Sunday, April 21, 2024
Homeআরওলাইফস্টাইলকরোনা আসছে দিন বড় সংকটের আশংকা

করোনা আসছে দিন বড় সংকটের আশংকা

নিরানন্দের ঈদ! আসছে দিন বড় সংকটের আশংকা

করোনা মহামারিতে কত মানুষের চাকরি গিয়েছে গত দুই মাসে? কত হাজার? ১ এপ্রিল ২০২০ তারিখ থেকে অনেক মানুষ চাকরি হারানোর নোটিশ পেয়েছে। এ নিয়ে কোথাও কোন কথা নেই।

প্রয়োজন তো থেমে নেই। গত দু মাসে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তারা কারো সাথে সেটি শেয়ার করার মতো অবস্থায়ও নেই। এত দ্রুত সব কিছু ঘটে যাচ্ছে, তৈরি হওয়ার সময় পাওয়া যাচ্ছে না।

এবার ঈদ কীভাবে কাটবে?
মাথায় এক আকাশ চিন্তা। পরিচিত অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এবং হারানোর আশংকা করছেন। যেহেতু জব মার্কেট নিয়ে কাজ করি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করেছি। অবাক হলাম, তাদের কাছ থেকে আশার কথা কম। পরিস্থিতি খারাপের ইংগিত দিচ্ছেন তারা। জিএম লেভেলের অনেকেই আশংকা করছেন, তাদের চাকরি থাকবে কিনা।

আইটি কোম্পানির অনেকেই জানিয়েছেন, কাজ করে যাচ্ছেন, চাকরি রাখছেন, বেতন নিয়ে কথা বলছেন না। আশা করছেন, সংকট কেটে যাবে। সংকট কি সহসাই কাটবে নাকি বাড়বে?

পরিবহণ সেক্টর পুরোটাই থমকে আছে। দূরপাল্লার বা শহর এলাকার অন্তত ৮০ লাখের বেশি মানুষের কোন আয় নেই গত দু’মাস যাবত। মালিক সমিতির নামে হাজার কোটি টাকা আয় হচ্ছে, শ্রমিক থাকে না খেয়ে।

ট্রাভেল ব্যবসার সাথে তরুণ-তরুণীরা জড়িত এবং অনেকে বিনিয়োগ করেছেন। এদের অনেকের মন খারাপ, ভীষণ খারাপ।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মাঝারি ব্যবসায়ী – সবার মাথায় দুশ্চিন্তার বোঝা। ব্যাংকের লোনের চিন্তা তো আছেই। ঋণের কিস্তির চাপে দুঃশ্চিন্তা কমছে না কোনমতেই।

দেশে পাঁচ তারা থেকে শুরু করে সালাদিয়া হোটেলের লাখ লাখ মানুষ কাজ করে। তাদের আয় নেই।

ভাবুন তো মালিবাগ তালতলার কয়েকশত রেস্টোরেন্টের কথা। সেখানে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এখন শুনশান নীরবতা। আবার জেগে উঠলেই পুরনো মালিকদের অনেকেই আর ফিরে আসবেন না এই ব্যবসায়।

ঈদের পোশাক খাতের প্রসেসিং জড়িত থাকে ৫০ লাখের বেশি মানুষ। যা গার্মেন্টস এর চেয়েও বেশি। কয়েকজনের আন্দোলন দেখলাম – যারা দোকানে অগ্রীম কাপড় দেয়, পরে টাকা নেয়। এখন তার মহাবিপদে। এমন বিপদে আছে, তাদের আসলে এসে একসাথে হওয়ারও সামর্থ্য নেই।

দেশের ৯৮% চাকরিজীবী এখন বেসরকারিখাতে আছে। তাদের সবাই অজানা শংকায় আছে। আর শংকটা এমন, অযৌক্তিক নয় ।

করোনা ক্রাইসিসেই বুয়েটের বড় ভাইকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করলো। একজন সৎ প্রকৌশলী হওয়ায় তাকে মেরেই ফেললো। একদিকে আয়ের উৎস যেমন সংকুচিত হচ্ছে, আবার সৎ মানুষদের বেঁচে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ সময়ে সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। ক্ষুদ্র আর মাঝারি ব্যবসাকে যেভাবে বড় ব্যবসায়ীরা খেয়ে ফেলছে, সেটি থামাতে হবে। মুড়ির ব্যবসাও যদি জায়ান্টরা করে তবে ক্ষুদ্র আর মাঝারিরা বাঁচবে কীভাবে?

একটা দেশের বাণিজ্যের প্রাণ হচ্ছে – ক্ষুদ্র আর মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এরাই নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস বড় বড় দেশেও তাই। আমাদের দেশে এদের মেরে ফেলা হচ্ছে জায়ান্টদের সব কিছু করতে দিয়ে। এটা কোন দেশে হয় না।

এ ধরণের ক্রাইসিসে ক্ষুদ্র আর মাঝারি ব্যবসার জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে হয়। এবং দেশকে বাঁচাতে হলে তা করতেই হবে।

এবার ঈদ আনন্দের হবে না, নিরানন্দের ঈদ হবে। খুব সতর্ক না হলে পরিস্থিতি শুধু খাদ্য উৎপাদন করে সামাল দেয়া যাবে না। জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছে প্রধানত দুর্নীতির জন্য। দুর্নীতির লাগাম টানলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সবাই।

নিরানন্দের এই ঈদে আনন্দ হয়তো কম থাকবে, তবে দুঃখ থাকবে না বেশিরভাগের কাছেই। সময়টা এমন, এই যে বেঁচে আছি, ঈদ পাচ্ছি – সেই তো আনন্দ।

(বেসরকারী চাকরিজীবি সংগঠন)

Anuprerona
Anupreronahttps://www.anuperona.com
Read your favourite literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments