধহয় তোমায় মেসোর মনে লাগলো। দরজাটা খুলে ডাকলো, আবদুল।
সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো, হুজুর।
আশ্চর্য মনে হয়! আবদুল মানুষ নয়‚ যন্ত্র।
আবদুল দরজায় এসে দাঁড়ালো।

জানলাগুলো কিছুতেই বন্ধ করতে পারছিনা। একবার দেখো তো। আমি টর্চটা জ্বালিয়ে আবদুলের মুখের ওপর রেখেছিলাম। মনে হলো, আবদুলের দুটো চোখ জ্বলে উঠলো।
জি হুজুর!


আবদুল একটা একটা করে সব জানলাগুলো বন্ধ করে দিলো।

তারপর এক মুহূর্ত দেরি না করে সেলাম ঠুকেই বাইরে চলে গেল। দরজা বন্ধ করে আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। না, জানালাগুলো আর খুলে গেল না।

তার মানে আমরা বোধহয় জানলাগুলো ঠিকমত বন্ধ করতে পারছিলাম না।
রাত্রে আর কোন অসুবিধা হলো না। সত্যি, কত মিথ্যা কারণে আমরা ভয় পাই। কত অল্পে।
পরের দিন দুপুরবেলা আবদুলকে দেখলাম। সাধারণত দিনের বেলা সে নিজের ডেরায় চলে যায়। পাহারা দিতে আসে সন্ধ্যাবেলা। কিন্তু সেদিন দুপুরে বের হবার মুখে দেখলাম, আব্দুল চারদিকে ঘুরছে।

তোমার মেসো পোস্টাপিসে গিয়েছিল খাম, পোস্টকার্ড কিনতে। আশপাশে এমন কেউ নেই, যাদের সঙ্গে আলাপ করতে পারি। চারদিকে বস্তি।
কি খুঁজছো আবদুল?
আবদুল যেন একটু চমকে উঠলো।

আমার দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ দেখে বললো, একটা চিজ খুঁজছি মেমসায়েব! অনেকদিন আগে হারিয়েছিলাম, কিন্তু কোথায় হারিয়েছিলাম ঠিক মনে পড়ছে না।
উত্তর দিয়েই আবদুল আর দাঁড়ালো না। আস্তে আস্তে বস্তির দিকে এগিয়ে গেল।

ইচ্ছা ছিল, আবদুলকে তার পুরানো সংসার, তার পরিবারের লোকজন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করব, কিন্তু সুযোগ পেলাম না।
কি খুঁজছে আবদুল‚ ঠিকভাবে সে কথাও বললো না। কেমন একটা দুর্বোধ্য উত্তর দিয়ে গেল।

জানলাগুলো ভালভাবে দিনের আলোয় পরীক্ষা করে দেখলাম। কলকব্জার বিশেষ কোন কারসাজি নেই। অথচ রাত্রে কেন বন্ধ করতে পারলাম না!

দিনের বেলা কোন গোলমাল নেই, কিন্তু রাত হলেই যেন গা ছমছম করে। মনে হয়, আমি আর তোমার মেসো ছাড়া তৃতীয় আর এক সত্তার যেন আবির্ভাব হয়। তাকে চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তার কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে সে নিজেকে ধরা দেয়।
এই খাট সরানো, জানলাগুলো আচমকা খুলে যাওয়া এসব কিন্তু মোটেই স্বাভাবিক বলে মনে হয় না।

তোমার মেসো ফিরে আসতে আবদুলের জিনিস খোঁজার কথাটা বললাম, কিন্তু কথাটার ওপর সে একেবারেই গুরুত্ব আরোপ করলো না। বললেন ওসব নিয়ে মাথা ঘামাবার কোন মানে হয় না। হয়তো পকেট থেকে কিছু পড়ে গেছে, তাই খুঁজছিল।

আমি কিন্তু মনের কথাটা বলেই ফেললাম। জান, আর এখানে ভাল লাগছে না।
কেন, তোমার শরীরের তো উন্নতিই হয়েছে। পেটের ব্যথাটা আর নেই। খিদেও হচ্ছে।
আমি একটু চুপ করে থেকে বললাম, এ বাড়িটা আমার ভাল লাগছে না।
কেন, বাড়ির কি দোষ হলো?
কি দোষ তো তুমি জান।
ওসব তোমার মনের ভুল। আমি ওসব মোটেই ভাবছি না।

কিন্তু কয়েকদিন পরেই ভাববার যথেষ্ট কারণ ঘটলো। তোমার মেসো আর আমার দু’জনেরই।
সেদিন বিকাল থেকেই বৃষ্টি আরম্ভ হলো। অসময়ের বৃষ্টি। বুঝতে পারলাম, এই বৃষ্টির পরই শীতের প্রচণ্ডতা বাড়বে। দুটো বিলাতী কম্বল ছিল। তাতে সে শীত আটকাবে না।

সেদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। মনে হলো ঘরের মধ্যে খুটখুট শব্দ। কে যেন বুট পরে পায়চারি করছে। এদিক থেকে আর একদিক। উঠ বসলাম। তোমার মেসো ঘুমে অচেতন।
টর্চ জ্বালিয়ে ঘরের এদিক-ওদিক ফেললাম। কেউ কোথাও নেই। অথচ খটখট শব্দ সমানে শোনা যাচ্ছে। ইঁদুরের উৎপাত কিনা কে জানে। আমাদের গড়পারের বাড়িতে বিরাট সাইজ ইঁদুর ঘুরে বেড়াতো। সাইজে বিড়ালের চেয়েও বড়! বাথরুমে যাওয়া দরকার। সাহস করে উঠলাম। বাথরুমের দরজা খুলে টর্চ জ্বেলে আগে এধার-ওধার দেখে নিলাম। কোণের দিকে আলো পড়তেই চিৎকার করে উঠলাম।

একেবারে দেয়াল ঘেঁষে একটি নরকঙ্কাল। বললে বিশ্বাস করবে না, জীবন্ত নরকঙ্কাল! দুই হাত প্রসারিত করে আমাকে ডাকছে। শুধু ডাকা নয়, খল–খল করে অদ্ভুত রকমের হাসি। সেই হাসির দমকে পাঁজরার শুকনো হাড়গুলো সমানে ওঠানামা করছে। সেই ভয়ানক হাসি‚ সেই দৃশ্য শরীরের সমস্ত রক্ত পলকে জমাট বেঁধে যাবার জন্য যথেষ্ট।

আর আমার জ্ঞান ছিল না। আর্ত চিৎকার করে বাথরুমের দরজার কাছে মূর্ছিত হয়ে পড়েছিলাম।
যখন জ্ঞান হলো‚ দেখি, খাটের ওপর শুয়ে আছি। সকল হয়েছে। তোমার মেসো উদ্বিগ্ন মুখে পাশে বসে।
চোখ মেলতে মেসো বললো, কি হয়েছিল?
কি হয়েছিল বললাম।

মেসে বললো, কি আশ্চর্য কাল রাত থেকে কতবার যে আবদুলকে ডেকেছি, ডাক্তারের কাছে পাঠাব বলে, কিন্তু সে নিখোঁজ। শেষে পাশের বস্তির এক ছোকরাকে ডাক্তার আনতে পাঠিয়েছি।

একটু পরেই বাইরে মোটরের শব্দ হলো। বৃদ্ধ বাঙালি ডাক্তার ঘরে ঢুকলেন।

সব শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, আমরা আপনার দাদুকে এ জমিতে বাড়ি করতে অনেক বারণ করেছিলাম। তিনি শোনেননি।
কেন, এ জমিতে কি আছে?
একটা কবর ছিল এখানে। কবরের ওপর কেউ বাড়ি করে না। আপনার দাদুও এ বাড়িতে বেশি দিন টিকতে পারেনি।
আরো একটা কথা, আবদুল বলে একটা লোক পাহারা দিতো, তাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আবদুল? পুরো নাম কি?
আবদুল রিজভী।

ডাক্তার নাম শুনে চমকে উঠলেন। সে কি! এখানে আবদুল রিজভীরই তো কবর ছিল। সে মারা গেছে আজ আশি বছরের ওপর।

কিন্তু সে যে অনেকগুলো সার্টিফিকেট দেখাল!
ডাক্তার হাসলেন, তার তারিখগুলো দেখেছেন? কবেকার লেখা?

পরের দিনই আমরা কলকাতা ফিরে এসেছিলাম। দুটো প্রশ্ন এখনও পাক খায় মাথায়। ঘুরে ঘুরে সেদিন কি খুঁজছিল আবদুল রিজভী। নিজের কবর নয়তো? আর সে রাতে ওভাবে বাথরুমে কঙ্কাল-মূর্তিই বা দেখাল কেন? আমাদের তাড়াবার জন্যই কি?

Anuprerona
Anupreronahttps://www.anuperona.com
Read your favourite literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


Most Popular

Recent Comments

প্রদীপ কুমার বিশ্বাস on পরীক্ষা – হুমায়ূন আহমেদ
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • toto togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • desabet
  • desabet
  • rejekibetapk77.online -hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • bandar togel
  • slot gacor
  • judi bola
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot 5k
  • slot depo 5k
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • toto
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • hongkong pools
  • depo 5k
  • toto
  • situs toto
  • situs toto
  • situs togel
  • situs togel
  • hk pools
  • situs toto
  • situs togel
  • bandar togel
  • slot gacor
  • bandar togel
  • desabet
  • toto togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto slot
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4d
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto slot
  • toto slot
  • slot gacor
  • judi bola
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4D
  • kudamania
  • rejekibet
  • situs togel
  • slot gacor
  • toto togel
  • Slot Gacor Hari Ini
  • toto togel
  • kudamania
  • slot gacor
  • toto togel
  • slot dana
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot resmi
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • kudahoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • judi bola
  • judi bola
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • situs togel
  • toto slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • situs togel
  • bandar togel
  • situs togel