Sunday, July 12, 2026
Homeথ্রিলার গল্পভৌতিক গল্পস্টেশনের নাম ঘুমঘুমি - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

স্টেশনের নাম ঘুমঘুমি – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

স্টেশনের নাম ঘুমঘুমি – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ভুল করে অন্য কোথাও নেমে পড়েছি নাকি? ট্রেন চলে গেলে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে চারদিক দেখতে থাকলাম। মানুষ নেই জন নেই,

গাছ নেই পালা নেই, এ কেমন জায়গা?

নাঃ, ভুল হয়নি। ওই তো হলুদ বোর্ডে লেখা আছে ঘুমঘুমি। দেখে স্বস্তি পেলাম। তারপর চোখে পড়ল রেলের পোশাকপরা একটা লোক স্টেশনের উঁচু খোলামেলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। কোনও যাত্রী নামেনি আমি ছাড়া। টিকিট নেওয়ার জন্যও কেউ নেই মনে হল।

স্টেশনের পিছনে কোয়ার্টারটাও চোখে পড়ল। তখন নিচু প্ল্যাটফর্মে আস্তে– আস্তে হেঁটে স্টেশনঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। বলা বাহুল্য, খুব হতাশ হয়ে গেছি। এমন একটা অখাদ্য নির্জন স্টেশনে অরুণমামা থাকেন, ভাবতেই পারিনি।

চারদিকে ধুধু রুক্ষ মাঠ। কদাচিৎ দূরে একটা গাছ। সেও একেবারে ন্যাড়া। আর এদিকে-ওদিকে ছোটখাট পাহাড় বা টিলা। রেললাইনটা এই মাঠ পেরিয়ে দিগন্তে গিয়ে মিশেছে। কেমন একটা শূন্যতা খাঁখাঁ করছে চারপাশে।

রেলের পোশাক পরা লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মুখে গোঁফদাড়ি দেখে আমি সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারিনি অরুণমামাকে। বললাম, আচ্ছা, স্টেশনমাস্টার অরুণ রায় কি আছেন, না বদলি হয়ে গেছেন?

একথা জিগ্যেস করার কারণ, অরুণমামা আমাকে আসতে লিখেছিলেন সেই পুজোর পর। আর এখন বোশেখ মাস। তারপর এতদিন আর কোনও চিঠি লেখালেখি নেই।

তা আমার কথা শুনে ভদ্রলোক ভুরু কুঁচকে বললেন, বদলি হবেন মানে? তিনি বহাল তবিয়তেই আছেন। তুমি কোত্থেকে আসছ?

–কলকাতা থেকে! অরুণবাবু আমার মামা হন।

অমনি ভদ্রলোক লাফিয়ে উঠে হাসতে-হাসতে বললেন,-সুকু, তুই? ওরে, তুই এত্তো বড়টি হয়েছিস রে! আঁ? তোকে যে আর চেনাই যাচ্ছে না রে!

আর আমিও দাড়িগোঁফের আড়ালে অনেকদিন আগে দেখা মুখখানা আবিষ্কার করে ফেলেছি তক্ষুনি। বললাম,–ও মামা! আপনাকেও যে চেনা যাচ্ছে না। দাড়িগোঁফ রেখে একেবারে সাধুসন্নেসী হয়ে গেছেন যে।

অরুণমামা আমাকে জাপটে ধরে এগিয়ে গেলেন। স্টেশন-ঘরের দরজায় পয়েন্টসম্যানকে ডেকে বললেন,–ভজুয়া! এ কে এসেছে দেখছিস। আমার ভাগ্নে সুকুমার!

ভজুয়া আমাকে সেলাম দিয়ে হাসল।

অরুণমামা বললেন,–বাবা ভজুয়া! আমি একে কোয়ার্টারে নিয়ে যাই। তুই থাকিস। সন্ধে ছটার ডাউন আসার সময় হয়ে গেল। সিগন্যাল দিয়ে রাখা।

ওকে আরও কিছু নির্দেশ দিয়ে অরুণমামা আমাকে নিয়ে চলতে থাকলেন। গেট পেরিয়ে একটা চটান মতো জায়গায় কুয়ো আছে দেখলাম। কুয়োর কাছে একটি দেহাতি মেয়ে বালতি করে জল তুলছিল। ঘোমটা টানল আমাদের দেখে। অরুণমামা বললেন, লছমীবউ, বল তো এ কে? বলতে পারলি নে তো? আমার ভাগ্নে রে, ভাগ্নে। কলকাতা থেকে আসছে। তুই জল তুলে একবারটি আসবি। বুঝলি?

একটা মোটে কোয়ার্টার। তার দরজার তালা খুলতে খুলতে অরুণমামা বললেন, আমার বন্ধু বল, দেখাশোনার লোক বল, এই ভজুয়া আর তার বউ লছমী। একজন খালাসি ছিল ঝাটুয়া নামে। সে ব্যাটা অনেক চেষ্টা করে বদলি নিয়েছে। আর নতুন লোক আজ অবধি এল না। কেউ এই ঘুমঘুমি স্টেশনে আসতে চায় না। বুঝলি?

বললাম, কেন মামা?

অরুণমামা ঘরে ঢুকে বললেন,–কেন তা বুঝতে পারছিস নে সুকু? এই পাণ্ডববর্জিত নির্জন জায়গায় কি কেউ থাকতে চায়? কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ এখানে হাঁফিয়ে উঠবে।

–আপনি আছেন যে? তাছাড়া ওই ভজুয়া আর তার বউও তো আছে?

অরুণমামা আমার প্রশ্ন শুনে একটু হেসে বললেন,–এর কোনও স্পষ্ট জবাব দেওয়া সত্যি কঠিন সুকু। শুধু এটুকু বলতে পারি, নির্জন জায়গায় থাকতে কোনও কোনও মানুষ হয়তো ভালোবাসে। যেমন আমি। প্রথমে কিছুদিন ভালো লেগেছিল। তারপর খারাপ লাগতে শুরু করল। তখন পড়াশুনায় মন দিলাম। রাজ্যের বইপত্তর কিনে আনি জংশন শহর থেকে, আর পড়ি। তারপর সয়ে গেল সব। এখন বরং এ জায়গা থেকে চলে যেতে হলে খুব কষ্ট পাব। যাক গে, তুই আটচল্লিশ ঘণ্টার জানিতে ক্লান্ত। বারান্দায় বালতিতে জল আছে। হাত-মুখ ধুয়ে নে। আমি চা জলখাবারের জোগাড় করি।

অরুণমামা চোখ নাচিয়ে ফের বললেন,–বুঝতেই তো পারছিস, স্বপাক খাই। কিন্তু আমার রান্নার স্বাদ পেলে আর কলকাতায় ফিরতে ইচ্ছেই করবে না তোর।

আজ রাতে কী রান্না করব জানিস? পাঁঠার মাংস।

অবাক হয়ে বললাম,–পাঁঠার মাংস এখানে কোথায় পেলেন মামা?

–মাইল পাঁচেক দূরে চণ্ডিকাঁদেবীর মন্দির আছে। কাল তোকে নিয়ে যাব সেখানে। মন্দিরের পুরোহিতের সঙ্গে আমার খুব খাতির আছে। বলি পড়লেই প্রসাদি মাংস পাঠিয়ে দেন।

বলে অরুণমামা কেরোসিন কুকার ধরাতে ব্যস্ত হলেন। আমি ভেতরের বারান্দায় গিয়ে বালতির ঠান্ডা জলে হাত-মুখ-পা রগড়ে ধুলাম। ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। উঠোনের কোণায় পাঁচিল ঘেঁষে একটা প্রকাণ্ড জবা গাছে বড়-বড় ফুল ফুটেছে। এই রুক্ষ নীরস শ্রীহীন তেপান্তরে ওই ফুলগুলো দেখে কী যে ভালো লাগল।

ফুলগুলো যে সত্যিকার ফুল বিশ্বাস করাই কঠিন। চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে তো বটেই, এমন গোলাপি পাপড়ি এবং হলুদ পরাগের জবা এর আগে কোথাও দেখিনি। তার চেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার, জবাফুলে গোলাপের মতো মিঠে আঁজালো গন্ধ কেন?

কাছে গিয়ে খুঁজছিলাম পাশে কোথাও গোলাপ গাছ আছে নাকি। কিন্তু না, আর কোনও ফুলগাছ নেই। শুধু ওই একটাই জবা গাছ–প্রকাণ্ড ঝাড়। তাজ্জব হয়ে ভাবছি, একটা নতুন ব্যাপার দেখলাম তাহলে। জবাফুলে গোলাপের গন্ধ!

ঠিক সেই সময় পাচিলের ওপর একটা বছর দশ-বারো বয়সের মেয়ের মাথা দেখা গেল। আমি একটু চমকে উঠেছিলাম। তারপর মেয়েটি পাঁচিলের ওপর ওঠে পা ঝুলিয়ে বসল। তখন সূর্য ডুবে গেছে ঘুমঘুমির মাঠে। ফিকে গোলাপি আলোটাও মুছে গেছে। মেয়েটি হাসিমুখে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। তার কেঁকড়ানো চুলগুলো ঈষৎ লালচে। চোখের তারা নীল। মেমসায়েবদের মতো। গায়ের রঙ ধবধবে ফরসা।

বললাম,–কোথায় থাকো খুকুমণি?

কপরা খুকুমণিটি হেসে বাইরের দিকে আঙুল তুলে দেখাল।

কিন্তু বাইরে তো কোনও বাড়ি দেখিনি কোথাও। হ্যাঁ–একটা ছোট্ট ঘর আছে বটে, সেখানে সম্ভবত ওই ভজুয়ারা থাকে তাহলে ভজুয়ারই মেয়ে। মেয়েটি হাত বাড়িয়ে এবার ফিসফিস করে বলল,–একটা ফুল দাও না!

