হাইওয়ে - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

পায়রা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার দিদিটা পুরো একটা পাগলি। স্কুলে গরমের ছুটি। এই সময়টায় স্কুল বিল্ডিং রং করা হয়। মহা বিপদ হয় পায়রাদের। রংমিস্তিরা পায়রা-টায়রা বোঝে না। ভারায় উঠে ভলভল করে বিড়ি টানে, গলগল করে গান…

চিড়িকদাস - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

চিড়িকদাস – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পুণায় বন্যার সময় যে কাঠবেড়ালিটা আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল সেটা ধাড়ি কাঠবেড়ালি নয়, বাচ্চা। শেষ পর্যন্ত সে আমার বাড়িতেই রয়ে গেল। তার নাম রেখেছি চিড়িকদাস। গৃহিণী তার প্রতি বিশেষ অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন;…

ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ধূমগড়ের পিশাচ রহস্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

প্রাইভেট ডিটেকটিভ কে কে হালদার খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হাতে নস্যির কৌটো। হঠাৎ বলে উঠলেন, –অ্যাঃ! পিচাশ! হাসি চেপে বললাম, –কথাটা পিশাচ হালদারমশাই! উত্তেজিত হলেই ঢ্যাঙা গড়নের এই গোয়েন্দা ভদ্রলোক আরও ঢ্যাঙা হয়ে…

খোকন গেছে মাছ ধরতে - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ভীমগড়ের কালো দৈত্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সরকারি ডাকবাংলো থেকে বিকেলে বেরুনোর সময় চৌকিদার সুখলাল হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে যা বলেছিল, তার সারমর্ম ছিল এরকম : পশ্চিমের সবচেয়ে উঁচু আর ন্যাড়া পাহাড়ের ওধারে বাস করে এক ‘কালা দেও’, অর্থাৎ কিনা কালো…

সদানন্দের খুদে জগৎ - সত্যজিৎ রায়

সদানন্দের খুদে জগৎ – সত্যজিৎ রায়

আজ আমার মনটা বেশ খুশি-খুশি, তাই ভাবছি এইবেলা তোমাদের সব ব্যাপারটা বলে ফেলি। আমি জানি তোমরা বিশ্বাস করবে। তোমরা তো আর এদের মতো নও। এরা বিশ্বাস করে না। এরা। ভাবে আমার সব…

উৎসব - হুমায়ূন আহমেদ

একটা চোর ধরা পড়ল – হুমায়ূন আহমেদ

দুপুর বেলা আমাদের ছাদে একটা চোর ধরা পড়ল। আমি খবরের কাগজ নিয়ে রোদে বসেছিলাম। ছুটির দিনে আরাম করে কাগজ পড়ব–হৈ চৈ শুনে ছাদে গেলাম। সেখানে শিশুদের একটা জটলা। জটলার মাঝখানে সুখীসুখী চেহারার…

বড়মামার বোমাবাজি (১) - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বড়মামা ও নরনারায়ণ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বড়মামা খেতে খেতে বললেন, ‘আমি একটা গাধা।’ মেজমামার বাঁ হাতে একটা বই, ডান হাতে ঝোলে ডোবানো রুটির টুকরো। এইটাই তাঁর অভ্যাস। সামান্য সময়ও নষ্ট করা চলবে না। অগাধ জ্ঞানসমুদ্র, আয়ু অল্প, বহুবিঘ্ন।…

বোকা জোলা আর শিয়ালের কথা - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

বোকা জোলা আর শিয়ালের কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক বোকা জোলা ছিল। সে একদিন কাস্তে নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে খেতের মাঝখানেই ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে উঠে আবার কাস্তে হাতে নিয়ে দেখল, সেটা বড্ড গরম হয়েছে। কাস্তেখানা রোদ লেগে গরম হয়েছিল,…

বুদ্ধুর বাপ - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

বুদ্ধুর বাপ – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক যে ছিল বুড়ো চাষী, তার নাম ছিল বুদ্ধুর বাপ। বুদ্ধুর বাপের ক্ষেতে ধান পেকেছে,আর দলে দলে বাবুই এসে সেই ধান খেয়ে ফেলছে। বুদ্ধুর বাপ ঠকঠকি বানিয়ে তাই দিয়ে বাবুই তাড়াতে যায়।…

পান্তাবুড়ির কথা - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

পান্তাবুড়ির কথা – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

এক যে ছিল পান্তাবুড়ি, সে পান্তাভাত খেতে বড্ড ভালোবাসত। এক চোর এসে রোজ পান্তাবুড়ির পান্তাভাত খেয়ে যায়, তাই বুড়ি লাঠি ভর দিয়ে রাজার কাছে নালিশ করতে চলল। পান্তাবুড়ি পুকুর ধার দিয়ে যাচ্ছিল।…

দুষ্ট বাঘ - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

দুষ্ট বাঘ – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

রাজার বাড়ির সিংহ-দরজার পাশে, লোহার খাঁচার একটা মস্ত বাঘ ছিল। রাজার বাড়ির সামনে দিয়ে যত লোক যাওয়া-আসা করত, বাঘ হাত জোড় করে তাদের সকলকেই বলত, ‘একটিবার খাঁচার দরজাটা খুলে দাও না দাদা!’…

পাকা ফলার - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

পাকা ফলার – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

পাড়াগাঁয়ে এক ফলারে বামুন ছিল। তাহাকে যাহারা নিমন্ত্রণ করিত, তাহারা সকলেই খুব গরিব, দৈ-চিঁড়ের বেশি কিছু দিবার ক্ষমতা তাহাদের ছিল না। ব্রাহ্মণ শুনিয়াছিল, দৈ-চিঁড়ের ফলারের চাইতে পাকা ফলারটা ঢের ভাল। সুতরাং এরপর…