জাদুর পুতুল ও তিন গোয়েন্দা – রকিব হাসান

'জাদুর পুতুল ও তিন গোয়েন্দা' রকিব হাসান

অলস ভঙ্গিতে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড আটলান্টা’য় ঘুরে বেড়াচ্ছে তিন গোয়েন্দা। বেড়াতে এসেছে রাসেদ পাশার সঙ্গে। তিনি এসেছেন জরুরী কাজে। রাস্তার মাটির নিচে কিছু দোকানপাট আর ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নিয়ে গড়ে উঠেছে জায়গাটা। একটা দোকান থেকে লেটেস্ট হিট অ্যালবাম কিনেছে রবিন। কিশোরের হাতে বুকস্টোর থেকে কেনা একটা ব্যাগ। মুসা কিছুই কেনেনি। ইয়া বড় এক কোন আইসক্রিম খাচ্ছে।

‘বাপরে, চারটে বাজে,’ ঘড়ির দিকে তাকালো কিশোর, ‘চলো হোটেলে যাই। গোসল করা দরকার। চাচার সাঁথে ডিনার। মনে আছে?’

মাথা ঝাকাল মুসা আর রবিন দু’জনেই। মনে আছে।

অদ্ভুত দোকানটা মুসার চোখে পড়ল প্রথমে। দোকানের সামনে বড় জানালা। কালো রঙ করা। এক কোনায় প্রমাণ সাইজের একটা নরকঙ্কাল ঝুলছে। ডিসপ্লেতে ঝাড়ফুঁক, ভূত-প্রেত, জাদু-মন্ত্র ইত্যাদির ওপরে নানা বই সাজানো।
‘অ্যাই, কিশোর,’ আঙুল তুলে দেখাল মুসা। ‘দেখো, সাইনবোর্ডটা। এখানে হাত দেখা হয়। চলো না, আমাদের ভাগ্যে কি আছে জেনে আসি।’

মুচকি হাসল কিশোর। আবারও ভাগ্য গণনা! গত বারের কথা ভুলে গেছ? জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, আমাদের মাথায় শিং গজীবে, তিনজনেরই।’

‘সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি,’হাসল রবিন, ‘এবার হয়তো বলবে লেজ গজাবে।’

স্টোরের ভেতরে ঢুকল ওরা। ডাইনীর গুহার আদলে সাজানো হযেছে ঘরটা। মৃদু আলো ধীরে ধীরে রঙ বদলাচ্ছে, আশেপাশের সব কিছু ভূতুড়ে লাগছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে মিউজিক। দেয়ালে অদ্ভুত সব জিনিস সাজানো। কতগুলো বাক্স দেখা গেল! সেগুলোতে নানা ধরনের লেবেল সাটানো-’প্রেমের আরক’, ‘ঘৃণার আরক’, ‘কর্মজীবনে উন্নতির আরক’ ইত্যাদি । বড় বড় খোলা পাত্র আছে কত গুলো। অদ্ভুত সব জিনিসে ভরা। লেখা দেখে বোঝা যায় ওগুলোতে আছে কুকুরের চুল, গোসাপের চোখ, ময়ূরের যকৃৎ, সাপের খোলস এবং ম্যানড্রেক গাছের শিকড়।

‘শুকনো মাথাগুলো দেঁখো,’ একটা কাচের বাক্সে আঙুল দিয়ে দেখালো, ‘ভয়ঙ্কর লাগছে না?’
‘সাবধান না হলে আমাদের দশাও ওগুলোর মতই হতে পারে,’ঠাট্টা করল কিশোর।
মুসা বলল, ‘জায়গাটা জানি কেমন লাগছে আমার। ঠিক বোঝাতে পারব না।’

‘হ্যা, তা ঠিক,’ মাথা দোলাল রবিন। এই ভূতুড়ে আবহর মধ্যে গা ছমছম করছে ওরও।
‘ভয়ের কিছু নেই, এখানকার সব কিছুই সাজানো,’ নিজেকে মনে করিয়ে দিল ও।

‘মনে হচ্ছে যেন অ্যাজটেকের মন্দির। বলি দেয়ার ঘর,’ মন্তব্য করল কিশোর, এদিক ওদিক তাকাল, ‘কিন্তু কেউ নেই নাকি এখানে?’

যেন তার কথার জবাবেই খসখসে একটা কণ্ঠ ভেসে এল ঘরের দূর প্রান্ত থেকে, ‘কি চাই?’ ছায়ার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছে এক মহিলা। পরনে গোড়ালি ঢাকা কালো আলখেল্লা, লম্বা কালো চুল ঢেকে রেখেছে মুখের একটা পাশ।

মহিলার কালো চোখের তীর্যক দৃষ্টি, সবুজ আইশ্যাডো আর ঠোটের লাল টকটকে লিপস্টিকে তাকে ভ্যাম্পায়ারের মত লাগছে। ‘হাত দেখাতে চাই,’ ভয়ে ভয়ে বলল মুসা। ‘কত লাগবে?’

‘দশ ডলার,’ জবাব দিল মহিলা।

‘আমার কাছে চার ডলার আছে, বলল মুসা। ‘চলবে এতে?’

ইঙ্গিতে কিশোর আর রবিনকে দেখিয়ে মহিলা বলল, ‘তোমার বন্ধুদের কাছ থেকে নিতে পারো না?’
‘তিনজনে মিলিয়ে তিরিশ তো?’ মাথা নাড়ল কিশোর, ‘আমাদের কাছেও অত টাকা নেই। চলো, মুসা, আজ আর হাত দেখানো হলো না।’

হাত তুলল মহিলা, তাড়াতাড়ি বলল, ‘তোমাদের আমার ভালো লেগেছে। যা আছে, তাতেই দেখে দেব। কে
আগে দেখাবে?’ ভ্রু কুচকে কিশোরের দিকে তাকাল মহিলা, ‘তুমি?’
মাথা কাত করল কিশোর। ‘আমার আপত্তি নেই।’
‘এসো আমার সঙ্গে।’

পেছনের ঘরে ঢুকল মহিলা।
‘খাইছে।’ চমকে গেল মুসা।

এ ঘরটা আগেরটার চেয়েও ভূতুড়ে। পুরো ঘর কালো মখমলে মোড়া। একটা বেগুনি রঙের বাতি জ্বলছে । সেই আলোতে সবার দাত আর চোখের মণিও বেগুনি দেখাল। ভয়ঙ্কর লাগল তাতে। হঠাৎ করেই মনে হতে, লাগল তিন গোয়েন্দার, এখান থেকে আর বেরোতে পারবে না কোনদিন। সময় থাকতে পালাবে কিনা চিন্তা করতে লাগল মুসা। কিন্তু মহিলা ততক্ষণে নিচু, একটা টেবিলে বসে পড়েছে। ইশারা করল তার পাশে বসতে। টেবিলটা কালো মখমলে মোড়া। ওপরে একটা কাচের বড় বল। কিশোরের হাতের তালু মেলে ধরল মহিলা। চেয়ে রইল অনেকক্ষণ। টেবিলের সামনে দুটো কুশনে বসেছে রবিন আর মুসা। গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখছে মহিলার কাজকর্ম।