যেই ফুল ভাঙতে হাত বাড়িয়েছি, পিছনে অরুণমামা বলে উঠলেন,–ও কী করছিস সুকু? ফুল তুলছিস নাকি? উঁহু কক্ষনো ওই কাজটি করবি নে বাবা। ওই ফুলগুলো মানসিক করা। প্রতিদিন সেই চণ্ডিকার মন্দিরের লোক এসে নিয়ে যায়।

অপ্রস্তুত হেসে বললাম, মামা, ওই মেয়েটা ফুল চাইছিল কিনা, তাই…

অরুণমামা আমার কাছে দৌড়ে এসে বললেন,–মেয়েটা? কোন মেয়েটা?

ওই যে।–বলে আমি পাঁচিলের দিকে মুখ তুলে কিন্তু কাকেও দেখতে পেলাম না। তাহলে নির্ঘাত বেচারি লাফ দিয়ে নেমে পালিয়েছে অরুণমামার ভয়ে।

অরুণমামা পাঁচিলের দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে শুধু বললেন, হুঁ।

তারপর আমার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেলেন। ঘরে গিয়ে চাপাগলায় বললেন,-একটা কথা বলি, শোন সুকু। ঘুমঘুমি বড় অদ্ভুত জায়গা। এখানে অনেক কিছু দেখবি। কিন্তু সাবধান, মাথা ঠিক রাখবি।

অবাক হয়ে বললাম, অনেক কিছু দেখব মানে?

অরুণমামা গম্ভীরমুখে বললেন,–ওই মেয়েটা কে ছিল জানিস? আগেকার অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্টেশনমাস্টারের ছোট মেয়ে মঞ্জু। বছর দশেক আগে মঞ্জু ট্রেনে কাটা পড়েছিল। আনমনে লাইনের ওপর খেলা করছিল, ট্রেনের হুইসেল শুনতে পায়নি।

শিউরে উঠেছি সঙ্গে সঙ্গে। তাহলে কি আমি মঞ্জুর ভূত দেখলাম? অসম্ভব। আমি প্রত্যক্ষ দেখলাম। নিশ্চয় মামা আমার সঙ্গে তামাশা করছেন। মনের তলায় ভয় এসে চুপিচুপি দাঁড়িয়েছে বটে, কিন্তু মুখের ভাবে সাহস রেখে হেসে বললাম, ভূতটুতে আমার বিশ্বাস নেই, মামা!

অরুণমামা হাসলেন না একটুও। আরও গম্ভীর হয়ে বললেন, তুমি এখন সোমত্ত ছেলেটি হয়ে উঠেছ। ভূতপ্রেতে বিশ্বাস না থাকারই কথা। বিশেষ করে কলকাতায় থাকো তুমি। সেখানে আলোর দেশ। কিন্তু বাবা সুকু, এ হল অন্ধকারের দেশ। শহর তো দূরের কথা, গ্রাম বলতে ধারে কাছে কিছু নেই। সবচেয়ে কাছের গ্রামটির দূরত্ব সাত মাইল। অবশ্য দেবী চণ্ডিকার মন্দির আছে মাইল পাঁচেক দূরে। কিন্তু সেখানে থাকেন শুধু পূজারী আর তার একজন লোক। তাই বলছি, এই ঘুমঘুমি স্টেশনে অনেক বিচিত্র ব্যাপার তুমি দেখতে পাবে।

অরুণমামাকে অবিশ্বাস করাও তো যায় না। আমার মায়ের দূর সম্পর্কের দাদা এই ভদ্রলোককে অবশ্য খুব কমই দেখেছি আমাদের বাসায়। দুবছর অন্তর একবার করে দেখা দিয়ে এসেছেন মাত্র। তারপর আর পাত্তা নেই! গত দুবছর এমনি বেমালুম নিপাত্ত থাকার পর পুজোর ঠিক আগে একটা চিঠি পেয়েছিলাম। ঠিকানা দিয়ে আসতে লিখেছিলেন। আসার সময় পাইনি। হঠাৎ কদিন আগে মা একটা কী যেন দুঃস্বপ্ন দেখেন। খুলে বলেননি, কিন্তু তারপর থেকেই তাগিদ দিচ্ছিলেন ওই অরুণদার কাছে গিয়ে যেন খবর নিয়ে আসি, কেমন আছেন। তাই এমনি করে আসা।

কিন্তু ওই অল্পস্বল্প পরিচয়েই অরুণমামাকে যতটুকু জেনেছিলাম, মনে হয়েছিল উনি বেশ জেদি, গম্ভীরপ্রকৃতির এবং সাহসী মানুষ। যাকে বলে ডানপিটে। এখনও বিয়ে করেননি। কাছের আত্মীয়স্বজন কেউ কোথাও নেই। একা থাকেন বরাবর। ওঁর মতো মানুষের পক্ষে ঘুমঘুমি আদর্শ জায়গা হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এমন ভুতুড়ে ব্যাপারের মধ্যে উনি পড়ে আছেন জেনে বেশ অবাক হলাম।

ফের হেসে বললাম, তাহলে মঞ্জুকে আপনি অনেকবার দেখেছেন মামা? খুব জ্বালায় বুঝি?

