হাইওয়ে - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

পায়রা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার দিদিটা পুরো একটা পাগলি। স্কুলে গরমের ছুটি। এই সময়টায় স্কুল বিল্ডিং রং করা হয়। মহা বিপদ হয় পায়রাদের। রংমিস্তিরা পায়রা-টায়রা বোঝে না। ভারায় উঠে ভলভল করে বিড়ি টানে, গলগল করে গান…

হাইওয়ে - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

হাইওয়ে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমরা তখন হাঁটতে হাঁটতে সেই দোকানে গিয়ে বাঁশের বেঞ্চির ওপরে তিনজন বসলুম। বেশ ক্লান্ত। আমাদের তিনজনেরই কপালে ঘাম জমেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ। সেই কোন সকালে বেরিয়েছি। বলতে গেলে সূর্য ওঠার আগে। প্রথমে…

বিবাহ-মঙ্গল - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

ভালোবাসার বিষ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

রোজকার মতো সেদিনও গিয়ে দেখলুম, বৈঠকখানা ঘরে প্রফেসার বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছেন। শূন্য মদের বোতল আর গেলাস গড়াচ্ছে ফরাসের ওপর। বই আর খাতা ফরাসের একপাশে রেখে চলে গেলুম ভিতরে। বাইরের সঙ্গে আর…

বড়মামার বোমাবাজি (১) - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বড়মামা ও নরনারায়ণ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বড়মামা খেতে খেতে বললেন, ‘আমি একটা গাধা।’ মেজমামার বাঁ হাতে একটা বই, ডান হাতে ঝোলে ডোবানো রুটির টুকরো। এইটাই তাঁর অভ্যাস। সামান্য সময়ও নষ্ট করা চলবে না। অগাধ জ্ঞানসমুদ্র, আয়ু অল্প, বহুবিঘ্ন।…

জুতোচোর হইতে সাবধান - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

টক ঝাল মিষ্টি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

প্রথমে দেখা হল। তারপর প্রাণ আঁকুপাঁকু। তারপর দেখাদেখি, ঘোরাঘুরি। মাইলের পর মাইল কথা। অর্থহীন হাসাহাসি। হাত ধরাধরি। নাকানাকি। বেড়াবেড়ি। তারপর বিয়ে। গুচ্ছের লোকের গুঁতোগুতি। কেউ আনল ফোল্ডিং ছাতা, কেউ শাড়ি, কেউ ননস্টিক…

সোনার বালা - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সোনার বালা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

এব্লেড হ্যাজ ফোর স্লাইডস। তিন দিন মোটে কামিয়েছে। তার মানে একটা দিক এখনও অব্যবহৃত। কিন্তু কোন দিকটা? রোজই মনে রাখার চেষ্টা করে। রোজই ভুলে যায়। সামান্য একটা হিসেব। এক, দুই, তিন, চার।…

বিবাহ-মঙ্গল - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

হাতলের লড়াই – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

অন্ধকার হওয়ার আগেই আমি সাধারণত সিনেমা হলে ঢোকার চেষ্টা করি। একবার অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর ঢোকার চেষ্টা করে ধোলাই খেতে খেতে বেঁচে গিয়েছিলুম। চড়া আলো থেকে হঠাৎ অন্ধকার। হাতড়াতে হাতড়াতে ঢুকেছি। কিছুই…

বিকাশের বিয়ে - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বিকাশের বিয়ে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বিকাশ আমার বন্ধু। বিকাশ বিয়ে করবে। না করে উপায় নেই। ব্যাংকে ভালো চাকরি পেয়েছে। পরিবারের একটি মাত্র ছেলে। নিজেদের বাড়ি আছে। বাবা মারা গেছেন। মায়ের বয়েস হয়েছে। বিকাশের বিয়ে অবশ্যম্ভাবী। আত্মরক্ষার জন্যেও…

প্রেম আর ভূত - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

প্রেম আর ভূত – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

অনেক শুকনো পাতা পড়ে আছে পার্কের বেঞ্চে। বছরের এই সময়টায় গাছ পাতা ঝরায়, নতুন সাজে সাজবে বলে। জলের ধারে ধারে কচি কচি ঘাস গজিয়েছে। লেকের জলেও কিছু শুকনো পাতা আনমনে ভাসছে। দিব্যেন্দু…

বিবাহ-মঙ্গল - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মোচার ঘণ্ট – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

দরজা খুলতে এগোচ্ছেন আধুনিকা গৃহিণী, সামনেই দুই ভদ্রলোক। ভদ্রলোকদ্বয়: আসতে পারি? মহিলা: কে আপনারা? উত্তর : আমরা আসি—ফ্রম ডোমেস্টিক এইডস ইনকরপোরেট, একটি সমাজসেবী সংস্থা। মহিলা: আসুন, তবে বুঝতে পারছি না ব্যাপারটা কী?…

বিবাহ-মঙ্গল - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সেই লোকটা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমাকে কেউ দেখতে পারে না। আমার চেহারা সুন্দর। আমি লেখাপড়া নেহাত কম জানি না। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি। ভালো চাকরি করতুম। বিয়েও করেছি। আমার সব আছে; কিন্তু আমাকে কেউ ভালোবাসে না। আমার একটা…

বিবাহ-মঙ্গল - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বুকপকেটে বিশ্ব ঘোরে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

একটু পরেই আসানসোল। দিল্লি অনেক দূর। ঊর্ধ্বশ্বাসে ট্রেন ছুটছে। মাঠ ময়দান পেছনে ফেলে। এতক্ষণে একটু গুছিয়ে বসা গেছে। বাক্স-প্যাঁটরা নিজেদের নিরাপদ জায়গায় স্থির। একটু-আধটু নড়ছে। অনেকদিন পরে সপরিবারে বেরিয়ে পড়া গেছে। দাদা…