‘তোমার বয়স আঠারো,’ কিশোরের হাত দেখে অবশেষে বলতে শুরু করল মহিলা, ‘তুমি সাগরের ধারের কোনও শহরে, বড় একটা বাড়িতে বাস করো। সাংঘাতিক বুদ্ধিমান তুমি, ছাত্র হিসেবে ভাল, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র আর কম্পিউটারে আগ্রহ। আরও একটা কাজে তুমি দক্ষ…… কারও ওপর নজর… অর্থাৎ সতর্ক দৃষ্টি রাখা।’ এক টুকরো কাগজ আর পেন্সিল নিল সে। ‘তোমার জন্ম তারিখ কবে বলো।’ বলল কিশোর। মহিলা তারিখটা লিখে কাগজের ওপর কতগুলো লাইন টানল। লাইনগুলো কাটাকুটি করে তারপর আঁকল একটা বৃত্ত। ‘ক্রিস্টাল বলের দিকে তাকাও!’ হঠাৎ বলে উঠল সে। সেও চেয়ে থাকল ক্রিস্টাল বলের দিকে। ঝাড়া এক মিনিট ওদিকে তাকিয়ে থাকার পরে উত্তেজিত হয়ে উঠল সে। ‘তুমি গোয়েন্দা!’ রেগে গেছে মহিলা, ‘তোমরা এখানে কেন এসেছ? আমার লাইসেন্স আছে। আমি অন্যায় কিছু করছি না। পুলিশ আমার কিছু করতে পারবে না।’

‘আমি পুলিশের লোক নই, ম্যা’ম, তাকে আশ্বস্ত করল কিশোর, ‘আমরা আসলে শখের গোয়েন্দা। আপনার কাছে এসেছি শুধুই হাত দেখাতে। কোন মতলব নেই আমাদের।’

‘অ’ নিঃশ্বাস ফেলল মহিলা তাহলে আর কোন সমস্যা নেই। অনেক প্রাইভেট ডিটেকটিভ আসে আমি তাদের নানা সাহায্য করি। দরকার হলে তোমরাও আমাকে ভাড়া করতে পারো! তোমাদের রহস্য উদঘাটনে অনেক সাহায্য করতে পারব।’

‘মনে হচ্ছে আপনার সেই ক্ষমতা আছে,’সন্দিহান সুরে বলল কিশোর। ‘আপনি আমাকে আগে কখনও দেখেননি। অথচ আমার সম্পর্কে সব বলে দিলেন।’

‘আসলে পত্রিকায় আমাদের ছবি দেখেছে,’ বলল রবিন, ‘আমাদের কেসের কথা তো মাঝে মাঝেই ছাপা হচ্ছে পত্রিকায়।’

কড়া চোখে রবিনের দিকে তাকাল মহিলা। চেঁচিয়ে, উঠল, ‘তোমাদের নামও কোনদিন শুনিনি আমি। যা বলেছি, আমার জাদুর ক্ষমতার জোরেই বলেছি। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না, না? ঠিক আছে। হাত দেখা শেষ করি আগে। তারপর ঠিকই বিশ্বাস করবে।’

আবার ক্রিস্টাল বলের দিকে তাকালো মহিলা। ‘আমি মোটর সাইকেল দেখতে পাচ্ছি। দুটো মোটর সাইকেল। তোমাদের মধ্যে একজনকে পেছনে বসিয়ে আনা হয়েছে,’ আবার উত্তেজিত শোনাল তার কণ্ঠ। ‘গোয়েন্দাগিরি তোমরা আগেও বহুবার করেছ। তবে এবার তোমাদের সামনে বিপদ দেখতে পাচ্ছি আমি। ভয়ানক বিপদ!’
‘অ্যাক্সিডেন্ট’ জিজ্ঞেস করল কিশোর।

‘না। নতুন কোন কেসে জড়িয়ে পড়বে তোমরা। দেখতে পাচ্ছি-দেখতে পাচ্ছি এক চোখো একটা লোককে। নীল চোখ। সাদা গাড়িতে চড়ে সে। খুবই বিপজ্জনক লোক। তার ধারে কাছেও যেযো না। লোকটার কাছ থেকে সব সময় দূরে থাকবে।’

মহিলার কন্ঠ জোরালো হয়ে উঠল। চেহারা দেখে মনে হলো সমাধিস্থ হয়ে পড়েছে সে। চোখ বোজা। যেন জানে না কোথায় আছে। ‘সিলভার স্টার থেকে সাবধান!’ ফিসফিস করল সে। ‘ওখানে যেযো না।’
‘সিলভার স্টার কি?’ প্রশ্ন করল রবিন।

জবাব দিলো না মহিলা । খামচে ধরল কিশোরের হাত, ব্যথা পেল কিশোর ।
‘এক চোখো লোকটার কাছ থেকে সাবধান!’ ভারী নিঃশ্বাস পড়ছে মহিলার। ‘সিলভার স্টার থেকে সাবধান! আমি – আমি সোনা দেখতে পাচ্ছি! অনেক সোনা । কিন্তু ওই সোনা অশুভ ধরতে যেয়ো না। ধরলে… ধরলে… মৃত্যু হবে। অই সোনাটাকে ঘিরে আছে মৃত্যু আর……’

হঠাত চোখ খুলল মহিলা বিষ্ফোরিত চাউনি। কিশোরের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে চেঁচিয়ে উঠল, ‘সিম্বু! সিম্বু আছে ওখানে! ওর কাছে যেযো না!’ তারপরই চোখ উল্টে দিয়ে, অজ্ঞান হয়ে কালো মখমলে ঢাকা মেঝেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল সে।

‘সর্বনাশ!’ চেঁচিয়ে উঠল কিশোর, ‘মুসা, রবিন-দেখো তো এখানে পানি-টানির বাবস্থা আছে কিনা। পানি, নিয়ে এসো।’
জ্যোতিষীর জ্ঞান ফেরাতে চেষ্টা করতে লাগল কিশোর। সিঙ্ক থেকে তোয়ালে ভিজিয়ে নিয়ে এল রবিন। ভেজা তোয়ালে দিয়ে তার মুখ মুছে দিতে লাগল কিশোর।

‘প্রথমে ভেবেছিলাম ভঙ্গি ধরেছে,’ কিশোর বলল। ‘এখন তো দেখি সত্যি সত্যি বেহুঁশ।’

‘কিন্তু মহিলা যেন কি বলছিল,’রবিনের কণ্ঠে উদ্বেগ।
‘হুশ ফিরলে জিজ্ঞেস করব,’ বলল কিশোর!
কিছুক্ষণ পরে চোখ মেলে তাকাল মহিলা।

‘আপনি ঠিক আছেন তো?’ উৎকন্ঠিত গলায় জানতে চাইলো কিশোর।
ধীরে ধীরে মাথা দোলাল জ্যোতিষী। ‘ভীষণ শক্তিশালী কম্পন অনুভব করছি আমি! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আটলান্টা ছেড়ে চলে যাও তোমরা। তোমাদের অনুরোধ করছি আমি।
‘সিম্বুটা কে?’ কিশোরের প্রশ্ন।

‘কে, জানতে চাও?’ আস্তে উঠে দাঁড়াল মহিলা, ‘এসো আমার সঙ্গে।’
তিন গোয়েন্দাকে নিয়ে বাইরের ঘরে চলে এল সে। শেলফ থেকে কিশোরকে একটা বই বের করে দিল মহিলা । ‘এটা পড়ো। সিম্বু কি জানতে পারবে। না, দাম দিতে হবে না। বইটা তোমাদের এমনিই দিলাম। এখন যাও। আর কোনদিন এদিকে এসো না। আমি গণনায় দেখতে পাচ্ছি, তোমাদের ভাগ্য খারাপ!’

জবাবে কিছু বলতে যাচ্ছিল কিশোর, মহিলার চেহারা দেখে চুপ হয়ে গেল। ভয় ফুটে উঠেছে মহিলার মুখে। তাতে কোন ভণিতা নেই।

‘চলো,’ দুই সহকারীকে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল কিশোর দরজার কাছে গিয়ে ঘুরে দাড়াল। হাত নেড়ে মহিলাকে বলল, ‘গুড-বাই। আ্যান্ড থ্যাংক ইউ।’

‘উফ, বাচলাম!’ অদ্ভুত দোকানটা থেকে বেরিয়ে এসে যেন ছাপ ছাড়ল মুসা। ‘অভিজ্ঞতা একটা হলো বটে!’

রবিন বলল, ‘তুমিই তো ঢুকতে চাইলে’ চিন্তিত ভঙ্গিতে ঠোট কামড়াল কিশোর। ‘কি যেন রয়েছে ..ওই মহিলা আর তার দোকানের মধ্যে। আরেকটু হলেই বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম তার কথা।’

ভরু কুঁচকাল মুসা অবাকহয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘তারমানে, বিশ্বাস করোনি?’

হোটেলে ফিরে কিশোর গেল বাথরূমে। মুসা বিছানায় চিৎ। আর রবিন শুয়ে শুয়ে মহিলার দেয়া বইটা পড়তে শুরু করল। বইটি ভুডু চর্চার ওপরে লেখা।

ভুড়ু-তত্ত্বের জন্ম আফ্রিকায় হলেও হাইতি দ্বীপে এই রহস্যময় ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে চর্চা হয় বেশি। জাদুমন্ত্র, ঝাড়-ফুঁক, নরবলি -এ সবের সাহায্যে কিভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয় তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বইটাতে। গোসল সেরে বেরিয়ে এল কিশোর।

রবিন বলল, ‘জাদু করে তোমাদের যে কারও হাত এখন ভেঙে দিতে পারি আমি। এ জন্যে শুধু একটা পুতুল দরকার হবে আমার। পুতুলের হাতে সুচ ঢুকিয়ে দিলে মনে হবে তোমাদের হাতেও সুচ ঢুকে গেছে। বাবারে- মারে বলে টেঁচানো শুরু করবে।’

লাফ দিয়ে উঠে বসল মুসা। ‘না না, প্লীজ, এখন ওকাজটিও কোরো না ভাই! পাশা আঙ্কেলের সঙ্গে ডিনারের দাওয়াতটা আগে সেরে নিই। হাতে ব্যথা থাকলে খাওয়াটা আর জমবে না।’

হেসে ফেলল কিশোর আর রবিন, ‘তবে, এ বিদ্যেটাতে যদি বিশ্বাস না থাকে তোমার,’ বলল রবিন, ‘তাহলে আর কোন ভয়, নেই। তোমার ক্ষতি হবে না স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মুসা। ‘তাহলে এটা কি আর এমন ক্ষমতা হলো। পচা জাদু।’

‘সিম্বু কি জিনিস জানতে পেরেছ?’ আলমারি থেকে পরিষ্কার একটা শার্ট বের করল কিশোর।

‘ছোট মোটাসোটা একটা পুতুলের নাম সিম্বু’ রবিন বলল। ‘ভয়ঙ্কর চোখ জোড়া কোটর ঠেলে বেরিয়ে আছে বাইরে। এই যে, ছবিও আছে।’

তার কাঁধের ওপর দিয়ে তাকাল কিশোর।

সিম্বু দু’হাত শূন্যে তুলে রেখেছে। প্রতিটি, হাতে দশটা করে আঙুল। পা জোড়া ফাঁক করা। পায়েও দশটা করে মোট বিশটা আঙুল। কোমরে চওড়া বেল্ট।

‘বাপরে, চেহারা বটে!’ মন্তব্য করল কিশোর। ‘তা এই সিম্বুটা আসলে কে?’

‘দুর্লভ একটা চরিত্র,’ ব্যাখ্যা করল রবিন, ‘সিম্বু তার মনিবের ধনসম্পদ পাহারা দেয়। এ ধরনের পুতুল এখন পাওয়া যায় না বললেই চলে।’

ইদানিংসিম্বুর আদলে বেশ কিছু মূর্তি তৈরী করা হয়েছে। তবে কোনটাই আসল সিম্বুর ধারে কাছে যেতে পারেনি!’ বইটা কিশোর দিল ও। ‘নাও, তুমি পড়তে থাকো। আমি এই ফাঁকে গোসলটা সেরে আসি।’

কিশোর বসল বই নিয়ে। মুসাকে পড়ে শোনাল, ‘সিম্বুর কাজ হলো সব সময় তার প্রভুর পাশে থাকা, তাকে খারাপ লোকের হাত থেকে রক্ষা করা। কেউ সিম্বুর ক্ষতি কিংবা সে যাকে পাহারা দেয় তার ক্ষতির চেষ্টা করলে, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ছাড়ে।

একবার হাইতিতে দুটো সিম্বুর পুতুল পাওয়া গিয়েছিল। মিউজিয়ামে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। তারপর থেকে ঘটতে শুরু করল অঘটন। যারা ওগুলোকে খুঁজে পেয়েছিল রহস্যময় ভাবে ভয়ঙ্কর মৃত্যু ঘটল তাদের। তাতেও অঘটন বন্ধ হলো না। মিউজিয়ামের পানির পাইপ বিস্ফোরিত হতে লাগল, ছাতের ভারী আস্তর খসে পড়ে কাঁচের বাক্স চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। বাধ্য হয়ে শেষে যেখান থেকে পুতুল দুটো আনা হয়েছিল, ফিরিয়ে দিয়ে এল মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। অবশেষে বন্ধ হলো দুর্ঘটনা।’

খানিক পরে মুসা আর রবিনকে নিয়ে হোটেলের লবিতে চলে এল কিশোর! রাশেদ পাশা ওখানেই আছেন। কিশোরের হাতে একটা ব্রীফ্কেস। ওতে তার কিছু প্রযোজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে। তিন গোয়েন্দাকে নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে এলেন রাশেদ পাশা। রাস্তায় নেমে হাত তুলে ট্যাক্সি ডাকলেন।

‘সিলভার স্টারে যাব, জানালেন তিনি ড্রাইভারকে।
‘কি!’ চমকে উঠল কিশোর। ‘কোথায় যাচ্ছি?’

‘এই তো কাছের একটা রেস্টুরেন্টে।’ বললেন রাশেদ পাশা। ‘তোদের পছন্দ হবে। সিলভার স্টারের সী-ফুডও চমৎকার।’
তিন গোয়েন্দা আর কিছু না বলে চুপচাপ উঠে বসল ট্যাক্সিতে। রেস্টুরেন্টে ঢুকে কোণের দিকে একটা টেবিল দখল করল। বিকেলের ঘটনাটা চাচাকে জানাল কিশোর।

‘সাদা গাড়িতে চড়ে নীল চোখো লোক?’ আনমনা ভঙ্গিতে বললেন রাশেদ পাশা, ‘এক চোখো। মনে হয় বুঝতে পারছি মহিলা কার কথা বলেছে।’

‘কার কথা?’ অবাক হলো কিশোর।

‘লোকটার নাম পিয়েরে দুপা,’ বললেন রাশেদ পাশা। ‘নষ্ট একটা চোখ ঢেকে রাখে সাদা কাপড়ের টুকরো দিয়ে। সাদা মার্সিডিজ চালায়! ঠাণ্ডা মাথার ভয়ঙ্কর এক খুনী।’
‘খাইছে!’ বলে উঠল মুসা।

‘যখন পেশাদার গোয়েন্দা ছিলাম, দুঁপারসাথে বেশ কয়েকবার টক্কর লেগেছে আমার,’ রাশেদ পাশা বললেন। ‘কিন্তু লোকটা বান মাছের মত পিচ্ছিল। ওকে ধরার, জন্যে জাল গুটিয়ে এনেছি যতবার, ততবারই ও জাল ছিড়ে বেরিয়ে গেছে। ওর বিরুদ্ধে ডাকাতির বহু অভিযোগ এনেছি, লাভ হয়নি। সব সময় ফস্কে গেছে। মহা ধুরন্ধর এক লোক। তার কাজে যে-ই বাধা হয়ে দাড়িয়েছে, পথের কাটা দূর করতে দ্বিধা করেনি কখনোই।’

‘ওর বিশেষত্ব কি?’ জানতে চাইল কিশোর–

‘আ্যান্টিক চোর,’ জবাব, দিলেন রাশেদ পাশা। ‘বিবেক বর্জিত কিছু সংগ্রাহকের রাছে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে, চড়া দামে। ধরা পড়ে যাবার ভয়ে অবশ্য ওসব সংগ্রাহক তাদের সংগ্রহের প্রদর্শনী করার সাহস পায় না কখনোই। কি এক সাংঘাতিক নেশায় যেন তবু কেনে ওরা।

‘মহিলা জ্যোতিষী সিম্বুর কথা বলেছিল,’ বলল কিশোর। ‘আর সিম্বু হলো দামী অ্যান্টিক। সব খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে।’
মাথা ঝাঁকালেন রাশেদ পাশা। তার কপালে ভাঁজ পড়ল। ‘কিন্তু দুপা কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ। সিম্বুর অভিশাপ থেকে একশো এমবি দূরে থাকার, কথা তার। অবশ্য প্রচণ্ড লোভ তাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে সেটা অনুমান করা কঠিন।’

‘আঙ্কেল, জ্যোতিবী মহিলা যে সব ভবিষ্যদ্বাণী করল, সেগুলো কি বিশ্বাস হয় আপনার?’ জিজ্ঞেস করল মুসা।

শ্রাগ করলেন রাশেদ পাশা। ‘কে জানে! হয়তো কিছু ঘটার আভাস, পেয়েছে মহিলা। বাস্তব প্রমাণ। অভিশাপ, ভবিষ্যদ্বাণী-এ সব জিনিসে বিশ্বাস নেই আমার। তবে জগতে ব্যাখ্যার অতীত বহু জিনিসই ঘটে। সব কিছুই হেসে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই।’

‘সিলভার স্টারে আসার পর পর থেকেই মনটা খচখচ করছে আমার,’ দীর্ঘশ্বাস ফেলল রবিন।
‘আমার ধারণা,’ কিশোর বলল, ‘দুপা যতই কুসংস্কারাচ্ছন্ন হোক না কেন সিম্বুকে পাবার লোভ ছাড়তে পারবে না কিছুতেই।’

কিশোরের কথা কানে গেলো না রবিনের। সে কিশোরের কাঁধের ওপর দিয়ে তাকিয়ে আছে, চোখ বড় বড় হয়ে উঠেছে বিস্ময়ে। রবিনের দৃষ্টি অনুসরণ করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল কিশোর। হা হয়ে গেল মুখ।
‘ওই তো সেই লোক!’ ফিসফিস করল সে। ‘নীল চোখো লোকটা!’

রাশেদ পাশাকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে হলো না। দুপা নিজেই এগিয়ে এল তাদের টেবিলের দিকে। ‘মসিয়ে পাশা, আপনাকে আবার দেখে বুব খুশি হলাম,’ তার গলার স্বর তেলতেলে, বিরস।

‘কিন্তু তোমাকে দেখে আমি খুশি হতে পারিনি দুপা,’ বললেন রাশেদ পাশা। ‘কি চাও?’

‘আপনারা আসার আগে এক বন্ধুকে নিয়ে বসেছিলাম আমি। সে একটা খাম নাকি ফেলে রেখে গেছে এখানে। খামটা কি আপনাদের চোখে পড়েছে?’

‘না, পড়েনি,’ জবাব দিলেন রাশেদ পাশা।

‘কিছু মনে না করলে একটু উঠে দাড়াবেন দয়া করে?’ বলল লোকটা।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে দাড়ালেন মিস্টার পাশা। দেখাদেখি তিন গোয়েন্দাও ৷

দুপা টেবিলের নিচে, চেয়ারের নিচে, গদির তলায় তননতন্ন করে খুঁজল। পেল না কিছুই। তার চেহারা কঠিন। ‘বিরক্ত করার জন্যে দুঃখিত, মশিয়ে পাশা। তবে খামটা আপনাদের চোখে পড়ে গেলে, দয়া করে আমাকে পৌছে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব। আমি জানি আপনার মত গণ্যমান্য ব্যক্তির ওপর ভরসা রাখা চলে, কি বলেন?’