অরুণমামা মাথা দুলিয়ে বললেন, হ্যাঁ। মেয়েটা পাজির পাড়া। সারাক্ষণ জ্বালায়। স্টেশনে আপন মনে কাজ করছি, হঠাৎ কাগজপত্র ছড়িয়ে দিয়ে পালায়। খিলখিল করে হাসতে-হাসতে মাঠের দিকে পালিয়ে যায়। ভজুয়াকে জিগ্যেস করে দেখিস না! ওকে কি কম জ্বালায়? ওর টিকি ধরে টানে। হাঁটুর পেছনে আচমকা সুড়সুড়ি দেয়, আর ভজুয়া আছাড় খায়। পাজি মেয়েটার জন্যে বড্ড ঝামেলায় পড়তে হয় মাঝে-মাঝে। একবার তো ট্রেন আসছে, লাইন ক্লিয়ারের……

বলতে-বলতে হঠাৎ থেমে অরুণমামা জানালার দিকে তাকিয়ে ধমক দিলেন, অ্যাই মঞ্জু! যাব নাকি? তবে রে পাজি মেয়ে।

উনি দরজা অবধি তাড়া করে গিয়ে ফিরলেন। কেরোসিন-কুকারের কাছে বসে কেটলির ফুটন্ত জলে চা-পাতা ফেলে বিড়বিড় করে কী যেন মন্ত্র পড়তে থাকলেন। ততক্ষণে আমি বিস্ময়ে ও আতঙ্কে ঘামতে শুরু করেছি। আগে জানলে কক্ষনও এমন জায়গায় আসতাম না। ওরে বাবা, এ যে সারাক্ষণ ভূত-প্রেত নিয়ে থাকা। ভয়ে ভয়ে জানলার বাইরে তাকাচ্ছিলাম। মঞ্জুকে দেখতে পেলে এবার নিশ্চয় ভিরমি খেতাম সন্দেহ নেই। জানলার বাইরে আকাশে দু-তিনটে নক্ষত্র সবে ফুটে উঠেছে। সেই নক্ষত্র ছাড়া আর কিছু নেই।

একটু পরে দুজনে বসে চা খাচ্ছি, অরুণমামা বললেন, তাঁ, আর যা বলছিলাম। এই স্টেশনে অনেক ট্রেন বা মালগাড়ি আসতে-যেতে দেখবে। কোনওটা থামবে, কোনও যাত্রীও নামবে। কিন্তু জেনে রাখো, কোনও-কোনও গাড়ি মিথ্যে গাড়ি। তার মানে রেলগাড়িই নয়। স্রেফ ভুতুড়ে ট্রেন কিংবা ভুতুড়ে মালগাড়ি। যার যাত্রী, চেকার, গার্ড, ড্রাইভার, ফায়ারম্যান–সবাই ভূত-প্রেত। যে যাত্রী নামবে, সেও জানবে ভূত ছাড়া মানুষ নয়। তাই তো তখন তোমাকে নামতে দেখে আমি মনে-মনে তৈরি হচ্ছিলামভূত হলে অ্যায়সা থাপ্পড় কষব!…

শুনে আমি আঁতকে উঠে বললাম, ওরে বাবা!

অরুণমামা সস্নেহে আমার পিঠে হাত রেখে সান্ত্বনা দিলেন,–পাগল! তোকে থাপ্পড় মারতাম নাকি? তুই তো মানুষ। দেখলেই চেনা যায়।

এই প্রথম আমার মনে হল, অরুণমামা আমার পিঠে যে-হাতটা এইমাত্র রেখে তুলে নিলেন, সেটা অস্বাভাবিক ঠান্ডা। জামার তলায় পিঠের সেই অংশটুকু যেন কতক্ষণ জমে নিঃসাড় হয়ে রইল। সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে অরুণমামাকে দেখে নিলাম মাঝে মাঝে। তারপর খুব সাহসের সঙ্গে মনে-মনে তৈরি হতে থাকলাম। ঘুমঘুমিতে যখন এসেই পড়েছি, সহজে কাবু হব না। ভূতের সঙ্গে লড়াই করেই বীরের মতো প্রাণ বিসর্জন দেব।

কিন্তু অরুণমামা যে ভূত নন, তার প্রথম অকাট্য প্রমাণ, তিনি মারা তো যাননি। মারা গেলে খবর পেতাম। আত্মীয় বলতে তো যতদূর জানি, একমাত্র আমরাই আছি।

দ্বিতীয় অকাট্য প্রমাণ, ভূত কখনও এমন চমৎকার চা, কিংবা পাঁঠার মাংস রান্না করতে পারে না।

ভূতের রান্না খেয়ে হজম করাও সহজ কথা নয়। অথচ দিব্যি হজম হয়ে গেল। ভূতের পাশে শুয়ে রাত কাটিয়ে সকালে নিজেকে জ্যান্ত আবিষ্কার করাও কি যায়?

মোটেও না। সারারাত গভীর ঘুমে ঘুমিয়েছি। অরুণমামা ভূত হলে ঘাড় মটকাবার এমন সুযোগ কখনও ছাড়তেন না।

অতএব খুশি হলাম যত, সাহসও পেলাম তত। অরুণমামা যখন মানুষ, তখন ভজুয়া ও লছমিও মানুষ ছাড়া ভূত নয়। কিন্তু হায়…থাক। সে কথা পরে।

শুধু আগের স্টেশনমাস্টারের মেয়ে হতভাগিনী মঞ্জুর ব্যাপারটা ধাঁধা থেকে গেল। কতবার উঠোনের জবাফুলের গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম সারাটা সকাল। কিন্তু সে আর ফুল চাইতে এল না। ফ্ৰকপরা সুন্দর অতটুকু মেয়েটা-বয়স কত আর হবে? দশ-বারো বছরের বেশি নয়। তাকে আবার দেখতে পেলে জিগ্যেস করতাম, ভূত হওয়াটা সুখের, না দুঃখের? ভূতেরা থাকেই বা কোথায়?

একসময় হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, জবাফুলগুলো তো কালকের মতো আর সুগন্ধ ছড়াচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে গন্ধহীন হয়ে গেছে আবার।

তখন ভীষণ চমক জাগল। তাহলে কি মঞ্জুর আবির্ভাবের সঙ্গে সেই মিষ্টি গোলাপফুলের গন্ধের কোনও সম্পর্ক আছে?

নিশ্চয় আছে। মঞ্জু এসেছিল বলেই জবাফুলের মধুর গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এই গন্ধ মঞ্জুই নিয়ে আসে।

পরে কথাটা অরুণমামার কাছে তুললাম। উনি বললেন, হ্যাঁ। তুমি ঠিকই ধরেছ সুকু। মঞ্জুর বাবা ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। মা বাঙালি মেয়ে। তাই মেয়ের নাম মঞ্জু রেখেছিলেন। ভদ্রমহিলা কিন্তু খ্রিস্টান হয়েও দেবী চণ্ডিকার ভক্ত ছিলেন শুনেছি। ওই জবা গাছটা তারই লাগানো। নিয়মিত পুজোর ফুল দিয়ে আসতেন। পাঁচ মাইল রাস্তা একা যেতেন, একা ফিরে আসতেন। খুব সাহসী মহিলা ছিলেন। মঞ্জু ওইভাবে ট্রেনের চাকায় মারা পড়ার পর উনি নাকি পাগল হয়ে যান। তারপর আর তাঁর পাত্তা পাওয়া যায়নি। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্টেশনমাস্টার অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। পরে বদলি হয়ে যান আজিমাবাদ জংশনে। শুনেছি আবার বিয়ে করেছেন। ছেলেপুলেও হয়েছে।

এসব কথা শোনার পর মঞ্জুর মায়ের জন্যেও দুঃখ হল। মঞ্জু তো ইচ্ছে করলেই ওর মাকে খুঁজে বের করতে পারে। ভূতপ্রেত পারে না-ই বা কী? মাকে দেখা দিলে মায়ের প্রাণে শান্তি আসে। আচ্ছা, আবার যদি ফুল তুলতে আসে মঞ্জু, তাকে বলব তার মায়ের কথা।

কিন্তু আমার প্রতীক্ষা ব্যর্থ হয়। আর মঞ্জুকে দেখি না। জবাফুলও সুগন্ধ ছড়ায় না। এমনি করে দুটো দিন কেটে গেল।

এই দুদিনে আর কোনও অদ্ভুত ব্যাপার চোখে পড়ল না। তাই সাহস বেড়ে গেল। বিকেলে অনেকটা দূর অবধি রেললাইন ধরে একা বেরিয়ে এলাম। ফিরে এলে অরুণমামা একটু বকাবকি করলেন। তারপর বললেন বেড়াতে গেলে যেন ভজুয়াকে সঙ্গে নিয়ে যাই।

পরদিন বিকেলে মামার কথা মেনে ভজুয়াকে সঙ্গে নিয়েই বেরোলাম।

ভজুয়া চমৎকার বাংলা বলতে পারে। সে এই স্টেশনে দশ বছর ধরে আছে। অনেক ভুতুড়ে ব্যাপার দেখে-দেখে তার সয়ে গেছে। সেইসব গল্প শুনিয়ে কান ঝালাপালা করে দিল সারা পথ।

আধমাইল যাওয়ার পর দেখি একটা ছোট্ট নদী। জল শুকিয়ে বালির চড়া পড়ে আছে। এখানে-ওখানে ছোট ও বড় পাথর ছড়ানো আছে অজস্র। দূর থেকে মনে হবে, একপাল হাতি দাঁড়িয়ে বা বসে আছে চুপচাপ।

ব্রিজের ওপর দিয়ে লাইনটা চলে গেছে দূরের দিকে। আমরা নদীতে নেমে গেলাম। একটা পাথরে বসে সূর্যাস্ত দেখতে থাকলাম। ভজুয়া লোকটি দেখি মহা গল্পবাজ। অনবরত কথা বলছে। কান করছি না। একসময় সূর্যাস্তের পর সে হঠাৎ থেমে চাপাগলায় বলে উঠল, খোকাবাবু! আর বেশিক্ষণ এখানে থাকা ঠিক নয়। উঠুন, এবার ফিরে যাই।

বললুম,–কেন বলো তো? ভূত আসবে?

