জুতোচোর হইতে সাবধান - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মসনদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার কালো অ্যামবাসাডার গাড়ি রাজভবনে ঢুকছে। যখন গেটে প্রায় ঢুকে পড়েছি, তখন বুকটা ধক করে উঠল। ধরা যাক আর আধঘণ্টা। আর আধঘণ্টা পরে এই এতবড় একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাব আমি। পাঞ্জাবির…

বিবাহ-মঙ্গল - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বিদ্যুতের জাদুঘরে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

ওই যে দেখছেন সিলিং থেকে ঝুলছে লম্বা ডান্ডা, চারটে পাখা, ওই বস্তুটির নাম ছিল ফ্যান— ভাতের ফ্যান নয়, এফ এ এন ফ্যান—চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত মানুষকে হাওয়া দিত। তাই নাকি? কে…

জুতোচোর হইতে সাবধান - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

যা হয়, তা হয় – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মুখে পানের খিলি ঠুসে, সেজে গুঁজে চল্লে কোথায় দিদিমণি? আহা? কথার ছিরি দেখো। বউ আবার কবে থেকে দিদিমণি হল! বয়েস না হতেই ভীমরতি? তোমার ওই হুমদো মুখটা দেখলেই, কেন জানি না, ভোরের…

জুতোচোর হইতে সাবধান - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মানভঞ্জন পালা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

কথায় আছে, ব্যাচেলার বাঁচে প্রিন্সের মতো, আর মরে কুকুরের মতো। এই নীতিবাক্যটির রচয়িতা মনে হয় কোনও মেয়ের পিতা। কে কীভাবে মরবে বলা শক্ত। বিয়ে করলেই যে সুখের মৃত্যু হবে, এমন কথা কি…

ধ্যাততেরিকা সংসার - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

ধ্যাততেরিকা সংসার – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মনে মনে আমরা পরস্পর পরস্পরকে ঠেলছি। ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইছি। আমার পথ থেকে তুমি সরে যাও। প্রয়োজনে আমাদের এক চেহারা। মুখে মিষ্টি সম্বোধন। ভাই বলে কাঁধে হাত। বাড়িতে এলে সব্যস্ত চিৎকার, ওরে…

জুতোচোর হইতে সাবধান - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মইয়ের বদলে বই – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বাঘ যেমন মানুষ দেখলে খেপে যায়, যাঁরা বইয়ের নেশায় পড়েছেন, তাঁরা সেই রকম বই দেখলে নিজেকে আর সংযত রাখতে পারেন না, হামলে পড়েন। ছেলের লেখাপড়া, মেয়ের বিয়ে, বউয়ের অপারেশন সব মাথায় উঠে…

সুন্দরী বউ - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সুন্দরী বউ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সুন্দরী বউ থাকার কী জ্বালা! আমি এখন হাড়ে হাড়ে বুঝেছি। আমার বউ প্রথমে এত সুন্দরী ছিল না। বিয়ের জল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কী যে তাঁর হল শরীরের চামড়া একেবারে টান টান! দম…

গরুর রেজাল্ট - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

গরুর রেজাল্ট – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বড়মামা প্রায় কুঁকতে ধুকতে নীচে থেকে ওপরে উঠে এলেন। এমন চেহারা এর আগে আর কখনও দেখিনি। কপালের ডানপাশটা ফুলে ট্যাঁপা লালা। দু-হাতের কনুইয়ের কাছ পর্যন্ত লাল টকটকে। গাঢ় নীল রঙের সিল্কের লুঙ্গি…

পেয়ালা পিরিচ - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

পেয়ালা পিরিচ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার একটা সোয়েটার ছিল। কারওর স্নেহের হাতের বোনা নয়। নীরস দোকান থেকে কেনা। সেই সোয়েটার আমার ছাত্রজীবনের শেষভাগ থেকে চাকুরে জীবনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত শীতে আশ্রয় দিয়েছিল। তারপর স্ত্রীযোগে সোয়েটার বিয়োগ হল।…

খাটে বসে খেলা - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

খাটে বসে খেলা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমি এত বড় একজন বিশেষজ্ঞ হলাম কী করে, এ প্রশ্ন যদি কেউ করেন তাহলে বলব, আমার সাধনভূমি হল খাট আর উপকরণ হল গোটা চারেক বালিশ আর হাত চারেক তফাতে একটা টিভি। মাঠ…

হাইওয়ে - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

পায়রা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার দিদিটা পুরো একটা পাগলি। স্কুলে গরমের ছুটি। এই সময়টায় স্কুল বিল্ডিং রং করা হয়। মহা বিপদ হয় পায়রাদের। রংমিস্তিরা পায়রা-টায়রা বোঝে না। ভারায় উঠে ভলভল করে বিড়ি টানে, গলগল করে গান…

হাইওয়ে - সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

হাইওয়ে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমরা তখন হাঁটতে হাঁটতে সেই দোকানে গিয়ে বাঁশের বেঞ্চির ওপরে তিনজন বসলুম। বেশ ক্লান্ত। আমাদের তিনজনেরই কপালে ঘাম জমেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ। সেই কোন সকালে বেরিয়েছি। বলতে গেলে সূর্য ওঠার আগে। প্রথমে…