রাঁধি মাছ না ছুঁই তেল - তারাপদ রায়

রাঁধি মাছ না ছুঁই তেল – তারাপদ রায়

আটত্রিশ বছর। হিসেব করলে আটত্রিশ বছরের চেয়েও বেশি। আটত্রিশ বছর, সাত মাস, এগারো দিন। এই এতদিন চাকরি করার পরে সুশোভন পাল অবশেষে অবসর গ্রহণ করলেন। ছোট চাকরিতে সাড়ে একুশ বছর বয়েসে টুক…

রেলবাজার স্টেশন - তারাপদ রায়

ফুলকুমারী – তারাপদ রায়

বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে এসে শ্রীলতার দিন আর কাটতে চায় না। শ্বশুরবাড়ি কথাটা অবশ্য ঠিক হল না, বলা উচিত বরের বাড়ি, কলকাতার শহরতলিতে দুঘরের সরকারি কোয়ার্টার্স শ্ৰীলতার বরের। শ্বশুরবাড়ি কাটোয়ায়, সেখানে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেওর…

টমাটো সস - তারাপদ রায়

টমাটো সস – তারাপদ রায়

অনেকে হয়তো বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু কথাটা রীতিমতো সত্যি। আমি প্রথম টমাটো সস দেখি কলকাতা আসার ঢের আগে, কলকাতা থেকে অনেক দূরে এক নিতান্ত পাড়াগেঁয়ে মফসসল শহরে। সে বহুকাল আগে। ঠিক শহর…

জীবনবাবুর পায়রা - তারাপদ রায়

জীবনবাবুর পায়রা – তারাপদ রায়

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হিটারটা জ্বালিয়ে দুকাপ চা করতে বসলাম। চা হয়ে গেল, দাদা পাশের ঘর থেকে প্রতিদিন এর আগেই বেরিয়ে আসে, কোনও কোনও দিন একটু দেরি হয় অবশ্য, তবে এই সময়টা…

দুই মাতালের গল্প - তারাপদ রায়

দুই মাতালের গল্প – তারাপদ রায়

আপনাদের সকলের সঙ্গে বোধ হয় এঁদের দুজনের পরিচয় নেই। গল্প লেখার আগে এঁদের সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দিই, তাতে এই ঝাঝালো তরল কাহিনি পান করা সহজ হবে। প্রথম জন, যিনি এক হাত…

রেলবাজার স্টেশন - তারাপদ রায়

খেজুরে গুড়ের সন্দেশ – তারাপদ রায়

মহীতোষবাবুর বয়েস ষাটের খারাপ দিকে, এখনও সত্তরের ঘরে পৌঁছতে দু-তিন বছর লাগবে। কিন্তু তার জীবনের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে; অদ্য শেষ দিবস বা শেষ রজনী, মহীতোষবাবুর পরমায়ু আজকেই শেষ। মারাত্মক অসুখ হয়েছে মহীতোষবাবুর।…

রেলবাজার স্টেশন - তারাপদ রায়

রেলবাজার স্টেশন – তারাপদ রায়

ঘটনাটা ঘটেছিল মফসলের রেললাইনের একেবারে শেষ স্টেশনে। শেষ স্টেশন মানে এর পরে আর রেললাইন নেই। এই পর্যন্ত রেলগাড়ি এসে তার যাত্রা শেষ হয়ে যায়, তারপর আবার ফিরে যায় বড় শহরে। রেল পরিভাষায়…

একশো টাকার ভাঙানি - তারাপদ রায়

একশো টাকার ভাঙানি – তারাপদ রায়

ভবানীপুরে তাঁর বাড়ির একতলার বাইরের ঘরে বসে আছেন সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী মশায়। সিদ্ধেশ্বরবাবু ছাপোষা লোক, বেশ বৈষয়িক এবং হিসেবি। বিশেষ করে এখন তাঁকে খুবই হিসেব করে চলতে হচ্ছে, কারণ এই সম্প্রতি তিনি চাকরি…