গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ওরা আসে নিশুতি রাতে। প্রতি অমাবস্যায়। তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিক শুনশান অদৃশ্যা মনে হয় এখানে কেউ বেঁচে নেই, কোনো বাড়িঘর নেই। বাতাসে গাছের ডগাগুলো কাঁপে, বাঁশবনে একটা বাঁশের সঙ্গে আর একটা বাঁশের…

ক্ষুধিত পাষাণ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষুধিত পাষাণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি এবং আমার আত্মীয় পূজার ছুটিতে দেশভ্রমণ সারিয়া কলিকাতায় ফিরিয়া আসিতেছিলাম, এমন সময় রেলগাড়িতে বাবুটির সঙ্গে দেখা হয়। তাহার বেশভূষা দেখিয়া প্রথমটা তাঁহাকে পশ্চিমদেশীয় মুসলমান বলিয়া ভ্রম হইয়াছিল। তাহার কথাবার্তা শুনিয়া আরো…

মহাবিহার - আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

মহাবিহার – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

বিদায় অনুষ্ঠানেও শীলাবতীর অভ্যস্ত সংযম আর গাম্ভীর্যের ব্যতিক্রম দেখল না কেউ। মেয়েরা তাঁকে ভক্তি করত এবং ভয় করত। শিক্ষয়িত্রীরা তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন এবং ভয় করতেন। এই চিরাচরিত ভক্তি শ্রদ্ধা ভয় কাটিয়ে শেষ…

বায়ু বহে পূরবৈয়াঁ - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

বায়ু বহে পূরবৈয়াঁ – চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

মেয়ে-স্কুলের গাড়ির সহিস আসিয়া হাঁকিল—“গাড়ি আয়া বাবা।” অমনি কালো গোরো মেটে শ্যামল কতকগুলি ছোট বড় মাঝারি মেয়ে এক-এক মুখ হাসি আর চোখভরা কৌতুক-চঞ্চলতা লইয়া বই হাতে করিয়া আসিয়া দরজার সমুখে উপস্থিত হইল…

ইহলোক - অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

ইহলোক – অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্প্রতি মা’র কিছু চিঠি আমাকে ভারি অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। চিঠিতে আর আগের মতো অনিয়মিত টাকা পাঠানোর অভিযোগ থাকে না। মাসের এক দু তারিখে ডাকযোগে টাকা না পাঠালে ক্ষোভে দুঃখে চিঠি—আমি মরি না…

গোঘ্ন - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

গোঘ্ন – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

চারু মাস্টারের বেহালা শুনে দোলাই বড় কেঁদেছিল। দোলাই ছিল নরম মনের ছেলে। বলেছিল, আপনার যন্তরে কী জানি কী যাদু আছে, কলজে টাটায়। হেই মাস্টেরবাবু, আপনার বিটির বিভায় যত কুমড়ো লাগবে, হামি দিবো।…

আম্র-তত্ব - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

আম্র-তত্ব – প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

দানাপুর স্টেশনের অনতিদূরে, ইংরাজ টোলায়, লাল টালি আচ্ছাদিত লম্বা ধরনের একখানি একতলা পাকা বাড়ী ইহা রেলওয়ে গার্ডগণের জন্য নির্মিত ‘রেস্ট হাউস’ বা বিশ্রামগৃহ। সারি সারি অনেকগুলি প্রকোষ্ঠ—সমুখে ও পশ্চাতে লম্বা টানা বারান্দা।…

সুখ নেই বৈভবে - ফয়সল সৈয়দ

কান্না – নবেন্দু ঘোষ

ঢং ঢং করে দুটোর ঘণ্টা বাজল। কান পেতে শুনল বিপিন রাত দুটোর ঘণ্টা বাজল। করিডোরে সান্ত্রীর পদচারণা চলছে। নাল বাঁধানো বুটের কঠিন শব্দ উঠছে— খট খট খট খটা একটানা শব্দ। শেষ রাতের…

আঙুরলতা – বিমল কর

আঙুরলতা – বিমল কর

মনে হল না এইমাত্র অতিবড় একটা সর্বনাশ ঘটে গেল আঙুরের—আঙুরলতার ঘরে। হাউমাউ করে কেঁদে নন্দর বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল না আঙুর। দুটো ঠাণ্ডা পা নিজের বুকের মধ্যে দু-হাতে জাপটে ধরে মাথা ঠুটতে…

রজনী হলো উতলা - বুদ্ধদেব বসু

রজনী হলো উতলা – বুদ্ধদেব বসু

মেঘনার ঘোলা জল চিরে স্টিমার সামনের দিকে চলছে তার দু-পাশের জল উঠচে, পড়চে, দুলচে—তারপর ফেনা হয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্চে, জলকন্যার নগ্নদেহের মতো শুভ্র, দ্রাক্ষারসের মতো স্বচ্ছ। একদিকে তরুপল্লবের নিবিড় শ্যামলিমা, অন্যদিকে দূর…

ভস্মশেষ - প্রেমেন্দ্র মিত্র

ভস্মশেষ – প্রেমেন্দ্র মিত্র

বারান্দার এদিকটা সরু। নীচে নামবার সিঁড়িরও খানিকটা ভেঙে পড়েছে। তবু সন্ধ্যের আগে এই দিকেই চেয়ারগুলো ও টেবিল পাতা হয়—এদিক থেকে দূরে পাহাড় আর নদীর খানিকটা দেখা যায় বলে। কৈফিয়ৎটা নিরর্থক। পাহাড় আর…

বজরা - বরেন গঙ্গোপাধ্যায়

বজরা – বরেন গঙ্গোপাধ্যায়

পঞ্চাশ বছর আগে হলে দেখা যেত এই বজরাখানারই গমক কত! ঝাড়লণ্ঠনের নিচে ফরাস বিছিয়ে সারেঙ্গীর উপর ছড় টানতো বড়ে মিঞা হারমোনিয়মের বেলো ছেড়ে দিয়ে ফাঁক বুঝে আতরমাখা পান তুলে নিত প্রেমচাঁদ আর…