ভজুয়া কেমন হাসল। হেসে বলল, না খোকাবাবু, ভূতের ভয় আর আমি করি না। আমার বউ তো করেই না। আপনার মামাবাবুও না। কেউ আমরা ভয় পাই না ভূত দেখে।

–তাহলে আর থাকা ঠিক নয় বলছ কেন?

ভজুয়া ভয়ার্তচোখে নদীর ধারে একটা টিলা দেখিয়ে বলল, ভূতের চেয়ে সাংঘাতিক একজন ওখানে থাকে খোকাবাবু। চুরাইল কাকে বলে জানেন?

–চুরাইল? সে আবার কী?

–শাঁকচুন্নি না কী যেন বলে আপনাদের বাংলা মুল্লুকে? কালো কুচকুচে গায়ের রং। মুখটা পেঁচার মতো। লম্বা শরীর। চোখদুটোর পাতা নেই। তাই পলক পড়ে না। মেয়েদের মতো সাদা কাপড় পরে থাকে। আর খোকাবাবু, তার পাদুটো পিঠের দিকে, মানে উল্টো দিকে ঘোরানো। উল্টো পায়ে হেঁটে থির তাকিয়ে সে আপনার দিকে এগিয়ে আসবে। আপনাকে সে মন্তর দিয়ে আটকে ফেললে, আপনি নড়তেও পারবেন না। তারপর এমন একটা বিচ্ছিরি চ্যাঁচিনি চেঁচিয়ে উঠবে–তা শুনলে রক্ত ঠান্ডা হয়ে যাবে খোকাবাবু! তাই বলছি, এবার চলে আসুন।

হো-হো করে হেসে বললাম, ভজুয়া! তুমি ভেবো না। তোমাদের চুরাইল আমার একটুও ক্ষতি করতে পারবে না।

ভজুয়া পাথর থেকে নেমে দাঁড়াল। বলল, খোকাবাবু, আপনার ভালোর জন্যে বলছি। এখন চুরাইলটার বেরুবার সময় হয়েছে।

জেদ ধরে বললাম, তুমি যাও ভজুয়া, আমি যাব না।

ভজুয়া আবার কী বলতে যাচ্ছে, আচমকা সেই টিলার দিকে তীব্র চেরা গলার চঁচানি শোনা গেল। কতকটা এই রকম—আঁ–ইঁ-ইঁ-ইঁ-ইঁ! ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁঃ।

ভজুয়া ঠিক বলেছিল। ওই চিৎকার কখনও মানুষের তো নয়ই, কোনও জন্তুরও নয়। পৃথিবীর কোনও শরীরী প্রাণী অমন অমানুষিক চিৎকার করতেই পারে না। ওই চিৎকার শুনলে সত্যি গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায়। হৃৎপিণ্ডে খিল ধরে। শ্বাসপ্রশ্বাস ফেলতেও মনে থাকে না।

ভজুয়াকে দেখলাম, চোখের পলকে ব্রিজের ওপর পৌঁছে গেছে। আমার পা দুটো আটকে গেছে নদীর বালিতে–পাথর থেকে নেমেছি, কিন্তু পা তোলার ক্ষমতা নেই। সেই অবস্থায় টিলাটার দিকে তাকিয়ে দেখি, হ্যাঁ–একটা আবছা মৃর্তি তরতর করে নেমে আসছে আমার দিকে!

ওই তাহলে চুরাইল এবং সত্যি আমি আটকে গেছি। নড়তেও পারছি নে।

কয়েক মুহূর্ত পরে নদীর কিনারায় পৌঁছে গেল চুরাইলটা। তারপর পাথর ডিঙিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এল। যে পাথরে বসেছিলাম একটু আগে, সেটার ওপর এসে দাঁড়াতেই তাকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম।

ভজুয়া ঠিকই বলেছিল। অমন কুৎসিত-ভয়ংকর চেহারা কখনও দেখিনি– কল্পনাও করিনি। এই আবছা অন্ধকারে তার চোখজোড়া জ্বলজ্বল করছে। নিষ্পলক চোখ। তারপর সে বিকট চিৎকার করে উঠল আগের মতো : আঁ-ইঁ-ইঁ-ইঁ! ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ! আমার কানে যেন ঠান্ডা বরফের সূচ ঢুকে গেল।

সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।

যখন জ্ঞান হল, বুঝতে পারলাম না কোথায় আছি। একটু পরে যেন টের পেলাম, শক্ত মাটিতে শুয়ে আছি। এবং কে আমার মুখে জলের ঝাঁপটা দিল। তখন চোখ খুলে দেখি একটা পিদিম জ্বলছে। বদ্ধ এবং ছোট্ট একটা জায়গায় আমি নগ্ন পাথুরে মেঝেয় শুয়ে আছি।

ধুড়মুড় করে উঠে বসতেই কে হিন্দিতে বলল,–তবিয়ত ঠিক হ্যায় বেটা? শরীর ঠিক আছে তো?

একজন লেংটিপরা জটাজুটধারী সাধুকে দেখতে পেলাম, আমার পিছনে বসে আছেন। তাঁর এক হাতে একটা পিদিম, অন্যহাতে জলের লোটা। এবার লোটাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,–পিও বেটা। জল খাও!

ঢকঢক করে জল খেয়ে মাথা এবার পরিষ্কার হয়ে গেল। বললাম, আমি কোথায় আছি?

সাধু বললেন, আমার ডেরায় আছে বাবা। কোনও ভয় নেই।

–কেমন করে এলাম এখানে?

–আমি তুলে নিয়ে এসেছি। নদীর চড়ায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলে। ভাগ্যিস, আমি তখন যাচ্ছিলাম নদীর বালি খুঁড়ে জল আনতে। নয়তো খুব বিপদে পড়ে যেতে। এইসব পাহাড়ে খুব চিতাবাঘের উপদ্রব আছে। মড়া ভেবে তোমাকে খেয়ে ফেলত! ভগবানের দয়ার তুমি জোর বেঁচে গেছো বেটা। বলে সাধু হাসতে থাকলেন।

বললাম, তাহলে দেখছি চুরাইলটা আমাকে মেরে ফেলতে পারেনি। সাধু গম্ভীর হয়ে তাকালেন আমার দিকে। বললেন,–চুরাইল!

–হ্যাঁ সাধুবাবা। আমি একটা চুরাইলকে দেখে আর তার চিৎকার শুনে জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম।

সাধু আবার হো-হো করে হেসে উঠলেন,–ও, বুঝেছি তুমি কাকে চুরাইল বলছ! বেটা, বোকা লোকেরা তাই রটিয়েছে বটে। ও চুরাইল নয়, তোমার-আমার মতোই মানুষ!

–মানুষ! অবাক হয়ে বললাম।

–হ্যাঁ বেটা। ও এক হতভাগিনী মেয়ে। পাগলি। এই পাহাড়ের একটা গুহায় থাকে। খিদে পেলে দূর-দূরান্তের গ্রামে রাতে গিয়ে খাবার চুরি করে এনে খায়। কারণ ও ভিক্ষে চাইলে কেউ দেয় না। ওর চেহারাটা আগুনে পুড়ে বীভৎস হয়ে গেছে।

–কে সাধুবাবা?

–ওর একমাত্র মেয়ে ঘুমঘুমি স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায়। সেই শোকে ও পাগলিনী হয়ে কোথায় চলে গিয়েছিল। পরে ফিরে এল যদি, কে ওই নির্জন স্টেশনে ওকে খেতে-পরতে দেবে? পেটের জ্বালায় বেচারি গ্রামে ভিক্ষে করতে যেত আর ওর সেই মেয়ের বয়সি কোনও মেয়ে দেখলেই তার দিকে তাকিয়ে থাকত। একবার হল কী, বিহারের এইসব গাঁয়ের অশিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন সব মানুষ ওকে ডাইনি ভেবে আগুনে পুড়িয়ে মারবার চেষ্টা করল। দৈবাৎ সে-গ্রামে পুলিশ এসেছিল সেদিন। পুলিশ এসে হতভাগিনীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারপর ঘা সেরে উঠলে সে পালিয়ে আসে আবার ঘুমঘুমিতে।

সাধুবাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফের বললেন, ওর ওই এক বিদঘুঁটে স্বভাব বেটা। মানুষকে ভয় দেখিয়ে মজা পায়। কিন্তু মাঝে-মাঝে শুনি অনেক রাতে মেয়ের নাম ধরে কাঁদছে। আমি সন্ন্যাসী মানুষ বেটা, কিন্তু সে কান্না শুনলে আমিও স্থির থাকতে পারিনে।

বললাম, কিন্তু ওঁর স্বামী তো বেঁচে আছেন শুনলাম। জংশনে না কোথায় যেন আছেন সেই অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক!

সাধুজী বললেন,–সে খোঁজ আমি কি নিইনি? তিনি বছর পাঁচেক আগে চাকরি ছেড়ে সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন। সে ঠিকানা যোগাড় করতে পারিনি। যাকগে, রাত অনেক হয়েছে। এখন এই সামান্য রুটিটুকু খেয়ে ভগবানের নাম করে শুয়ে পড়ো বেটা। বহুত তকলিফ হবে জানি। কিন্তু কী আর করবে? এ তো সাধু-সন্ন্যাসীর গুহা। এখন নির্ভয়ে ঘুমোও। সকালে তোমার পরিচয়, হালহদিশ শুনব। এখন তুমি অসুস্থ।-বলে সাধুজি একটা কম্বল পেতে দিলেন। কোণা থেকে শালপাতায় একটা রুটি এনে সামনে ধরলেন।

বললাম, বরং আমায় স্টেশনে পৌঁছে দিন সাধুবাবা। মামা খুব ভাবনায় পড়বেন আমি না ফিরলে।

সাধুজি অবাক হয়ে বললেন,–স্টেশন? কোন স্টেশন? আর তোমার মামাই বা কে?

–কেন? ঘুমঘুমি স্টেশন। আমার মামা সেখানকার স্টেশনমাস্টার।

সাধুজি সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, কী বলছ তুমি? ঘুমঘুমি তো কবে থেকে পোড়ো হয়ে আছে! সাইনবোর্ডে আর ভাঙা স্টেশনঘরের গায়ে বড় বড় ইংরিজি হরফে লেখা আছে : অ্যাবান্ডানড।

আমি হতভম্ব হয়ে বললাম, অসম্ভব। আজ তিন দিন ধরে সেখানে আছি। ঘুমঘুমির টিকিট কেটেই তো সেখানে পৌঁছেছিলাম।

সাধুজি হো-হো করে হেসে উঠলেন আবার,-এ ছেলেটার মাথা গড়বড় হয়ে গেছে। ঘুমঘুমি স্টেশনের নামে টিকিটই নেই। তুমি নিশ্চয় ভুল করছ। হা–ঘুমঘুমির টিকিট চাইলে আজিমাবাদ জংশনের বাবুরা আনাড়ি লোক ভেবে পরের স্টেশনের টিকিট দেন শুনেছি। পরের স্টেশনের নাম কী জানো? ঝুমঝুমি।

টিকিট তো আমার এই প্যান্টের পকেটেই ছিল। তক্ষুনি বের করে অবাক হয়ে দেখি, লেখা আছে ঝুমঝুমি। আবার অজ্ঞান হয়ে যাব মনে হল।

সাধুবাবার সঙ্গে পরদিন সকালে এক মাইল হেঁটে গিয়ে সত্যি দেখেছিলাম, ওটা একটা অ্যাবন্ডানড বা পরিত্যক্ত স্টেশন। যাত্রী ওঠানামা করে না বলে আজিমাবাদনওলগড় ব্রাঞ্চের এই স্টেশনটা কবে বাতিল হয়ে গেছে। আর কলকাতায় ফিরে গিয়ে শুনি, মা চলে গেছেন পাটনা। পাটনা রেলওয়ে হাসপাতাল থেকে টেলিগ্রাম গিয়েছিল, ঝুমঝুমির স্টেশনমাস্টার অরুণ রায় করোনারি থ্রম্বসিসে মারা গেছেন! হ্যাঁ, ভাঙা স্টেশন কোয়ার্টারে কোনও জবা গাছও ছিল না।

Anuprerona
Anupreronahttps://www.anuperona.com
Read your favourite literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here


Most Popular

Recent Comments

প্রদীপ কুমার বিশ্বাস on পরীক্ষা – হুমায়ূন আহমেদ
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • toto togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • desabet
  • desabet
  • rejekibetapk77.online -hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • bandar togel
  • slot gacor
  • judi bola
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot 5k
  • slot depo 5k
  • toto slot
  • slot gacor
  • toto
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • hongkong pools
  • depo 5k
  • situs toto
  • situs toto
  • situs togel
  • situs togel
  • hk pools
  • situs toto
  • situs togel
  • bandar togel
  • slot gacor
  • bandar togel
  • desabet
  • toto togel
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto slot
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4d
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto slot
  • toto slot
  • slot gacor
  • judi bola
  • toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel 4D
  • kudamania
  • rejekibet
  • situs togel
  • slot gacor
  • toto togel
  • Slot Gacor Hari Ini
  • toto togel
  • kudamania
  • slot gacor
  • toto togel
  • slot dana
  • situs toto
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • situs toto
  • slot resmi
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot hoki
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot88
  • slot gacor
  • slot gacor
  • judi bola
  • slot hoki
  • slot hoki
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • kudahoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desamania
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • togel
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • judi bola
  • judi bola
  • situs hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto togel
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs toto
  • situs togel
  • toto slot
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • situs togel
  • situs togel
  • situs togel
  • bandar togel
  • slot resmi
  • slot gacor
  • slot hoki
  • slot gacor
  • slot resmi
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto slot
  • slot gacor
  • situs toto
  • slot gacor
  • slot dana
  • hk pools
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • toto togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot maxwin
  • situs togel
  • slot gacor
  • situs toto
  • situs togel
  • slot gacor
  • desa bet
  • desabet
  • Kudahoki
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • situs togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot maxwin
  • toto togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot gacor
  • slot resmi
  • situs hk pools
  • desabet
  • slot gacor
  • slot hoki
  • desabet
  • desabet
  • ayamjp
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • slot gacor
  • togel
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • situs judi
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • togel
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • situs togel
  • desa bet
  • desa bet
  • desa bet
  • desa bet
  • desa bet
  • desa bet
  • desa bet
  • desa bet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • kudahoki
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • kudahoki
  • desabet
  • slot gacor
  • slot gacor
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • desabet
  • togel
  • kuda hoki
  • desabet