প্রতিকৃতি - সত্যজিৎ রায়

আর্যশেখরের জন্ম ও মৃত্যু – সত্যজিৎ রায়

অনেকের মতে আর্যশেখর ছিলেন যাকে ইংরাজিতে বলে চাইল্ড প্রডিজি। তাঁর যখন দশ বছর বয়স তখন একদিন স্টেটসম্যান পত্রিকার প্রথম পাতায় নীচের দিকে এক লাইন লেখা তাঁর চোখে পড়ল–সান রাইজেজ টুডে অ্যাট সিক্স…

টলিউডে তারিণীখুড়ো - সত্যজিৎ রায়

টলিউডে তারিণীখুড়ো – সত্যজিৎ রায়

তাকিয়াটাকে কোলের উপর টেনে নিয়ে আরও জমিয়ে বসে ঝুঁকে পড়ে তারিণীখুড়ো তাঁর গল্প আরম্ভ করলেন। — আমার তখন তেইশ বছর বয়স, তবে একটা তেকোনা ফ্রেঞ্চকাট গোছের দাড়ি রেখেছিলাম বলে মনে হত তেত্রিশ।…

প্রতিকৃতি - সত্যজিৎ রায়

প্রতিকৃতি – সত্যজিৎ রায়

রঞ্জন পুরকায়স্থ কলকাতার একজন নামকরা চিত্রকর। শুধু কলকাতা কেন, তাঁর খ্যাতি পশ্চিমবাংলার বাইরে সারা ভারতবর্ষেই ছড়িয়ে পড়েছে–বোম্বাই, মাদ্রাজ, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদে তাঁর আঁকা ছবির প্রদর্শনী হয়ে গেছে। ছবি বিক্রি করেই পুরকায়স্থ মশাইয়ের…

বারীন ভৌমিকের ব্যারাম - সত্যজিৎ রায়

বারীন ভৌমিকের ব্যারাম – সত্যজিৎ রায়

কন্ডাকটরের নির্দেশমতো ডি কামরায় ঢুকে বারীন ভৌমিক তাঁর সুটকেসটা সিটের নীচে ঢুকিয়ে দিলেন। ওটা পথে খোলার দরকার হবে না। ছোট ব্যাগটা হাতের কাছে রাখা দরকার। চিরুনি, বুরুশ, টুথব্রাশ, দাড়ি কামানোর সরঞ্জাম, ট্রেনে…

প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক-রহস্য - সত্যজিৎ রায়

প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক-রহস্য – সত্যজিৎ রায়

৭ই এপ্রিল অবিনাশবাবু আজ সকালে এসেছিলেন। আমাকে বৈঠকখানায় খবরের কাগজ হাতে বসে থাকতে দেখে বললেন, ব্যাপার কী? শরীর খারাপ নাকি? সকালবেলা। এইভাবে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে দেখেছি বলে তো মনে পড়ে…

ধুমলগড়ের হাণ্টিং লজ - সত্যজিৎ রায়

ধুমলগড়ের হাণ্টিং লজ – সত্যজিৎ রায়

মাথায় অনেকরকম উদ্ভট শখ চাপে মানুষের, বললেন তারিণীখুড়ো, কিন্তু আমার যেমন চেপেছে, তেমন কজনের চাপে জানি না। আমরা পাঁচজন ঘিরে বসেছি খুড়োকে। বাইরে এক পশলা বেশ ভাল বৃষ্টি হয়ে গিয়ে এখন সেটা…

লাখপতি - সত্যজিৎ রায়

লাখপতি – সত্যজিৎ রায়

ত্রিদিব চৌধুরী আর থাকতে না পেরে বিরক্তভাবে বেয়ারাকে ডাকার বোতামটা টিপলেন। কিছুক্ষণ থেকেই তিনি অনুভব করছেন যে, কামরাটা যত ঠাণ্ডা থাকার কথা মোটেই তত ঠাণ্ডা নয়। অথচ তাঁর তিন সহযাত্রীই দিব্যি নাক…

ব্রজবুড়ো - সত্যজিৎ রায়

ব্রজবুড়ো – সত্যজিৎ রায়

শঙ্কর চৌধুরী আধখানা হাতের রুটি ছিঁড়ে ডালে চুবিয়ে মুখে পুরে একবার পাশে বসা ছেলের দিকে চেয়ে নিলেন। তারপর চিবোতে চিবোতে বললেন, তোকে একটা কথা বলব বলব করেও বলা হয়নি। আমাদের ডাইনে একটা…

সদানন্দের খুদে জগৎ - সত্যজিৎ রায়

সদানন্দের খুদে জগৎ – সত্যজিৎ রায়

আজ আমার মনটা বেশ খুশি-খুশি, তাই ভাবছি এইবেলা তোমাদের সব ব্যাপারটা বলে ফেলি। আমি জানি তোমরা বিশ্বাস করবে। তোমরা তো আর এদের মতো নও। এরা বিশ্বাস করে না। এরা। ভাবে আমার সব…

নতুন বন্ধু - সত্যজিৎ রায়

নতুন বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

বর্ধমান স্টেশনের রেস্টোর্যান্টে ভদ্রলোক নিজেই যেচে এসে আলাপ করলেন। ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি আর গোঁফ, মোটামুটি আমারই বয়সী–অর্থাৎ বছর চল্লিশ-বেয়াল্লিশ–বেশ হাসিখুশি অমায়িক হাবভাব। বারোটা বাজে, তাই লাঞ্চটা সেরে নিচ্ছিলাম। আসলে চলেছি শান্তিনিকেতন, আমার সদ্য…

সহযাত্রী - সত্যজিৎ রায়

সহযাত্রী – সত্যজিৎ রায়

ত্রিদিববাবুর সাধারণত একটা হালকা বই পড়েই সময়টা কেটে যায়। কলকাতা থেকে দিল্লি ট্রেনে যাওয়া। কাজের জন্যই যেতে হয় দু মাসে অন্তত একবার। একটা ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে উচ্চপদস্থ কর্মচারী তিনি, হেড আপিস দিল্লিতে। প্লেনটা…

নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ - সত্যজিৎ রায়

নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

কোনও মানুষই তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে ষোলো আনা সন্তুষ্ট বোধ করে না। কোনওনা-কোনও ব্যাপারে একটা খুঁতখুঁতেমির ভাব প্রায় সবার মধ্যেই থাকে। রাম ভাবে তার শরীরে আরও মাংস হল না কেন–হাড়গুলো বড্ড বেশি…