Sunday, May 19, 2024
Homeবাণী-কথাঘোর বর্ষায় - মুহাম্মদ বরকত আলী

ঘোর বর্ষায় – মুহাম্মদ বরকত আলী

ঘোর বর্ষায় - মুহাম্মদ বরকত আলী

বাবার বাতিল করা ছেড়া লুঙ্গিটা মাথায় দিয়ে বের হয়েছে হাসু। বাইরে ছিপছিপ বৃষ্টি হচ্ছে। আটা চালা বৃষ্টি। রাস্তার কাঁদায় পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে। পায়ে কেরোসিন মাখিয়ে বের হয়েছে হাসু। কাঁদার মধ্যে হেটে হেটে দুই পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ঘা হয়েছে হাসুর। এটাকে ঘা বলে না, পাকুই বলে। কাঁদা পানির রোগ। প্রথমে পায়ের কিছু কিছু জয়গায় লালচে হয়ে যায়। হালকা ফুলে ওঠে। এরপর আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে সাদা হয়ে ঘা হয়। খুব চুলকায়। একবার হাত পড়লে চুলকাতে শুরু হয়। চুলকাতে চুলকাতে বিরক্ত ধরে যায় হাসু। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যেই চুলকায়। মাকে বলে চুলকিয়ে দিতে। পায়ে গিরিজ দিলে পাকুই ভালো হয়ে যায়। গিরিজ গা গিরামে পাওয়া যায় না। তাই কেরোসিন বা আলতা লাগায় হাসু। কেসড়ির পাতাও খুব ভালো ঔষধ। হাসুর মায়ের পায়ের সবক‘টা আঙ্গুলে পাকুই হয়ে ঘা হয়ে গেছে। এখন বর্ষাকাল।

বাড়ির উঠানে কাঁদা। মাকে সারাদিন কাজ করতে হয়। কাঁদার মধ্যেই পা ঢুবিয়ে কাজ করতে হয় সারাক্ষণ। মায়ের এই কষ্ট দেখে সেদিন মাঠ থেকে হাসু কলা গাছ কেটে ফেলেছে উঠানে। কলাগাছের উপর দিয়ে হাটলে কাঁদা হবে না পায়ে। সবাই সারি সারি ইট ফেলে তার উপর দিয়ে হাটে। হাসুদের ইট নেই। হাসুর মা কি যেন একটা গাছের পাতার রস মাখিয়ে রাখে পায়ে। গাছটার নাম হাসুর জানা নেই। পাতা পিষে বেগুনি রঙের রস বের হয়। সেই রাস লাগিয়ে রাখলে পাকুই হয় না। পাকুই হলেও তা ভালো হয়ে যায়।

আজ পাঁচদিন হলো একাধারে বৃষ্টি হচ্ছে। প্রথম দুইদিন ঝুম বৃষ্টি। এরপর ছিপছিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মঙ্গবার বৃষ্টি শুরু হলে সাতদিন থাকে। শনিবার শুরু হলে দশদিন থাকে। বয়স্ক মানুষদের এসব কথা বলতে শুনেছে হাসু। সব মনগড়া কথা। হাসু বিশ্বাস করে না এমন আন্দাজে কথা। কতদিন বৃষ্টি হবে সেটা একমাত্র সৃষ্টি কর্তাই ভালো জানেন।

এ ক‘দিন মানুষ জন একদম বের হয়নি। একাধারে বর্ষা লেগে থাকলে মানুষের কষ্ট হয়। সবচাইতে বেশি কষ্ট হয় পশুপাখির।

হাসুদের গ্রামের প্রত্যেকের বাড়িতে হাস, মুরগি, ছাগল, গরু আছে। বাড়ি ঘর আর খোয়াড় সব একাকার হয়ে গেছে। গরু, ছাগল, হাস মুরগির খাবারের খুব সমস্যা।

আকাশটা ঝলমলে ছিলো। সূর্য্যরে কিরণ বেশ কড়া। মাঝে মধ্যে কোথায় থেকে এক খন্ড মেঘ এসে সূর্যকে ঢেকে ফেলে পরক্ষণেই মেঘ সরে আবার রোদ। মেঘ ভাঙ্গা রোদ খুব কড়া হয়। মানুষ পশুপাখি বৃষ্টির জন্য মুখিয়ে আছে। সেদিন বিকেলবেলা। হঠাৎ মেঘ জমল পশ্চিমাকাশে। মূহুর্তেই অন্ধকারে ছেয়ে গেল সারা আকাশ। গুড়–ম গুড়–ম ডাক ছাড়ল। শুরু হল বৃষ্টি। সে কি বৃষ্টি। দুইদিন থাকেনি একটুও। কলকল করে ঢেলেছে দিন রাত। তিনদিনের মাথায় কমেছে কিছুটা। গতকাল থেকে ছিপছিপ করে হচ্ছে। যাকে বলা হয় আটা চালা। রাঙ্গি দিয়ে মায়েরা যেমন আটা চালে ঠিক তেমন আটা চালা বৃষ্টি।

পাঁচদিন হয়ে গেল হাঁসগুলো ছাড়া হয়নি। খাঁচার ভিতর খাবার দেওয়া হয়। তুষ আর খুদ মিশিয়ে দেয় হাসুর মা। এ ক‘দিন হাসু নদীর ঘাট থেকে শামুক তুলতে পারেনি। মা বাইরে যেতে বারণ করেছে। এখন নদীতে খুব স্রোত। নতুন পানি দেখলে হাঁসের দল নাকি পাগল হয়ে যায়। কখন কোথায় চলে যায় ঠিক থাকে না। নদীর স্রোতের টানে ভেসে চলে যায় অন্য কোথাও। এভাবে কত্ত হাঁস হারিয়েছে। নদীর কিনারে চরে বেড়ালেও ডাঙ্গায় উঠাতে খুব কষ্ট হয়। পানি থেকে উঠতে চায় না।

মা কাজ করছে নিজের খেয়ালে। বাবা গেছেন মাঠে। আন্দাজ করে বলা যায় কিছুক্ষণপর আছরের আজান হবে। হাসু রোজকার দিনের মত আজও বের হয়েছে হাঁসগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে। হাসুকে বলতে হয় না, এটা তার প্রতিদিনের রুটিন। হাতের কাছে ছেড়া লুঙ্গিটা পেয়েছে। সেটাই মাথায় মুড়িয়ে এসেছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই অন্ধকার আরও গাঢ়ো হয়ে যাবে। তাই আজ একটু আগেই বের হয়েছে। সন্ধ্যার সময় হাঁস ঘোরাতে কষ্ট হবে। হাঁসগুলোর দেখাশোনা করার দায়িত্ব হাসুর। মা বাড়িতে গরু, ছাগল দেখেন। বাবা মাঠ থেকে গরু ছাগলের জন্য ঘাস কেটে আনেন।

হাসু পা টিপে টিপে আসে নদীর ঘাটে। ইমা, একি কান্ড! নদীতে অনেক পানি বেড়েছে। সেই পানি সাঁকো প্রায় ছুঁই ছুঁই। ঘোলা পানির স্রোতে জারমানি ভেসে আসছে। সাঁকোর খুঁটিতে আটকে আছে ভেসে আসা জারমানি। নদীর কিনারে নৌকা বাঁধা। নিমাই কাকার ঝুপড়ি ঘরটা দেখে মনে হচ্ছে ভেজা পোয়ালে গাদা। পাড়ের উপরে ছোট্ট কুঁড়ে ঘর করেছে নিমাই কাকা। ঘাটে পারাপারের জন্য নিমাই কাকা তার ছোট্ট কুড়ে ঘরে বসে থাকে। এপারের লোক ওপারে আর ওপারের লোক এপারে এভাবেই নৌকায় পারাপারের কাজ করেন নিমাই কাকা। এ সময় কে পার হবে। সবাই বাড়িতে আছে।

কুঁড়ে ঘর থেকে হাঁক ছাড়ল নিমাই কাকা, ‘ও ও ও ই ই ই, ক্যাডা?’

হাসু মাথায় দেওয়া লুঙ্গির কাপড়টা একটু সরিয়ে মুখটা বের করে বলল, ‘ও কাকা আমি হাসু। হাঁস খুঁজতি এইচি গো।’

মাঝি চেঁচিয়ে বলল, ‘দেখিস, জলে নাবিসনি এখন। সোতের খুব টান রে।’

হাসু আর কোনো কথা বলল না। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নিল একবার। তাদের হাঁসগুলো দেখতে পেল না কোথাও। ঘাটে একটাও হাঁস নেই। কেউ মনে হয় ছাড়েনি। হাসুর মন ভার হয়ে যায়। না জানি স্রোতে টেনে নিয়ে গেছে কোথায়। হাঁসগুলো হাসুর খুব প্রিয়। সেই যেদিন ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়েছে সেদিন থেকেই হাসু নিজেই হাঁসগুলোর দেখাশোনা করে। নদীর পাড় থেকে কচিকচি ঘাস এনে খাওয়ানো। চালের গুড়া, তুষ মিশিয়ে খেতে দেয়া। শামুক খাওয়ানো। নদীর ঘাটে চরানো। এখন বড় হয়েছে। কয়েকটা হাঁসে ডিম দেয়া শুরু করেছে। হাসুর মা সেই ডিম বিক্রি করে। মাঝে মধ্যে হাসুকে ডিম ভাঁজা দিয়ে রুটি খেতে দেয় মা। সেই হাঁস যদি সত্যি সত্যি হারিয়ে যায় তাহলে হাসুর খুব কষ্ট হবে।

গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে মাথার উপর। হাসু নদীর কিনারা ঘেষে হাঁসগুলো খুঁজতে থাকে। খুঁজতে খুঁজতে খেয়াঘাট ছেড়ে চলে এসেছে অনেকটা দূরে। অন্ধকার ঘুনিয়ে আসছে। থমকে দাঁড়িয়ে যায় হাসু। হ্যাঁ এই হাঁসগুলোই তাদের। ছয়টা হাঁস চুপচাপ বসে আছে একখণ্ড জারমানিতে। জারমানিগুলো কিসে যেন আটকে আছে। সেজন্য স্রোতে ভাসিয়ে নিতে পারেনি। হাসুর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। ‘আয় আয়, চোই চোই চোই।’ ডাকতে থাকে হাসু। হাঁসগুলো হাসুর চেনা কণ্ঠস্বর শুনে গলা বাড়িয়ে প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক ডাক ছাড়ে। পাড় থেকে কাঁদা মাটি তুলে ছুঁড়ে মারে হাসু। হাঁসগুলো প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক রবে মেতে ওঠে। হাসুর মুখে, ‘চোই চোই চোই, আয় আয়, ওঠ ওঠ ওঠ।’ আবার কাঁদা মাটি তুলে ছুঁড়ে মারে। হাঁসগুলো জারমানি থেকে পানিতে নামে। স্রোতের টানে হাঁসগুলো উঠতে পারে না ডাঙ্গায়। স্রোতে টানে ভেসে যেতে থাকে। হাসু নদীর পাড় ধরে দৌঁড়াতে থাকে। হাঁসগুলো স্রোতের টানে ভেসে যেতে থাকে। হাসু দৌঁড়ায় পিছু পিছু। পায়ের তলার কাঁদা আঙ্গুলের ফাঁকে পড়ে পুচ করে উঠে এসে ছিটে পড়ে শরীরে। পা আর সারা শরীর কাঁদায় মাখামাখি হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে কাঁদা ছুটে এসে চোখে মুখে পড়ে। কাঁদা ছুটে এসে তার গায়ে কি পায়ে লাগল হাসুর সেদিকে খেয়াল নেই। তার একটাই চিন্তা হাঁসগুলো যেনো চোখের আড়াল না হয়।

চারিদিকে ধোঁয়া ধোঁয়া পরিবেশ। কোথাও কেউ নেই। হাঁসগুলো ডাঙ্গায় ওঠার আপ্রাণ চেষ্ট করে, কিন্তু স্রোতে টানের সাথে পেরে ওঠে না।

হাসু কিছুতেই স্রোতের আগে যেতে পারে না। স্রোতের আগে যেতে পারলে হাঁসগুলোর মুখোমুখি কিছু একটা ছুঁড়ে মারলেই হয়তো ডাঙ্গায় উঠে আসতে পারতো। হাসুু পিছনে পিছনে ছুটে চলে আর ডাকতে থাকে, ‘আয় আয়, উঠে আয়। চোই চোই চোই।’

হাঁসগুলো প্যাঁক প্যাঁক প্যাঁক করে ডাকতে থাকে। কিন্তু উঠে আসতে পারে না। কোথাও কোথাও নদীতে বাঁশ আর জাল দিয়ে বাধ দেওয়া থাকে। সেই বাধ ডিঙ্গিয়ে এক গায়ের হাঁস অন্য গায়ে যেতে পারে না। বাধগুলো চোখে পড়ছে না। এই ক‘দিনের পানিতে তলিয়ে গেছে। হাসুর পায়ের তলায় শামুক ভাঙ্গার শব্দ হল। নিশ্চয়ই পায়ের তলার কোনো অংশ কেটে গেছে শামুকে। কাঁদা পানি ঢুকে রিরি করে যন্ত্রণা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পায়ের দিকে তাকানোর সময় নেই তার। পায়ের দিকে তাকাতে গেলে হাঁসগুলো চোখের আড়াল হয়ে যাবে। নিজের অজান্তে অচেনা জায়গায় এসে পৌছাল হাসু। এখানে কখনো সে আসেনি। তার গ্রাম ছেড়ে কত দূর এসেছে সেটা বলতে পারবে না হাসু। সামনে ঘন বন। নদীর পাড়ে ঘন জঙ্গল, বড় বড় উলো খড়।

এরই মধ্যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। চারিদিকে শুনশান। কোথাও জনমানব নেই। একটা বড় জারমানিতে আটকে গেল হাঁসগুলো। হাসু জঙ্গল থেকে একটা লম্বা ডাল ভেঙ্গে জারমানির চাকটা টানতে চেষ্টা করল। ধীরে ধীরে জারমানির সাথে ডাঙ্গায় উঠে এল হাঁসগুলো। হাসুর মুখে হাসি। সে পেরেছে। ‘আয় আয় আয়, চোই চোই চোই। চ চ চ।’ বিভিন্ন রকমের শব্দ করে হাঁসগুলোকে ডাকতে থাকে হাসু।

নদী থেকে পাড়ে উঠে আসে হাঁস। জঙ্গলের একটা সরু রাস্তা ধরে হাঁসগুলো এগুতে থাকে। হাতে একটা ডাল নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে পিছন থেকে তাড়া দেয় হাসু। শরীর জবজবে ভিজে গেছে। পাতলা একটা লুঙ্গি ছেড়া আর কতক্ষণ তাকে আগলে রাখবে। শরীরে কাঁপুনি উঠেছে। এতক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে যেকেউ কাপাকাপি শুরু করে দিবে এটাই স্বাভাবিক। যতই সামনে এগুতে থাকে ততই যেন জঙ্গল বাড়তে থাকে। পায়ে হাটা পথের শেষ হয় না। সামনে কিছু ঘর দেখা যাচ্ছে। ঘরগুলো ছোট ছোট ঝুপড়ির মত। গোলার মত গোল। মাটির দেওয়াল, উপরে খড়ের ছাউনি। ঘরগুলোর গাছে পৌছাতেই প্রত্যেকটি ঘর থেকে দলে দলে হাঁস বের হতে লাগল। চারিদিকে হাঁসেদের প্যাঁক প্যাঁক শব্দ। এ যেন হাঁসেদের রাজ্য। এই গায়ে কত্ত হাঁস। এত এত হাঁস হাসু জীবনেও দেখেনি। তাদের গায়েও এত হাঁস নেই।

প্রত্যেকটি বাড়িতে হাঁসের পাল। সেই পালের সাথে মিশে গেল হাসুদের হাঁসগুলো। কোন পালের সাথে মিশে গেল তা হাসু বুঝতে পারল না। এখন কি হবে? হাঁসগুলো যে বাড়ি ফেরাবে কিভাবে।

এত এত বাড়ি তবুও একটি মানুষও বের হলো না। বাড়ির লোকজন কোথায় গেছে কে জানে। কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। এখুনি মাগরিবের আজান পড়বে। গাছের পাতায় পড়া ছিপছিপ বৃষ্টির শব্দ আর হাঁসেদের প্যাঁক, প্যাঁক শব্দ মিলে মিশে এক অদ্ভূত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আবার ঝিঝি পোকারা ঝি ঝি শব্দে মেতেছে। সব আওয়াজ ছাপিয়ে হঠাৎ একদল পাখির কিচিরমিচির ডেকে উঠল সাথে একটা গাছ নড়ে উঠল। গাছটার দিকে তাকাল হাসু। কই কোথাও তো পাখি দেখা যাচ্ছে না। এতটুকু সময়ের মধ্যে হাঁসগুলোর প্যাঁক, প্যাঁক বন্ধ হয়ে গেছে। চোখ নামাতেই হাসুর গায়ে কাটা দিয়ে উঠল। একি, হাঁসেরপালগুলো গেল কোথায়? বাড়িগুলো গেল কোথায়? কোথাও একটা হাঁসের চিহ্ন মাত্র নেই। তাহলে এতক্ষণ সে কোন হাঁসের পিছনে ছুটেছে? এতক্ষণে হাসুর ঘোর লাগা কেটে যায়। সারা শরীর শিউরে ওঠে। শরীর ঝাকি দিয়ে ওঠে হাসু।

টানা একটা শ্বাস ফেলে দৌঁড় লাগায়। নদীর যে পাড় ধরে এতক্ষণ এগিয়ে সেই পাড় ধরে দৌড়াতে থাকে। কাঁদার মধ্যে পড়ে যায় আবার উঠে। পায়ের সাথে কাঁদাপানি ছিটে আসে। সেই পানি সারা শরীরে মাখামাখি হয়ে যায়। কখনো কখনো কাঁদা পানি ছুটে এসে চোখে মুখে পড়ে। পায়ের তলায় পড়ে মরা শামুকের খোল। এখন তার কোনো দিকে খেয়াল নেই। সে একটানা দৌড়াতে থাকে। মাগরিবের আজান শোনা যায়। দূর থেকে দেখতে পায় তার গ্রাম, খেয়া ঘাট। মাথার উপরে দেওয়া বাবার ছেড়া লুঙ্গিটা কখন কোথায় পড়ে গেছে। সারা শরীর বৃষ্টির পানি আর কাঁদায় একাকার হয়ে গেছে। হাসুর মনে পড়ে যায় তাদের হাঁসগুলো আজ ক‘দিন ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

Anuprerona
Anupreronahttps://www.anuperona.com
Read your favourite literature free forever on our blogging platform.
RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments