খেলোয়াড় তারিণীখুড়ো - সত্যজিৎ রায়

খেলোয়াড় তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

ডিসেম্বরের ঊনত্রিশে, শীতটা পড়েছে বেশ জাঁকিয়ে। সন্ধেবেলা তারিণীখুড়ো এলেন গলায় আর মাথায় মাফলার জড়িয়ে। তোরা মাঠে যাচ্ছিস না খেলা দেখতে? তক্তপোষে বসেই প্রশ্ন করলেন খুড়ো, নাকি দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাবার তাল করছিস?…

শেঠ গঙ্গারামের ধনদৌলত - সত্যজিৎ রায়

শেঠ গঙ্গারামের ধনদৌলত – সত্যজিৎ রায়

আমার এখন যে চেহারা দেখছিস, বললেন তারিণীখুড়ো, তা থেকে আমার ইয়াং বয়সের চেহারা তোরা কল্পনাই করতে পারবি না। কীরকম চেহারা ছিল আপনার, খুড়ো? জিজ্ঞেস করল ন্যাপলা, ধর্মেন্দরের মতো? য্যা য্যাঃ! বললেন খুড়ো,…

তারিণীখুড়ো ও ঐন্দ্রজালিক - সত্যজিৎ রায়

তারিণীখুড়ো ও ঐন্দ্রজালিক – সত্যজিৎ রায়

কই, আর সব কই? বললেন তারিণীখুড়ো। সব্বাইকে খবর দে, নইলে গল্প জমবে কী করে? আমি বললাম, খবর পাঠানো হয়ে গেছে খুড়ো। এই এসে পড়ল বলে! তা হলে এই ফাঁকে চা-টা বলে দে।…

গণৎকার তারিণীখুড়ো - সত্যজিৎ রায়

গণৎকার তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

তারিণীখুড়োর এক ভাইপো এক চা কোম্পানিতে ভাল কাজ করে, সে খুড়োকে এক টিন স্পেশাল কোয়ালিটির চা দিয়েছে। খুড়ো টিনটা আমার হাতে চালান দিয়ে বললেন, এটা খোলাবার ব্যবস্থা কর; আজ তোদের চা না…

অক্ষয়বাবুর শিক্ষা - সত্যজিৎ রায়

অক্ষয়বাবুর শিক্ষা – সত্যজিৎ রায়

অক্ষয়বাবু ছেলের হাত থেকে লেখাটা ফেরত নিলেন। কী রে–এটাও চলবে না? ছেলে মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলনা, চলবে না। এটা অক্ষয়বাবুর পাঁচ নম্বর গল্প যেটা ছেলে নাকচ করে দিল। অক্ষয়বাবুর ছেলের নাম অঞ্জন।…

পটলবাবু ফিল্মস্টার - সত্যজিৎ রায়

পটলবাবু ফিল্মস্টার – সত্যজিৎ রায়

পটলবাবু সবে বাজারের থলিটা কাঁধে ঝুলিয়েছেন এমন সময় বাইরে থেকে নিশিকান্তবাবু হাঁক দিলেন, পটল আছ নাকি হে? আজ্ঞে হ্যাঁ। দাঁড়ান, আসছি। নিশিকান্ত ঘোষ মশাই নেপাল ভট্টচাজ্যি লেনে পটলবাবুর তিনখানা বাড়ির পরেই থাকেন।…

সেপ্টোপাসের খিদে - সত্যজিৎ রায়

সেপ্টোপাসের খিদে – সত্যজিৎ রায়

কড়া নাড়ার আওয়াজ পেয়ে আপনা থেকেই মুখ থেকে একটা বিরক্তিসূচক শব্দ বেরিয়ে পড়ল। বিকেল থেকে এই নিয়ে চারবার হল; মানুষে কাজ করে কী করে? কার্তিকটাও সেই যে বাজারে গেছে আর ফেরার নামটি…

নরিস সাহেবের বাংলো - সত্যজিৎ রায়

নরিস সাহেবের বাংলো – সত্যজিৎ রায়

তারিণীখুড়োকে ঘিরে আমরা পাঁচ বন্ধু বসেছি, বাদলা দিন, সন্ধে হব-হব, খুডোর চা খাওয়া হয়ে গেছে। এবার বিড়ি ধরিয়ে হয়তো গল্প শুরু করবেন। খুড়ো এলে সন্ধেতেই আসেন, আর এলেই একটি করে গল্প লাভ…

দুই বন্ধু - সত্যজিৎ রায়

দুই বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

মহিম বাঁ হাতের কবজি ঘুরিয়ে হাতের ঘড়িটার দিকে এক ঝলক দৃষ্টি দিল। বারোটা বাজতে সাত। কোয়ার্টজ ঘড়ি–সময় ভুল হবে না। সে কিছুক্ষণ থেকেই তার বুকের মধ্যে একটা স্পন্দন অনুভব করছে, যেটা অত্যন্ত…

আমি ভূত – সত্যজিৎ রায়

আমি ভূত – সত্যজিৎ রায়

আমি ভূত। আজ থেকে ঠিক সাড়ে তিন বছর আগে আমি জ্যান্ত ছিলাম। সেই সময় এই দেওঘরের এই বাড়িতেই আগুনে পুড়ে আমার জ্যান্ত অবস্থার শেষ হয়। এই বাড়ির নাম লিলি ভিলা। আমি এখানে…

অতিথি - সত্যজিৎ রায়

অতিথি – সত্যজিৎ রায়

মন্টু কদিন থেকেই শুনেছে তার মা-বাবার মধ্যে কথা হচ্ছে দাদুকে নিয়ে। মন্টুর ছোটদাদু, মা-র ছোটমামা। দাদুর চিঠিটা যখন আসে তখন মন্টু বাড়ি ছিল। মা চিঠি পড়ে প্রথমে আপন মনে বললেন, বোঝে ব্যাপার।…

মৃগাঙ্কবাবুর ঘটনা - সত্যজিৎ রায়

মৃগাঙ্কবাবুর ঘটনা – সত্যজিৎ রায়

মৃগাঙ্কবাবু তাঁর সহকর্মী সলিল বসাকের কাছ থেকে প্রথম জানতে পারলেন যে বাঁদর থেকে মানুষের উদ্ভব হয়েছে। এ খবর আজকের দিনে শিক্ষিত লোকমাত্রই জানে, কিন্তু ঘটনাচক্রে খবরটা মৃগাঙ্কবাবুর গগাচরে আসেনি। আসলে তাঁর জ্ঞানের…