হযরত মুসা (আঃ)-এর জীবনী

হযরত মুসা (আঃ)-এর জীবনী

হযরত মুসা আঃ এর জীবনী নিয়ে আমাদের অনেকেরই আগ্রহ প্রচুর। তার জীবন ছিল একই সাথে ঘটনাবহুল এবং ইসলামের ইতিহাস হোক বা পৃথিবীর ইতিহাস হোক তিনি সবখানেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মহাগ্ৰন্থ আল কুরআনে সর্বাধিক আলোচিত এবং উদ্ধৃত ব্যক্তি তিনিই। নৈকট্যশীল এই নবীকে নিয়ে আজ পর্যন্ত লেখা হয়েছে অসংখ্য রচনা । তাঁর জীবনজুড়ে রয়েছে অসংখ্য গল্পগাথা । আজ সেই গল্পের ঝাপি উন্মুক্ত করা যাক।

পবিত্র কুরআনে হযরত মুসা আঃ এর জীবনী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তুলে ধরেছেন সূরা ক্বসাস ও সুরা ত্বহা এ যাতে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। আজকের এই ব্লগে আমি পবিত্র কুরআন এবং প্রচলিত মিথ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য নিয়ে আপনাদের সামনে হাযির হয়েছি। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে।

হযরত মুসা আঃ এর জন্ম

সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দী। তখনকার সময়ে প্রাচীন মিশরের রাজধানী ছিল পেন্টাটিউক, নীল নদের তীরে ছিল এই নগরী। এই নগরীর শেষ প্রান্তে বসবাস করত বনি ইসরাইল বংশের লোকেরা। এই নগরীর সম্রাট ছিল এক ফেরাউন, নাম – রামেসিস। ফেরাউন ছিল বনি ইসরাইল বংশের প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন।

কারণ- একবার কতিপয় গনক গননা করে তাকে জানায় বনি ইসরাইল বংশের কোন এক সন্তান মিশরের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। এতে ফেরাউন বিচলিত হয়ে উঠে। সে তার রাজ্যে ঘোষনা দিয়ে দেয়- বনি ইসরাইল বংশে যত সন্তান জন্ম গ্রহন করবে সবাইকে যেন হত্যা করা হয়।

তাই সেসময় ফেরাউনের গুপ্তচরেরা সন্তর্পণে ঘুরে বেড়াত। কেও জন্মগ্রহন করলেই তারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করত।

হযরত মুসা আঃ এর জীবনী জানতে হলে তার জন্মের আগের ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক এই সময়ই পিতা ইমরান আর মা ইউকাবাদের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্ৰহণ করেন শিশু মুসা (আঃ)। জন্মের পরপরই তাঁর মা খুব বিচলিত হয়ে পড়েন। কোলের সন্তানকে বাঁচাতে বড় অস্থির হয়ে পড়েন । ধাত্রীকে কড়জোড় অনুরোধ করলেন সে যেন কাউকে কিচ্ছু না বলে।

হযরত মুসা আঃ এর জত্যির্ময় চেহারা দেখে ধাত্রীর অন্তর প্রবল মমতায় ভরে উঠলো । সে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলবে না বলে মূসা আ এর মাকে নিশ্চিত করে ।

এভাবেই হযরত মুসা আঃ কে তাঁর মা তিন মাস গোপনে রাখলেন। লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে লালন পালন করলেন। কিন্তু আর কতদিন? এই বুঝি ফেরাউনের রক্ষী বাহিনী এলো বলে। মায়ের মন সন্তানের নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ ব্যাকুল হতে লাগলো। তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে জানিয়ে দিলেন সে যেন একটি বাক্সে ভরে মুসা আঃ কে নদীতে ভাসিয়ে দেন । পবিত্র কুরআনে ব্যাপারটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে,

وَ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰۤی اُمِّ مُوۡسٰۤی اَنۡ اَرۡضِعِیۡهِ ۚ فَاِذَا خِفۡتِ عَلَیۡهِ فَاَلۡقِیۡهِ فِی الۡیَمِّ وَ لَا تَخَافِیۡ وَ لَا تَحۡزَنِیۡ ۚ اِنَّا رَآدُّوۡهُ اِلَیۡکِ وَ جَاعِلُوۡهُ مِنَ الۡمُرۡسَلِیۡنَ

বাংলা অর্থঃ মূসার জননীর কাছে অহী পাঠালাম, [1] শিশুটিকে স্তন্যদান কর। যখন তুমি এর সম্পর্কে কোন আশংকা করবে, তখন একে (নীল) দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও এবং ভয় করো না, দুঃখও করো না। [2] নিশ্চয় আমি একে তোমার নিকট ফিরিয়ে দেব [3] এবং একে একজন রসূল করব। (সূরা ক্বসাস , আয়াত ৭)

আল্লাহ তায়ালার উক্ত নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কাঠের বাক্স বানিয়ে শিশু মুসা কে নদীতে ভাসিয়ে দেন। সেই কাঠের বাক্স ভাসতে ভাসতে ফেরাউনের প্রাসাদে গিয়ে ঠেকলো। কয়েকজন দাসী এসে তা তুলে নিয়ে ফেরাউন এবং তার স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুজাহিম রাঃ এর সামনে পেশ করলো।

হযরত আছিয়া বাক্সটা খোলার পর হযরত মুসা কে দেখে অতি মুগ্ধ হলেন। তিনি নিজের ছেলে হিসেবে রাখতে চাইলেন তাঁকে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধাল ফেরাউন। সে এঁকে হত্যা করতে চাইলো। তার মনে প্রবল সন্দেহ হলো — এ শিশুটি বনী ইসরাইলের কেউ হবে। হতে পারে এই সে-ই।

যার জন্য অসংখ্য শিশুকে সে হত্যা করেছে। কিন্তু হযরত আসিয়া বিনতে মুজাহিম রাঃ যুক্তি দিয়ে বললেন, ‘সে হয়ত আমাদের চক্ষের শীতলতা হবে। তাঁকে হত্যা করবেন না। আমরা তাকে আমাদের মত করে গড়ে নিব।’ ফেরাউন তার কথা মেনে নিল।

পবিত্র কুরআনের বর্ণনায়,

وَ قَالَتِ امۡرَاَتُ فِرۡعَوۡنَ قُرَّتُ عَیۡنٍ لِّیۡ وَ لَکَ ؕ لَا تَقۡتُلُوۡهُ ٭ۖ عَسٰۤی اَنۡ یَّنۡفَعَنَاۤ اَوۡ نَتَّخِذَهٗ وَلَدًا وَّ هُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ

ফিরআউনের স্ত্রী বলল, ‘এ শিশু আমার এবং তোমার নয়ন-প্রীতিকর। তোমরা একে হত্যা করো না।[1] সম্ভবতঃ সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসাবে গ্রহণ করব।’[2] প্রকৃতপক্ষে ওরা এর পরিণাম বুঝতে পারেনি।(সূরা ক্বসাস , আয়াত ৯)

হযরত মুসা আঃ এর শৈশবকাল

হযরত মুসা আঃ কে দুধপান করানো নিয়ে বেশ জটিলতায় পড়লেন আসিয়া রাঃ। ক’জন ধাত্রীকে আনা হলো অথচ সে কারো বুকেই মুখ লাগালো না। এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ দেখছিলেন মূসা আঃ এর বোন মরিয়ম। সে বলল , ‘আমি একজন ধাত্রীর সন্ধান দিতে পারি। সে অতি যত্নের সাথে তাকে লালন করবে এবং আমি আশাবাদী সে তাঁর দুধ পান করবে।’

এই ঘটনাটি ইবনে আব্বাস রা এভাবে বর্ণনা করেন, মরিয়মের কাছ থেকে এ কথা শুনে ফেরাউনের লোকেদের মনে সন্দেহ জাগলো — এই মেয়েটি বোধহয় তাঁর মা বাবার খোঁজ জানে।

তখন তাকে প্রশ্ন করা হলো, তুমি জানো কি করে তোমার নির্ধারিত ধাত্রীই তাঁর উপযুক্ত হবে?

তখন মরিয়ম বললেন , আমি চাই বাদশাহ খুশী হোক এবং আমরা উত্তম সম্মানী পাই।

একথাই তাদের সন্দেহ নিরসন হলো। মূসা আ তাঁর মায়ের কোলেই প্রাসাদে লালিত পালিত হলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাঁর মায়ের অন্তর প্রশান্ত করে দিলেন।

মুখে জড়তা তৈরী হলো যেভাবে

বিপত্তি বাঁধল কিছুদিন যাওয়ার পর। ফেরাউন মুসা আঃ কে কোলে নিলেন। তখন মূসা আঃ তার গালে প্রচণ্ড জোরে চড় বসালেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, তিনি ছড়ি দিয়ে খেলছিলেন। ফেরাউন কাছে যেতেই তিনি মাথায় আঘাত করে বসলেন।

এই ঘটনায় ফেরাউন বেশ চটে যায়। সে মূসা আঃ কে হত্যা করতে চাইলো। তবে আসিয়া রাঃ বুঝালেন, এটা নিতান্তই শিশুসুলভ আচরণ । আপনি তাকে পরিক্ষা করে দেখতে পারেন।

আসিয়া রাঃ এর কথামত পরীক্ষার আয়োজন করা হলো । এক পাত্রে মণিমুক্তা আরেকপাত্রে আগুনের অঙ্গার । মূসা আঃ কে ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি মণিমুক্তার দিকে গেলেও জিবরাঈল আঃ তাঁকে অঙ্গারের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন।

তিনি অঙ্গার হাতে স্পর্শ করে মুখে দিতেই মুখ পুড়ে গেল ।সেই থেকে শুরু হলো তাঁর মুখের জড়তা ।অধিকাংশ তাফসিরবিদগণ এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

হযরত মুসা আঃ এর জীবনী এর এই অংশটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম।

কীবতি হত্যা ও স্বদেশ ত্যাগ

হযরত মুসা আঃ শৈশব কৈশোরের চৌহদ্দি পেড়িয়ে সদ্য যৌবনে পদার্পণ করেছেন। এখন তিনি মাঝে মাঝেই প্রাসাদের বাইরে নগর দেখতে রের হন।

একদিন সন্ধ্যায় তিনি নগরীতে বের হলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখতে পান বনী ইসরাইলের একজন আর একজন কীবতি পরষ্পর মারামারি করছে। মূসা আঃ কে আসতে দেখে ইসরাইলী ব্যক্তিটি ফয়সালার জন্য এগিয়ে আসল। তার কথা শুনে তিনি কীবতিকে ডাকলেন। কিন্তু সে ঐদ্ধতা বশত মূসা আঃ এর কথায় কর্ণপাত করল না। তখন মূসা আঃ কীবতির কাছে গিয়ে তাকে আঘাত করলেন।

দূর্ভাগ্যবশত কীবতি সেই আঘাতে মারা গেল। মূসা আঃ আকষ্মিক এই মৃত্যুতে বেশ ভয় পেলেন । বিচলিত হয়ে পড়লেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন। মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা ক্বসাসে তার প্রার্থনা তুলে ধরেন এভাবে, মূসা বলল, এটা শয়তানের কাজ। সেতো প্রকাশ্য শত্রু ও পথভ্রষ্টকারী।

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ فَاغۡفِرۡ لِیۡ فَغَفَرَ لَهٗ ؕ اِنَّهٗ هُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’ [1] অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনিই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
কীবতি হত্যার ঘটনা জানাজানি হলো পরদিন। মূসা আঃ অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নগরীতে গেলেন। দেখলেন, গতকালের ইসরাইলী আবার এক কিবতীর সাথে ঝামেলায় জড়িয়েছে । তাকে সম্মোধন করে মূসা আঃ বললেন, ‘তুমি তো খুব খারাপ লোক।’

ইসরাইলী একথা শুনে ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠল, তুমি কি কীবতির মত আমাকেও মারতে চাও? তুমি তো এই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী না হয়ে সেচ্ছাচারী হচ্ছো?’

তার এ কথা শুনে কিবতী ফেরাউনের দরবারে গিয়ে হত্যার পরিস্থিতি সব খুলে বলল। ফেরাউন সব শুনে যথেষ্ট রেগে গিয়ে মুসা আঃ কে হত্যার আদেশ জারী করে।

মুসা আঃ এক হিতাকাঙ্খী থেকে এ খবর জানতে পেরে মাদায়েনের দিকে হিজরত করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াল্লা তায়ালা সেই লোকটির কথা কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেন,

وَ جَآءَ رَجُلٌ مِّنۡ اَقۡصَا الۡمَدِیۡنَۃِ یَسۡعٰی ۫ قَالَ یٰمُوۡسٰۤی اِنَّ الۡمَلَاَ یَاۡتَمِرُوۡنَ بِکَ لِیَقۡتُلُوۡکَ فَاخۡرُجۡ اِنِّیۡ لَکَ مِنَ النّٰصِحِیۡنَ

নগরীর দূর প্রান্ত হতে এক লোক দৌড়ে এসে বলল , হে মূসা ! পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার পরামর্শ করেছে । সুতরাং তুমি বাইরে চলে যাও । আমি তো তোমার কল্যাণকামী। (সূরা ক্বসাস, আয়াত ২০)

হযরত মুসা আঃ এর হিজরত

হযরত মুসা আঃ স্বদেশ ত্যাগ করলেন। তিনি যাত্রা শুরু করলেন মাদিয়ানের উদ্দেশ্যে। তখনকার সময়ে যারা মুরুভূমিতে যাত্রা করত তাদের উদ্দেশ্য থাকত পরবর্তী কুপের কাছে পৌছান। কারণ সেখানে গিয়ে কুপের সুশীতল পানি পান করে প্রশান্তি লাভ করা যেত।

হযরত মুসা আঃ মাদইয়ানের একটি মরূদ্যানে পৌছাতে সক্ষম হলেন, তিনি ছিলেন ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্থ। তাই তিনি স্বাভাবিকভাবেই পানি পান করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সেখানে একদল রাখাল তাদের পালিত পশুদের পানি পান করাচ্ছিল।

কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন, দুইজন রমণী তাদের পালিত পশু নিয়ে অপেক্ষা করছে পানি পান করানোর জন্য। তিনি ব্যাপারটি লক্ষ্য করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, কেন তারা তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছেনা।

জবাবে তারা জানাল, তারা যেহেতু মেয়ে তাই তারা অপেক্ষা করছে কখন পুরুষ রাখালদের পানি পান করানও শেষ হয়। এর পর তারা তাদের পশুদের পানি পান করাবে। তারা এও জানায়, তাদের পিতা বৃদ্ধ তাই তিনি একাজে অপারগ। এজন্য তারা নিজেরাই এখানে এসেছে।

মুসা আঃ তাদের সাহায্য করলেন। হযরত মুসা আঃ এর জীবনী জানতে হলে এটাও জানা হুবই জরুরী।

কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে, তখনকার দিনে রাখালদের অভ্যাস ছিল পানি পান করার পর কুপের মুখ বড় পাথরের ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখা হত। যা ছিল অনেক ওজন এবং বেশ কয়েকজন মিলে ঢাকনা সরাতে হত।

মুসা আঃ একাই সেই ঢাকনা সরিয়ে ছিলেন। তিনি তাদের সাহায্য করানোর পর, নিজে একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

জেনে রাখুন, এই রমনীদ্বয় ছিলেন হযরত শুয়াইব আঃ এর কন্যা, যদিও এ নিয়ে মতভেদ আছে কিন্তু পবিত্র কুরআনের বর্ণনা থেকে এব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

হযরত মুসা আঃ এর বিবাহ

তো রমনীদ্বয় যখন নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়ি ফিরে এল, তাদের পিতা হযরত শুয়াইব আঃ তাদের দ্রুত বাড়ি আসার কারণ জানতে চাইলেন। তারা ঘটনা খুলে বলেন তাদের পিতার কাছে।

হযরত শুয়াইব আঃ সাহায্যকারী ব্যক্তিকে প্রতিদান দিতে চাইলেন। কন্যাদ্বয়ের একজনকে পাঠালেন তাকে ডেকে আনার জন্য। তারা গিয়ে জানায় তাদের পিতা ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য এবং পারিশ্রমিক দেবার জন্য ডেকেছেন।

বাড়িতে পৌছানর পর, মুসা আঃ তার অতীতের ঘটনা খুলে বলেন। সম্ভবত কন্যাদ্বয় দুইজনেই মুসা আঃ এর ঘটনা শুঞ্ছিলেন। তাদের মাঝে একজন তাদের পিতার কাছে আরয করেন, গৃহের কাজের জন্য আপনার একজন চাকরের প্রয়োজন আছে। আপনি তাকে নিয়োগ করুন।

শুয়াইব আঃ প্রশ্ন করলেন , তুমি জানলে কি করে সে কর্মদক্ষ?

তার মেয়ে জবাব দিল , আমরা বকরীকে পানি খাওয়াতে পারছিলাম না। তিনি আমাদের বকরীগুলোকে পানি খাওয়ালেন। তিনি নিমিষেই কূপের ঢাকনা তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। অথচ সেই কূপের ঢাকনা তোলা বেশ কষ্টসাধ্য।’

একথা শুনে শুয়াইব আঃ মূসা আঃ কে বললেন , ‘আমার এক মেয়েকে তোমার সাথে বিয়ে দিব। তার বিনিময়ে তুমি আট বছর আমার এখানে কাজ করবে। তবে তুমি চাইলে দশ বছরও থাকতে পার।’

মূসা আঃ তার কথায় রাজি হলেন। অধিকাংশ তাফসিরবিদগণের মতে তিনি দশ বছরই পূর্ণ করেছেন।

হযরত মুসা আঃ এর নবুয়ত লাভ

দীর্ঘ দশ বছর পর হযরত মুসা আঃ মাদায়েন থেকে মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও শশুর ইয়াকুব আ. এর দেওয়া একপাল বকরী। মাদায়েন থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর এক রাতে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো সেই সাথে গাঁ হিম করা বাতাস। হযরত মুসা আঃ আলো জ্বালানোর চেষ্টা করলেন কয়েকবার । কিন্তু পারলেন না।

হঠাৎ দেখলেন দূরের পাহাড়ে আগুনের শিখা জ্বলছে। তিনি ভাবলেন কেউ বোধহয় আছেন। যার কাছ থেকে আগুন পাওয়া যাবে। তিনি স্ত্রী সাফুরাকে বললেন, তোমরা এখানে অপেক্ষা কর, আমি আগুনের দেখা পেয়েছি। হয়ত সেখানে কেউ আছে। আমি তার থেকে আগুন আর পথের দিশা জেনে নিব। যেহেতু আমরা পথও হারিয়েছি।

হযরত মুসা আঃ পাহাড়ের নিকট পৌঁছে হতভম্ব হয়ে গেলেন। সবুজ শ্যামল পাতাভরা গাছ হতে আগুন বের হচ্ছে। হতভম্ব ভাব কাটিয়ে যখন তিনি একটি শুকনো ডালে আগুন নিতে গেলেন ঠিক তখনই শোনা গেল,

فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوۡدِیَ مِنۡ شَاطِیَٴ الۡوَادِ الۡاَیۡمَنِ فِی الۡبُقۡعَۃِ الۡمُبٰرَکَۃِ مِنَ الشَّجَرَۃِ اَنۡ یّٰمُوۡسٰۤی اِنِّیۡۤ اَنَا اللّٰهُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ

অর্থাৎ, ‘হে মূসা ! আমিই সমস্ত জগতের প্রতিপালক ।’ (সূরা কাসাস, আয়াত ৩০)
অতঃপর তিনি আরো শুনলেন, হে মূসা ! তোমার হাতে কী?

তিনি বললেন , এটা আমার লাঠি। এতে আমি ভর দিই; এটি দিয়ে আঘাত করে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা পারি এবং এটি আমার অন্যন্য কাজেও লাগে। ‘

আল্লাহ বললেন , ওটাকে যমিনে নিক্ষেপ কর ।

তিনি তাই করলেন। সঙ্গে সঙ্গে লাঠিটি এক বিশাল অজগর সাপ হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি শুরু করলো। হযরত মুসা আঃ ভীষণ ভয় পেলেন। তিনি পিছন দিকে পালানোর চেষ্টা করলেন।

তখন আল্লাহ বললেন, মূসা, ওটাকে ধরো । মূসা আঃ ধরতে সাহস পেলেন না।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তখন বললেন, ‘ওটা ধর মূসা। আমি তাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিব। ঠিক যেই অবস্থার সাথে তুমি পরিচিত।’

এটি ছিল তূর পর্বতে আল্লাহর পক্ষ হতে হযরত মুসা আঃ কে দেওয়া প্রথম মোজেযা। এরপর আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা তাঁকে বললেন, ‘তোমার হাত বগলে রাখো। ওটা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অপর এক নিদর্শন স্বরূপ।’

আল্লাহর কথামত তিনি হাত বগলে রেখে আবার বের করলেন । দেখা গেল , তাঁর হাত প্রদীপের আলোর মত জ্বলজ্বল করছে। এতে তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন এই বিশ্বাস তাঁর অন্তরে আরো ভালোভাবে বদ্ধমূল হয়ে গেল।

এই দুটি নিদর্শন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁকে দিয়েছিলেন কারণ সবাই যেন মহান আল্লাহ পাকের অসীম ক্ষমতার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে।

আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা আঃ কে আরও বললেন , তুমি মিশরের ফেরাউনের নিকট যাও। তুমি তাকে আমার ইবাদতের দাওয়াত দাও। যিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনিই পৃথিবীর একমাত্র অধিপতি। তাকে বনী ইসরাইলের প্রতি সদয় হতে বলো। নিশ্চয় সে অনেক যুলুম করেছে। সে দয়াময় আল্লাহকে ছেড়ে দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে।’

হযরত হারুন আঃ এর জন্য নবুয়তের সুপারিশ

হযরত মুসা আঃ তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় ফেরাউনের প্রাসাদে কাটিয়েছেন। শৈশবে মুখ পুড়ে যাওয়ার কারণে তাঁর মুখে জড়তা সৃষ্টি হয়। অথচ নবুয়তের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য বিশুদ্ধভাষী হওয়া জরুরী।

তাই তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন, ‘হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন। আমার ভাই হারুনকে।

তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন। এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন । যাতে আমরা বেশী করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করতে পারি।এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছেন।’ (সূরা ত্বহা , আয়াত ২৬-৩৬)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন। এবং অতিসত্বর মিশরে যাওয়ার আদেশ দিলেন। সেইসাথে মূসা আঃ কে স্বরণ করিয়ে দিলেন তাঁর প্রতি শৈশবের অনূগ্ৰহের কথা।

সে কথা কুরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছে ,

আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল। আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।

যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম , তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে রাখ, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, অতঃপর দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শক্র ও তার শক্র উঠিয়ে নেবে। আমি তোমার প্রতি মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সামনে প্রতি পালিত হও। (সূরা ত্বহা , আয়াত ৩৭-৪০)

ফেরাউনকে দ্বীনের দাওয়াত

মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশমতো হযরত মুসা ও হারুন আঃ ফেরাউনের প্রাসাদে গিয়ে তাকে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন। আল্লাহ প্রদত্ত মুজেজা প্রদর্শন করলেন ।

কিন্তু সে ঐদ্ধতা বশতঃ সেই মুজেজাকে নিছক জাদু বলে প্রত্যাখ্যান করল। সে অস্বীকার করল। তাচ্ছিল্য করে বলল, আমি তো কখনো শুনিনি যে আল্লাহ এক; আমি কেন আমার পূর্ব পুরুষদের কেউই একথা শুনেনি। অতঃপর তার সভাসদদের লক্ষ্য করে বলল,

وَ قَالَ فِرۡعَوۡنُ یٰۤاَیُّهَا الۡمَلَاُ مَا عَلِمۡتُ لَکُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَیۡرِیۡ ۚ فَاَوۡقِدۡ لِیۡ یٰهَامٰنُ عَلَی الطِّیۡنِ فَاجۡعَلۡ لِّیۡ صَرۡحًا لَّعَلِّیۡۤ اَطَّلِعُ اِلٰۤی اِلٰهِ مُوۡسٰی ۙ وَ اِنِّیۡ لَاَظُنُّهٗ مِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ ﴿۳۸﴾

হে আমার পরিসদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য উপাস্য আছে বলে আমি জানিনা। হে হামান! আমার জন্য ইট পুড়িয়ে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর। হয়ত আমি সেখানে উঠে মূসার মাবুদকে দেখতে পাব। তবে আমি মনে করি সে মিথ্যাবাদী। (সূরা ক্বসাস , আয়াত ৩৮)

তারপর ফেরাউন মূসা আঃ কে লক্ষ্য করে বলল ,’হে মূসা, তুমি কি যাদুর জোড়ে আমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্যে আগমন করেছ? অতএব, আমরাও তোমার মোকাবেলায় তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি বিরাট প্রান্তরে জাদুর প্রতিযোগিতার দিন ঠিক কর, যার খেলাফ আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না।’

‘মূসা বললঃ উৎসবের দিন পূর্বাহে লোকজন সমবেত হবে।’ (সূরা ত্বহা , আয়াত ৫৭-৫৯)

হযরত মুসা আঃ এর জীবনী – ফেরাউনের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জাদুমঞ্চ ও জাদুকরদের ইমানী বিপ্লব

বিশাল মাঠে জাদু দেখানোর আয়োজন করা হলো। ফেরাউনের জন্য তার সিংহাসন এনে ছামিয়ানার নিচে পাতা হলো। তার আশপাশে মন্ত্রীদের বসার জায়গা। অনেক বেশি লোকসমাগম হলো। দেশের সবচেয়ে দক্ষ জাদুকররা এলো।

সেই বিশাল জনসভায় মুসা আঃ দীপ্ত কণ্ঠে বললেন, ‘দুর্ভাগ্য তোমাদের; তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। তাহলে তিনি তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ধবংস করে দেবেন। যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, সেই ব্যর্থ হয়েছে।’

মুসা আঃ এর কথা শুনে তারা খানিক বিষ্মিত হয়ে পরষ্পর পরামর্শ করল। তারপর মূসা আঃ কে লক্ষ্য করে বলল , তুমিই আগে শুরু করবে নাকি আমরা?

তিনি বললেন, ‘তোমরাই আগে শুরু কর। জাদুকররা তাদের লাঠি আর দড়ি জমিনে নিক্ষেপ করল । সেগুলো জাদুর প্রভাবে এদিক সেদিক ছোটাছুটি শুরু করল।

মুসা আঃ এসব দেখে খানিক ভয় পান। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁকে অভয় দিয়ে বলেন, ভয় করো না, তুমিই বিজয়ী হবে।

তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না। (সূরা ত্বহা , আয়াত ৬৯-৭০)

মুসা আঃ যখন তাঁর লাঠি জমিনে নিক্ষেপ করলেন সঙ্গে সঙ্গে সেটি বিরাট আজদাহা হয়ে মাঠের সবগুলো সাপ গ্ৰাস করে ফেলল। জাদুকররা বুঝতে পারল, এ নিছক জাদু নয়। তারা সকলেই তখন সেজদায় অবনত হয়ে ইমান আনল।

প্রিয় পাঠক হযরত মুসা আঃ এর জীবনী কতটা ঘটনাবহুল, আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

বনী ইসরাইলের মিশরত্যাগ ও ফেরাউনের ধ্বংস

ফেরাউন যখন ইমান আনল না। এবং বনী ইসরাইল কেও তার দাসত্ব হতে মুক্তি দিল না তখন আল্লাহ মূসা আঃ কে মিশর ত্যাগ করার আদেশ দেন। রাতের অন্ধকারে মূসা আঃ বনী ইসরাইলকে নিয়ে বের হয়ে পড়েন। ফেরাউন এই খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে বনী ইসরাইলের পিছনে পিছনে যাত্রা শুরু করে।

বনী ইসরাইলের লোকেরা সমুদ্রের সামনে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে মূসা আঃ কে বলে, সামনে সমুদ্র আর পিছনে ফেরাউনের লষ্করবাহিনী। এখন আমরা করব কী?

এই সাগর হল সেই সাগর যাকে আমরা আজ লোহিত সাগর নামে চিনি।

মূসা আঃ বললেন, হতাশ হবে না। আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন ।‌

তৎক্ষণাৎ আল্লাহ ওহী নাজিল করে বলে দিলেন, তোমার হাতের লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর। এতে তোমাদের জন্য রাস্তা তৈরী হয়ে যাবে। ‘

হযরত মুসা আঃ লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে বারোটি পথ তৈরি হয়ে গেল। পিছন থেকে ফেরাউন বাহিনী সেই রাস্তায় ঢুকতেই সমুদ্র মিলিত হয়ে তাদের গ্ৰাস করে নিল।

পবিত্র কুরআনে ব্যাপারটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ বলেন, ‘আমি মূসা প্রতি এই মর্মে ওহী করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে শুষ্কপথ নির্মাণ কর। পেছন থেকে এসে তোমাদের ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় করো না।

অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল।

ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি।’ (সূরা ত্বহা , আয়াত ৭৭- ৭৯)

তাওরাত লাভ ও বনী ইসরাইলের গোবৎস্য পূজা

হযরত মুসা আঃ বনী ইসরাইলকে নিয়ে মিশর ত্যাগ করে অন্যত্রে গিয়ে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে থাকাকালীন সময়ে আল্লাহ মূসা আঃ কে তাওরাত কিতাব দান করেন।

হযরত মুসা আঃ তাওরাতের জন্য তূর পর্বতে চল্লিশ দিন ই’তেকাফ করেন। সেই ফাঁকে বনী ইসরাইল গোবৎস পূজা শুরু করে । যদিও তিনি তাদেরকে হারুন আঃ দায়িত্বে রেখে গিয়েছিলেন কিন্তু বনী ইসরাইল তাঁকে মান্য করেনি।

মুসা আঃ এসে যখন এসব দেখলেন তখন বেশ রাগান্বিত হন। এই গোবৎস্য পূজার কারণে তখন বনী ইসরাইলকে চরম শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সে ঘটনা আরেক ব্লগে আপনাদের জানাব।

বনি ইসরাইল নিয়ে একটি সম্পূর্ণ লেখা পড়ুন এখানে।

মৃত্যু

হযরত মুসা আঃ এর জীবনী আশা করি আপনাদের ভাল লেগেছে। সব কিছুরই শেষ আছে, পৃথিবীর প্রতিটি প্রানিকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতেই হবে। হযরত মুসা আঃ ও তার ব্যতিক্রম নন।

মুসা আঃ এর মৃত্য হয়েছিল ফিলিস্তিনে। তাঁর মৃত্যুর জন্য যখন মালাকুল মাওত আসল তখন তাকে মুসা আঃ চপেটাঘাত করেন। মালাকুল মাওত আল্লাহর কাছে গিয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যিনি মৃত্যু চান না।’

আল্লাহ বললেন , তাঁকে একটি ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখতে বলো। তাঁর হাতের নিচে যতগুলো পশম পড়বে তাঁকে ততগুলো বছর হায়াত দেওয়া হবে ।

মুসা আঃ বললেন, আল্লাহ , তারপর কী হবে ?

আল্লাহ বললেন, তারপর মৃত্যু। মুসা আঃ এ কথা শুনে বললেন , তাহলে সে মৃত্যু এখনই হোক।

এরপর তিনি হাতে একটি পাথর নিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ঢিল ছুঁড়লেন। পাথরটি যেখানে গেল সেখানে তাঁকে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলেন। অতঃপর সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করলেন। তার হায়াত ছিল দীর্ঘ ১২০ বছর। দীর্ঘ আয়ুষ্কাল তিনি তার গোত্র বনি ইসরাইলকে পথ প্রদর্শন করেছেন। এর মাঝে ৪০ বছর তিনি তার গোত্রকে নিয়ে এসেছেন মিশর থেকে ফিলিস্তিনে।

সারা জীবন তিনি কোন সুখভোগ করেননি। তিনি তার জীবন কাটিয়েছেন তার গোত্র বনি ইসরাইলের জন্য, তাদের নানা বিপদ আপদে তিনি অকুন্ঠভাবে সহযোগিতা করেছেন।

তথ্যসূত্র : তাফসীরে ইবনে কাসীর , কুরতুবি , সহিহ বুখারী।

Facebook Comment

You May Also Like