রাশেদ পাশা কটমট কবরে তাকালেন দুপার দিকে। ‘খামটা আমরা পাইনি’ –
তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল দুপার কণ্ঠ। ‘আমি চাই না পুলিশ ডেকে আপনার এবং আপনার ছেলেদের সার্চ করাই।’ চেয়ারের ওপর রাখা কিশোরের ব্রীফকেসের, দিকে ইঙ্গিত করল সে। ‘ওটাতে নেই তো?’

রাশেদ পাশা বসে পড়েছিলেন, লাফিয়ে উঠে দাড়ালেন। ন্যাপকিনটা টেবিলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, ‘আমি জানি না তোমার খামে কি আছে, তবে ওটা পড়তে পারলে খুশিই হবে পুলিশ। নিয়ে এসো পুলিশকে আমরা অপেক্ষা করছি।’

দ্বিতীয় পর্ব

ঘোৎ-ঘোৎ করে উঠল দুপা, বিড়বিড় করে কি যেন বলল। বোধহয় গোয়েন্দাদের মজা দেখাবে বা এ রকম কিছু। তারপর জুতোর গোড়ালিতে ভর করে চরকির মত পাক খেয়ে ঘুরে দাড়াল। চলে গেল যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকে, ‘এতে কি প্রমাণ হলো?’ রবিনের প্রশ্ন।

‘জ্যোতিষীর কাছে গেলে জবাব মিলতে পারে,’ ঠাট্টা করল কিশোর।
‘ব্যাপারটা অদ্ভুত,’ চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন রাশেদ পাশা। ‘আমার ধারণা দুপা বা সিম্বুকে নিয়ে আরও ঘটনা ঘটবে।’
‘সিম্বু সম্পর্কে আর কি জানো, চাচা?’ কিশোর জিজ্ঞেস করল!

‘আটলান্টা রাজ্যের অনেকেই জানে সিম্বুর কথা। গৃহযুদ্ধের আগে এই পুতুলটাকে নিয়ে একটা গুজব চালু হয়েছিল,’ রাশেদ পাশা বললেন । ‘ধনী এক বুড়ো বাস করত এখনকার রূট থ্রী-এইটি রোডের ধারে, বিশাল এক বাড়িতে। আপনার বলে কেউ ছিল না বুড়োর। কালো চামড়ার এক চাকরকে নিয়ে থাকত বিশাল বাড়িতে। চাকরটাকে পছন্দ করত বুড়ো। চাকরটারও ছিল বুড়োর জন্যে জান-প্রাণ। ভুডুর মত খারাপ ম্যাজিকে বিশ্বাস করত চাকরটা। তার মালিককেও সে ভুডু চর্চায় উৎসাহিত করে তোলে। যাই হোক, গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ইউনিয়ন আর্মি হামলা চালায় দক্ষিণ এবং পুবে। নিজের ধন-সম্পদের কি দশা হবে তা ডেবে খুবই চিন্তায় পড়ে যায় বুড়ো।’
‘খুবই স্বাভাবিক,’ মন্তব্য করল কিশোর।

রাশেদ চাচা বলে চললেন, ‘সোনার টাকা, মোহর-যা কিছু ছিল তার, সব গলিয়ে সোনার বার বানিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখে বুড়ো। সে-সব পাহারা দেয়ার জন্যে ওগুলোর সঙ্গে রেখে দেয় একটা সিম্বু পুতুল! পুতুলটা বানিয়ে দিয়েছিল তার কালো-চাকর। ইউনিয়ন আর্মিকে ঠেকাতে পাথরের দেয়ালও তুলেছিল বুড়ো। কিন্তু ঠেকাতে পারেনি। সৈন্যরা বাড়িতে ঢুকে খুন করে বুড়ো আর তার চাকরকে। যতটুকু জানি, সোনা-দানার সন্ধান আজতক কেউ পায়নি!’

‘দারুণ গল্প!’ রবিন বলল। ‘সেই গুপ্তধনের খোজ করেনি কেউ?’

‘করেছে নিশ্চয়। আমি জানি না,’ জবাব দিলেন রাশেদ পাশা। ‘তবে কেউ ওগুলোর খোজ পেলে মূল্যবান সিম্বু পুতুলটাও পেয়ে যাবে।’

‘তা পাবে,’ মুসা বলল। ‘সেই সঙ্গে অভিশাপের শিকারও হওয়া লাগবে হয়তো।’

নীরব. হয়ে গেল চারজনেই। চুপচাপ খাওয়া শেষ করল। তারপর এয়ারপোর্টে গেল তিন গোয়েন্দা, রাশেদ পাশাকে পৌছে দিতে। রাশেদ পাশা নিউ ইয়র্কে যাবেন বিশেষ কাজে।

যাবার পথে কেন যেন অস্বস্তি লাগতে লাগল কিশোরের। অদ্ভুত এক অনুভূতি। র‍্যার ভিউ মিররে চোখ রেখে বলল, ‘কেউ আমাদের পিছু নিয়েছে।’

সামনের ট্রাফিক লাইটে দাড়াতেই চেনা গেলো লোকটাকে। সাদা একটা মার্সিডিজ, কিশোরদের ট্যাক্সির প্রায় গা ঘেঁষে দাড়াল। এক, চোখো সেই লোকটা।

‘হয়তো ভেবেছে তার খামটা মেরে দিয়েছি আমরা!’ নিচু স্বরে বলল রবিন।

‘মনে হয়,’ চিস্তিত ভঙ্গিতে মাথা দোলালেন রাশেদ পাশা। ‘আমাদেরকে খুন করার ইচ্ছে থাকলেও অবাক হব না। সাবধানে থাকতে হবে। বিশেষ করে তোমাদের। আগামী ক’দিন কি প্ল্যান তোদের, কিশোর? কি করবি ভাবছিস?’
‘কোস্টের দিকে যাব। সৈকতে ঘুরে বেড়াব। দেখি, আরও কি কি করা যায়।’
‘যা-ই করিস, সাবধানে থাকিস, বলা যায় না……’

আর কয়েক মিনিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌছে গেল ওরা। পিয়েরে দুঁপার টিকিটিও দেখা গেল না আর আশেপাশে। চাচাকে প্লেনে প্লেনে তুলে দিয়ে আবার ট্যাক্সি নিল কিশোর। হোটেলে ফিরে এল তিন গোয়েন্দা। রাস্তার ওপারে দুঁপার গাড়িটা দেখতে পেল কিশোর।

‘লোকটা আসলে চায় কি?’ মুসার প্রশ্ন–
‘লোকটা বোধহয় ধরেই নিয়েছে আমরা তার খাম চুরি করেছি। তাই পিছু ছাড়ছে না,’ কিশোর বলল লোকটার ওপর আমাদেরও নজর রাখতে হবে।’

ট্যাক্সি ভাড়া চুকিয়ে হোটেলে ঢুকল ওরা। রুমে এসে ব্রীফকেসটা বিছানার ওপর ছুঁড়ে ফেলল কিশোর। ওটার দিকে তাকাতেই চোখ স্থির হয়ে গেল রবিনের।

‘কিশোর! ব্রিফকেসের নিচে কি যেন একটা লেগে আছে,’ চিৎকার করে উঠল সে। ‘কি ওটা?’

একটা খাম আটকে আছে ব্রিফকেসের তলায়।

‘আরি!’কিশোরও অবাক। ‘এটা এল কোথেকে?’ খামটা খুলে নিল সে। ‘বুঝতে পেরেছি। ব্রিফকেসের তলায় কোনভাবে লেগে গিয়েছিল চিবানো চিউয়িং গাম। তাতে আটকে গেছিল খামটা। চেঁয়ারেই পড়ে ছিল ওটা, মিথ্যে বলেনি দুপা। বড়ই কাকতালীয় ঘটনা এবং অদ্ভুত।’

‘খোলো তো দেখি!’ তাড়া দিল মুসা।– ‘ভেতরে কি, আছে দেখার জন্যে তর সইছে না আমার।’
খাম খুলল কিশোর। ভেতরে জরাজীর্ণ মলিন এক টুকরো কাগজ। তাতে অদ্ভুত কিছু কথা লেখা ছড়ার ঢঙে ৷ কিশোর জোরে জোরে পড়ে শোনাল।

“ভাবছ ওটা আছে হোথায়
খুঁজলে পাবে নাকো সেথায়
পাহাড় বেয়ে ওঠো মাথায়
আবার নামো নিচে
অনেক গভীর শিকড় যেথায়
পাহারা দেয় সিম্বু সেথায়
সোনা চুরির ফন্দি ছাড়ো
মানে মানে কেটে পড়ো
নইলে আছে দুঃখ অনেক
বাচবে নাকো কেউ!”
অবাক হয়ে গেল ওরা।

‘রাশেদ আঙ্কেল যে বুড়ো লোকটার গল্প বলেছে এটা নিশ্চয় তাঁর কাজ!’ অবশেষে বলল রবিন। ‘ঐ লোক তার ক্রীতদাসের সাহায্যে সোনাদানা লুকিয়ে রেখেছিল। পাহারার ব্যাবস্থা করেছে সিম্বুকে দিয়ে।’

‘জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বানীর সাথে খাপা খাপে মিলে যাচ্ছে,’ ফাকা শোনাল মুসার কন্ঠ। ‘আমরা লোভে পড়ে গুপ্তধনের সন্ধানে বেড়োলেই অভিশাপ নেমে আসবে আমাদের উপর।’

‘দূর!, তোমার অভিশাপ! কে বিশ্বাস করে?’ মুখ ঝামটা দিল রবিন।

‘যা-ই বলো,’ অদ্ভুত কিছু যে ঘটছে এখানে, ‘তাতে কোন সন্দেহ নেই। কি বলো, কিশোর?’
চিন্তিত ভঙ্গিতে নিচের ঠোটে চিমটি কাঁটতে কাটতে ফিরে তাকাল কিশোর, হুঁ!
‘আমাদের এখন কি করা উচিত তাহলে?’ রবিনের প্রশ্ন।

হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কিশোর! ‘ব্যাপারটার শেষ দেখে ছাড়ব। সোনা যদি পেয়েই যাই পুলিশ বা কোন চ্যারিটির হাতে তুলে দেব।’

জানালার কাছে গিয়ে দাড়াল কিশোর। দুপা ওদের দিকে নজর রাখছে কিনা দেখার জন্যে পর্দার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল। বৃষ্টি শুরু হয়েছে,’ জানাল সে। ‘আমাদের বন্ধুটি এখনও আগের জায়গায় দাড়িয়ে, না না, চলে যাচ্ছে। ভেবেছে হয়তো বড়-বৃষ্টির মধ্যে আমরা কোথাও বেরোব না।’

আকাশ ফুটো করে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। গাছের শাখায় ঝোড়ো হাওয়ার মাতামাতি।

‘চলো, এই সুযোগে বেরিয়ে পড়ি’ প্রস্তাব দিল মুসা, ‘রেইনকোট আছে। কাজেই ভিজতে হবে না বৃষ্টিতে। আর ক্যাম্পিং-এর জন্যে গর্ত খোড়ার কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছিলাম। ওগুলোও নেব সাথে’
‘প্রস্তাবটা মন্দ না,’ নিমরাজি হলো কিশোর। ‘ঠিক আছে, চলো। চুপচাপ হোটেলে বসে থাকতে ভাল্লাগবে না। দেখেই আসি সিম্বুকে পাওয়া যায় কিনা।’

কয়েক মিনিট পরে হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল ওরা। এখানে ওদের বাইক রেখেছে। সাবধানে মোটর সাইকেল দুটো নিয়ে উঠে এল মেইন রোডে। তাকাল এদিক-ওদিক। নাহ্, সাদা মার্সিডিজের চিহ্নও নেই কোথাও। রাস্তা প্রায় জনমানবশূন্য। গন্তব্য বুড়োর বাড়ি।’

ভাগ্য ভালই বলতে হবে। একটু পরেই থেমে গেল বৃষ্টি। মেঘ সরিয়ে দিয়ে হেসে উঠল ঝলমলে চাঁদ। নদীর ধারে চলে এসেছে ওর নদীর পাশের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ল। অনেকটা পথ যাবার পর চোখে পড়ল বুড়োর বাড়ি। রাস্তা মেরামতির কাজ চলছে। বড় বড় সব যন্ত্রপাতি। খানিক দূরে একটা পাথুরে দেয়াল। ঘিরে রেখেছে বুড়োর শতাব্দী প্রাচীন বাড়িটাকে। মোটর সাইকেল থামাল ওরা। হেঁটে ঢুকে পড়ল গেট দিয়ে। চাঁদটাকে আড়াল করে দিতে শুরু করেছে মেঘ। বাতাস উঠছে। একটু পরেই আবার নামল বৃষ্টি।
‘বাহ্, দারুণ!’ বলল মুসা। ‘এই আসে এই যায়!’

টর্চ, জ্বেলে এগোচ্ছে ওরা। বড় বড় ওক গাছের ডালে ঝুলে থাকা এক ধরনের শ্যাওলার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে যাত্রা। টর্চের আলোতে খুব কম-জায়গাই আলোকিত হচ্ছে।

কানের পাশে নিশাচর পাখি ডেকে উঠে দারুণ চমকে দিল ওদেরকে। ডাকতে ডাকতে বৃষ্টির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙ-কোরাস ধরেছে ব্যাঙ। হাঁটু ডুবে যাওয়া গভীর জলায় নেমে পড়েছে কিশোর। পায়ের নিচে পিচ্ছিল কি একটা কিলবিল করে উঠল। আতকে উঠল ও। এক লাফে উঠে এলো তীরে।
‘কি হলো,’ জানতে চাইল রবিন।

‘সাপ!’ বিড়বিড় করল কিশোর, ‘গোখরো! আরেকটু হলেই গেছিলাম।’
পুরানো বাড়িটার কাছাকাছি এসেছে ওরা, এমন সময় মড়মড় করে একটা ডাল ভেঙে গেল। মুসা দেখল ডালটা সোজা রবিনের গায়ে পড়তে যাচ্ছে। সাবধান করে দেয়ার সময় নেই। প্রচণ্ড এক থাক্কা মারল রবিনকে। ছিটকে পড়ে গেল রবিন।

‘আরেকটু হলে আমিও গেছিলাম,’ খসখসে গলায় বলল মুসা।

কিশোরের দিকে তাকাল মুসা। সিম্বু পুতুলের কারণে মিউজিয়ামের দুর্ঘটনাগুলোর কথা মনে পড়ে গেছে তার। ‘ফিরে যাবে নাকি?’

‘নাহ্? ওই তো সামনেই বাড়িটা।’

ওটাকে এখন আর বাড়ি বলা যায় না। দেয়াল গুলো শুধু খাড়া হয়ে আছে, ছাদ অদৃশ্য! এবড়ো-খেবড়ো মেঝে। আবর্জনা, ভাঙা কাঠ আর অন্যান্য পরিত্যক্ত জিনিসপত্রে, বোঝাই মাটির নিচের ঘরটা।

“ভাবছ ওটা আছে হোথায়, খুঁজলে পাবে নাকো সেথায়, পাহাড় বেয়ে ওঠো মাথায়, আবার নামো নিচে, অনেক গভীর শিকড় যেথায়, পাহারা দেয় সিম্বু সেথায়, সোনা চুরির ফন্দি ছাড়ো, মানে মানে কেটে পড়ো, নইলে আছে দুঃখ অনেক, বাচবে নাকো কেউ!” বিড়বিড় করে ছড়াটা আওড়াল কিশোর। ছোটখাটো একটা পাহাড়ের মত টিলার, মাথায় চড়ে তরাইয়ের চারপাশে চোখ বোলাল। বেশির ভাগটাই সমতল।

নেমে কোন দিকে যেতে হবে? জানতে চাইল রবিন।

মনে হয় বাড়ির পেছন দিকে যেতে বলেছে। চলো, দেখে আসি দেখা গেল বাড়ির পেছন থেকে মাটি ঢালু হয়ে নেমে গেছে।

‘অনেক গভীর শিকড় যেথায়, পাহারা দেয় সিম্বু সেথায়,’ এবার আবৃত্তি করল রবিন।
‘কিসের শিকড়? এদিকে কোনও বড় গাছটাছ তো চোখে পড়ছে না।’

‘রুট সেলারের, কথা বলেনি তো?’ বলে উঠল কিশোর। ‘ঠিক! তা-ই বুঝিয়েছে। সেলার শব্দটা ইচ্ছে করে বাদ দিয়েছে। গুপ্তধন শিকারীকে ধোঁকা দেবার জন্যে রুট মানে শিকড়। সেলার বাদ দেয়াতে শুধু গাছপালাই খুঁজে বেড়াবে যারা গুপ্তধন খুঁজতে আসবে। আমরাও সেই ধোকায় পড়ে গিয়েছিলাম।–আগেকার দিনে ঘর-বাড়িতে রূট সেলার থাকত বলে জানতাম। লোকে শাক-সব্জি রাখত রুট সেলারে। তখন তো আর ফ্রিজ আবার হয়নি।’

‘তা ঠিক,’ মাথা দোলাল রবিন, ‘কিন্তু প্রশ্ন হল রুট সেলারটা কোথায়?’

‘চলো, ওই টিলায় উঠে লাফালাফি করি,’বুদ্ধি দিল কিশোর। ‘ফাঁপা হলে শব্দ শুনেই বোঝা যাবে।’
‘কিন্তু টিলায় চড়ব কেন?’ মুসার প্রশ্ন।

‘পাহার বেয়ে ওঠো মাথায়, আবার নামো নিচে, বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে ছড়াকার,’ জবাব দিল কিশোর। ‘সে-জন্যেই উঠব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওই টিলার নিচেই কোনখানে আছে গুপ্তধন।’

পাহাড়ের গায়ে লাফালাফি করতে গিয়ে কাদা, মেখে ভুত হয়ে গৈল তিনজনেই। ঘণ্টাখানেক এ ভাবেই চলল। হঠাৎ মুসা বলে উঠল, দাড়াও। দাড়াও। এখানে ফাঁপা একটা আওয়াজ শুনেছি। খুঁড়ে, দেখা যাক।

পরের আধঘন্টা নিবিষ্ট মনে মাটি খুঁড়ে চলল তিন গোয়েন্দা। পরিশ্রমের ফল মিলল অবশেষে। মাটি সরে বেরিয়ে এল কাঠ। আধ পচা কাঠে শাবল দিয়ে বার কয়েক গুঁতো মারতেই ভেঙে গেল। টর্চের আলোতে একটা গর্ত দেখতে পেল ওরা। বারো ফুট মত হবে। খালি গর্ত।

-গুঙিয়ে উঠল মুসা। খামোকাই এত খাটলাম!

“এক মিনিট,” বলল কিশোর । “এখানেই কোথাও আছে। নইলে এত খাটতে যেত না বুড়ো। রুট সেলারের কাঠের মেঝের নিচেই রেখেছে সোনার বারগুলো।”

সঙ্গে করে আনা টুল কিট থেকে রশি বের করল কিশোর । রশির এক মাথায় হুক লাগিয়ে মাটিতে গাথল। রশি বেয়ে প্রায় বারো ফুট নিচে নেমে এল। মেঝেতে আবার ঠুকতে শুরু করল ফাঁপা আওয়াজ শোনার আশায়। এবার বেশিক্ষণ পরিশ্রম করতে হলো না। শুনতে পেল প্রত্যাশিত শব্দটা। কুঠুরির কাঠের তত্তা ভেঙে খুলে ফেলেছে ওরা, এ সময় রট সেলারে ঢুকতে শুরু করল বৃষ্টির পানি। পরিস্থিতি, আরও খারাপ করে দেয়ার জন্যেই যেন ওপরের একটা গর্তে জমা পানিও উপচে গিয়ে ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে শুরু করল সেলারে। দেখতে দেখতে গোড়ালি ডুবে গেল ওদের ক্রমেই বাড়ছে পানি।

‘এখানে থাকলে তো দেখছি ডুবে মরব,’ মুখ অন্ধকার হয়ে গেছে রবিনের, ‘জ্যোতিষীর কথাই শেষ পর্যন্ত ফলে যাবে মনে হচ্ছে!’

‘সত্যি চলে যেতে চাইছ?’ জিজ্ঞেস করল কিশোর।

‘দেখি আরেকটু,’ গুপ্তধন পাওয়ার আশা কিশোরের মতই ছাড়তে পারল না রবিনও। দেয়ালের আরেকটা তক্তা খুলে আনল মুসা। পাহাড়ের গায়ে একটা সুড়ঙ্গ চোখে পড়ল। উচ্চতায় পাঁচ ফুটেরও কম। ওপরের দিকে উঠে গেছে সুড়ঙ্গটা। ফলে পানি ওটার নাগাল পাবে না।

‘বুড়ো এটা তৈরি করে রেখে গেছে,’ বলল কিশোর। ‘জানত, বৃষ্টি হলে পানি ঢুকতে পারে। তাই এমন জায়গায় বানিয়েছে, যাতে পানি না জমে।’

মাথা নির্চু করে সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে পড়ল ওরা। দশ ফুট যাবার পরে বাম দিকে মোড় নিল ওরা। ধীরে ধীরে এগোতে লাগল হামাগুড়ি দিয়ে। কড়াৎ করে বাজ পড়ল। এবং ঠিক ওই মুহূর্তে অযাচিত ভাবে সিম্বুর মুখোমুখি হলো ওরা। একটা লোহার সিন্দুকের ওপর চুপ করে বসে রয়েছে ছোষ্ট মূর্তিটা। হা করে তাকিয়ে রইল তিনজনেই।

সিন্দুকে কি বারগুলো আছে?-সবার মনেই খেলে গেল একই প্রশ্ন।
‘বাক্সটা খুলব?’ ফিসফিস করে যেন নিজেকেই প্রশ্ন করল কিশোর।
‘কি-কি-ক্কিন্তু, সিম্বুর অভিশাপ’ ভয়ে কথাটা শেষ করতে পারলো না মুসা।

‘বাক্সটা খুলে যদি……’ রবিনও ভয় পাচ্ছে। সিম্বুর কদাকার ছোট্ট মুখটার দিকে তাকিয়ে ভয় লাগছে ওদের।
ফিসফিস করে বলল কিশোর, সিম্বু, আমরা তোমার কোন ক্ষতি করতে আসিনি তোমার, সোনা চুরি করার ইচ্ছেও আমাদের নেই। আমরা শুধু দেখতে চাই বাক্সের ভেতর সোনাগুলো আছে কিনা।

আস্তে রূরে মূর্তিটা এক পাশে সরিয়ে রাখল কিশোর। বাক্স খোলার চেষ্টা করল। খুব মজবুত তালা। ওদের কাছে এই তালা খোলার যন্ত্র নেই।

‘এখন কি করা?’ সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে কিশোরের দিকে তাকালো রবিন। ‘সিম্বুকে নিয়ে যেতে পারি আমরা……’ কথা শেষ হলো না তার। বিকট শব্দে বাজ পড়ল আবার।

‘রূটসেলারে পানি জমছে জানা কথা,’ কিশোর বলল। ‘বেশি দেরি করলে ভরে যাবে। বেরোনোর উপায় থাকবে না আমাদের। তারচেয়ে চলো এখন চলে যাই। কাল বৃষ্টির পানি নেমে গেলে আবার আসা যাবে। তালা খোলার যন্ত্র নিয়ে আসব কাল।’

‘ঠিক বলেছ,’ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠব মুসা।

স্বস্তি পেল সিম্বুর প্রহরায় রাখা সোনা দেখতে গিয়ে তাকে রাগিয়ে দিতে হলো না বলে।
প্যাসেজওয়ে ধরে পিছিয়ে এল ওরা। রুট সেলারে ঢুকল। পানিতে থইথই করছে সেলার।

‘গর্ত থেকে পানি সরানোর ব্যবস্থা করতে না পারলে সকালের মধ্যে সেলার পুরো ডুবে যাবে,’ নিচের দিকে তাকিয়ে বলল কিশোর।

শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে সেলার থেকে পানি সরে যাওয়ার জন্যে একটা মুখ তৈরি করল ওরা। সেলারের ছাত যাতে ভেঙে ধসে পড়তে না পারে, সে-জন্যে তক্তা দিয়ে আটকে রাখার ব্যবস্থা করল।

‘করলাম- তো,’ চিত্তিত ভঙ্গিতে বলল কিশোর, ‘কিন্তু থাকবে কিনা জানি না। চলো, যাওয়া যাক।’
দড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এল ওরা ওরা। কারও নজরে পড়ল না। দুপার সাদা মার্সিডিজটাও দেখতে পেল না কোথাও। ঘন্টাখানেক পর রকি বিচ থেকে একটা অপ্রত্যাশিত ফোন এল। কিশোরের মেরিচাচীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন। অপারেশন লাগবে।

চাচাকে খবর পাঠাল কিশোর। তক্ষুণি বাড়ি যেতে তৈরি হলো। আফসোস করে বলল, ‘সিম্বুর সোনা দেখা আর হলো না আমাদের। যাকগে, কি আর করা! চাচী ভাল হয়ে গেলে আবার আসব এখন আমি এয়ার পোর্টে ফোন করছি টিকেটের জন্যে।’

পরদিন সকালের ফ্লাইটের, টিকেট পেল ওরা। এয়ারপোর্টে আসার পথে লক্ষ করল পিছু পিছু সাদা মার্সিডিজটাও আসছে।

‘বাজি ধরে বলতে পারি, আমাদেরকে চলে যেতে দেখে খুবই অবাক হচ্ছে দুপা,’ রবিন বলল।

মাসখানেক, পরে তিন গোয়েন্দার হেডকোয়ার্টারে বসে গল্প করছে কিশোর, মুসা, রবিন ও ওদের বন্ধু বিড ওয়াকার।
সিম্কুর গল্প শুনে বিড জিজ্ঞেস করল, ‘সোনার বারগুলো দেখতে গিয়েছিলে আর?’
গিয়েছিলাম,’ জবাব দিল কিশোর, ‘তবে যেতে দেরি কবে ফেলেছিলাম।
‘মানে?’ ভুরু কোচকাল বিড। ‘তুলে নিয়ে গেছে নাকি কেউ গুপ্তধনগুলো?’

‘না,’ মাথা নাড়ল কিশোর, ‘বুড়োর বাড়ির পাশে যে রাস্তাটা বানানো হচ্ছিল, দেখে এসেছিলাম, পরের বার গিয়ে দেখি সেটা তৈরি হয়ে গেছে। বুড়োর বাড়ি ভেঙে ফেলেছে। টিলা সমান করে বাড়ির ওপর দিয়ে চলে গেছে ছয় লেনের, কংক্রিটের ঝকঝকে রাস্তা।’

‘তারমানে,’ হতাশ হলো বিড, ‘বুড়োর গুপ্তধন চিরকালের জন্যে চাপা পড়ে গেল মাটির নিচে?’ গস্তীর ভঙ্গিতে মাথা দোলাল কিশোর।

‘হ্যা, সিম্বু তার মনিবের জিনিস বেশ ভালমতই পাহারা দিয়ে রেখেছে। মনে হয় কাউকে ছুঁতে দেয়নি। দুপাকেও না।

(সমাপ্ত)

Facebook Comment

You May Also Like