বিপদ - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিপদ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাড়ি বসিয়া লিখিতেছিলাম। সকালবেলাটায় কে আসিয়া ডাকিল— জ্যাঠামশাই?.একমনে লিখিতেছিলাম, একটু বিরক্ত হইয়া বলিলাম—কে? বালিকা-কণ্ঠে কে বলিল—এই আমি, হাজু। —হাজু? কে হাজু? বাহিরে আসিলাম। একটি ষোলো-সতরো বছরের মলিন বস্ত্র পরনে মেয়ে একটি ছোটো…

দ্রবময়ীর কাশীবাস - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্রবময়ীর কাশীবাস – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দু-দিন থেকে জিনিসপত্র গুছোনো চলল। পাড়ার মধ্যে আছে মাত্র তিনঘর প্রতিবেশী—কারো সঙ্গে কারো কথাবার্তা নেই। পাড়ার চারিধারে বনজঙ্গল, পিটুলিগাছ, তেঁতুলগাছ, বাঁশঝাড়, বহু পুরোনো আম-কাঁঠালের বাগান। দ্রব ঠাকরুনের বাড়ির চারিধার বনে বনে নিবিড়,…

দাদু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বংশলতিকার সন্ধানে – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সন্ধ্যার কিছু আগে নীরেন ট্রেন হইতে নামিল। তাহার জানা ছিল না এমন একটা ছোট্ট স্টেশন তাদের দেশের। কখনো সে বাংলা দেশে আসে নাই ইতিপূর্বে এক কলিকাতা ছাড়া। নীরেনের দাদামশাই রায়বাহাদুর শ্যামাচরণ গাঙ্গুলী…

জলসত্র - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জলসত্র – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃদ্ধ মাধব শিরোমণিমশায় শিষ্যবাড়ি যাচ্ছিলেন। বেলা তখন একটার কম নয়। সূর্য মাথার উপর থেকে একটু হেলে গিয়েছে। জ্যৈষ্ঠমাসের খররৌদ্রে বালি গরম, বাতাস একেবারে আগুন, মাঠের চারিধারে কোনোদিকে কোনো সবুজ গাছপালার চিহ্ন চোখে…

উইলের খেয়াল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

উইলের খেয়াল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশ থেকে রবিবারে ফিরছিলাম কলকাতায়। সন্ধ্যার আর বেশি দেরি নেই, একটু আগে থেকেই প্ল্যাটফর্মে আলো জ্বেলেছে, শীতও খুব বেশি। এদিকে এমন একটা কামরায় উঠে বসেছি, যেখানে দ্বিতীয় ব্যক্তি নেই যার সঙ্গে একটু…

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বুড়ো হাজরা কথা কয় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালবেলা পাঁচুদাসী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। সারাদিন নৌকো বেয়েছে মাঝি, সন্ধ্যায় বনগাঁ ইস্টিশানে এসে পৌঁছায়। কতদূরে যেতে হবে তা সে জানত না। কত জলকচুরির দামের ওপর পানকৌড়ি বসে থাকা, ঝিরঝিরে-হাওয়ায়-দোলা বাঁশবনের তলা দিয়ে…

দাদু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সই – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দুপুরে বাসায় শুইয়া আছি, এমন সময়ে উচ্ছলিত খুশি ও প্রচুর তরল হাস্যমিশ্রিত তরুণ কণ্ঠস্বরে শুনিতে পাইলাম, ও সই, সই লো-ও-ও, ক্যামন আছ, ও সই? পাশের ঘর হইতে আমার ভগ্নী (বিধবা, বয়স ত্রিশের…

জাল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

জাল – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘুরতে ঘুরতে কীভাবে আমি যে রামলাল ব্রাহ্মণের কাছে গিয়ে পড়েছিলাম, তা আমি এখনো বলতে পারি না। হাজারিবাগের জঙ্গলে ঘুরছিলাম জীবিকা অর্জনের চেষ্টায়। সামান্য অবস্থার গৃহস্থের ছেলে, ম্যাট্রিক পাস দিয়ে অর্থ উপার্জনের ব্যাপারে…

দাদু - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দাদু – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঠাকুরদাদা আমার শৈশবের অনেকখানি জুড়ে আছেন। সমস্ত শৈশব-দিগন্তটা জুড়ে আছেন। ছেলেবেলায় জ্ঞান হয়েই দেখেছি আমাদের বাড়িতে তিনি আছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় একশো। জ্ঞান হয়ে পর্যন্ত দেখেছি তিনি আমাদের পশ্চিমের ঘরের রোয়াকে…

খুঁটি দেবতা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

খুঁটি দেবতা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ঘোষপাড়ার দোলের মেলায় যাইবার পথে গঙ্গার ধারে মঠটা পড়ে। মঠ বলিলে ভুল বলা হয়। ঠিক মঠ বলিতে যাহা বুঝায়, সে-ধরনের কিছু নয়। ছোটো খড়ের খান চার-পাঁচ ঘর মাঠের মধ্যে। একধারে একটা বড়ো…

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

হাসি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

স্টেশনের ওয়েটিং রুমের ভেতরে-বাইরে কোথাও অন্য লোক ছিল না, বেহারাটাকেও ডেকে ডেকে পাওয়া গেল না। অগত্যা চায়ের আশায় জলঞ্জলি দিয়ে আমরা কয় বন্ধুতে বেশ করে ‘রাগ’ টেনে নিয়ে ইজিচেয়ারে শুয়ে পড়লাম। মাঘের…

তিরোলের বালা - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

তিরোলের বালা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মার্টিন কোম্পানির ছোটো লাইন। গাড়ি ছাড়বার সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে, এখনও ছাড়বার ঘণ্টা পড়েনি। এ নিয়ে গাড়ির লোকজনের মধ্যে নানারকম মতামত চলেছে। —মশাই বড়গেছে নেমে যাবো, প্রায় পাঁচমাইল; চারটে বাজে— এখনও গাড়ি…