লীলা মজুমদার

কুসংস্কার – লীলা মজুমদার

আমরা যখন ছোট ছিলাম, মেমদের ইস্কুলে পড়তাম, তখন মাঝে মাঝে আমাদের ফিরিঙ্গি দিদিমণিরা দুঃখ করে বলতেন, ‘তোমাদের জন্য আমাদের বড়ই কষ্ট হয়। কী রকম সুপারস্টিশাস্ তোমরা। ছি ছি! ব্রাহ্মিণরা মরে গেলে, তাদের…

লীলা মজুমদার

কালো সায়েব – লীলা মজুমদার

আমার বাবার কাছে গল্প শুনেছি ঠাকুরদা যখন ছোট ছিলেন, তখন আমাদের দেশে বাঘ-বাঘেল্লা গিজগিজ করত। বাঘ বলতে চকরা-বকরা চিতে নয়। তাকে ওদেশের লোকে বাঘ বলেই স্বীকার করত না। বলত নাকি বিল্লি, বড়…

লীলা মজুমদার

লক্ষ্মী ছেলে – লীলা মজুমদার

এক বেজায় জ্যাঠা ছেলে ছিল। যতদিন বাবা বেঁচে ছিলেন, ততদিন সে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে টো টো করে বেড়িয়েছে। শেষটায় যখন বাবা মারা গেলেন, তখন ছেলে ভারি বিপদে পড়ল। কী করে। লেখাপড়া তো…

লীলা মজুমদার

হুঁশিয়ার – লীলা মজুমদার

যখন সামনের লোকটার লোমওয়ালা ঘেমো ঘাড়টার দিকে আর চেয়ে থাকা অসম্ভব মনে হল, চোখ দুটো ফিরিয়ে নিলাম। অমনি কার জানি একরাশি খোঁচা খোঁচা গোঁফ আমার ডান দিকের কানের ভিতর ঢুকে গেল। চমকে…

লীলা মজুমদার

বনের ধারে – লীলা মজুমদার

ছোটোবেলায় পাহাড়ে দেশে থাকতাম। চারদিকে ছিল সরল গাছের বন। তাদের ছুঁচের মতো লম্বা পাতা, সারা গায়ে ধুনোর গন্ধ, একটুখানি বাতাস বইলেই শোঁ শোঁ একটা শব্দ উঠত। শুকনো সময় গাছের ডালে ডালে ঘষা…

লীলা মজুমদার

পঞ্চমুখী শাঁখ – লীলা মজুমদার

বটুদের দেশের বাড়িতে একটা প্রকাণ্ড পঞ্চমুখী শাঁখ আছে। শুনেছি শাঁখটা নাকি দেড়-শো বছর ধরে ওদের বাড়িতে রয়েছে। ওর নানারকম গুণটুনও নাকি আছে। আগে রোজ ওর পুজো হত, পুরুতঠাকুর আসত, খাওয়া-দাওয়া হত। তবে…

লীলা মজুমদার

মালিকানা – লীলা মজুমদার

জিনিসপত্রের মালিক হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়; এর মধ্যে কতরকম সমস্যা যে ঢুকে যায় তার ঠিক নেই। আমাদের বন্ধু অশোকদা সেকালে একবার ট্রামে করে যাচ্ছেন। তখন ট্রামে মুখোমুখি দু’খানা করে বেঞ্চি আড়ভাবে পাতা…

লীলা মজুমদার

মেজোমামার প্রতিশোধ – লীলা মজুমদার

আমার মেজোমামাকে নিশ্চয় তোমরা কেউ দেখনি। হাড় জিরজিরে রোগা বেঁটেমতন, সরু লিকলিকে হাত পা; সারা মুখময় খোঁচা খোঁচা দাড়ি গোঁফ। কারণ মেজোমামা দু-সপ্তাহে একবার দাড়ি চাচেন, নাকি দাড়ি কামালেই মুখময় আঁচড়ে যায়;…

লীলা মজুমদার

ঠকিয়ে খাওয়া – লীলা মজুমদার

আমাদের দেশের কত অখ্যাত লোক যে আসলে কত বুদ্ধি ধরে, গত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তার ভূরিভূরি প্রমাণ পাওয়া গেছিল। দুঃখের বিষয়, সুযোগের অভাবে বুদ্ধিগুলো প্রায়ই বেআইনিভাবে প্রযুক্ত হওয়াতে, তার অধিকারীদের যথাযযাগ্য স্বীকৃতি…

লীলা মজুমদার

বাঘের চোখ – লীলা মজুমদার

অঙ্কের ক্লাসে আমার বন্ধু গুপির সব অঙ্ক ভুল হল। আর সেসব কী সাংঘাতিক ভুল তা ভাবা যায় না। বাঁশ গাছের অঙ্কটার আসল উত্তর হল পঁচিশ মিনিট, গুপির হয়েছিল সাড়ে পাঁচটা বাঁদর। অমলবাবু…

লীলা মজুমদার

সরল মানুষদের ঘোরপ্যাঁচ – লীলা মজুমদার

সেকালে লোকরা ধর্ম সম্বন্ধে যে আমাদের চাইতে অনেক বেশি সচেতন ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। ডা. দ্বিজেন মৈত্র ছিলেন নামকরা অস্ত্রচিকিৎসক। তাঁর শ্বশুরমশাই সরকারি চাকুরি থেকে অবসর নেবার পরে ত্রিশ বছর পেনশন ভোগ…

লীলা মজুমদার

চোর – লীলা মজুমদার

ত্রিশ বছর আগে সম্পাদকমশাইরা গল্প চাইলেই আমি জিজ্ঞাসা করতাম, ‘কীসের গল্প লিখব?’ তাঁরা বলতেন, ‘হয় প্রেমের, নয় ভূতের, নয় চোরের।’ কাজেই আমিও বুঝে নিলাম ওই তিনটিই হল ছোট গল্পের প্রধান উপজীব্য। তারপর…