স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মহব্বত বাড়ানোর কৌশল

ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প

মহব্বত দুই দিক থেকেই হতে হবে, স্বামীর দিক থেকে স্ত্রীর জন্য যেমন মহব্বত, স্ত্রীর দিক থেকেও স্বামীর জন্য তেমন মহব্বত হতে হবে। নবী করিম (দঃ) এর বৈবাহিক জীবন যদি আমরা ফলো করি তাহলে আমরা আমাদের ঘরকে জান্নাতের টুকরা বানাতে পারি।

ঘর এতই শান্তির হয় মানুষ ঘরে জান্নাতের স্বাধ আস্বাধন করে। স্বামী স্ত্রীর প্রসংশা করছে, স্ত্রী স্বামীর প্রসংশা করছে আর উভয়ে আল্লাহকে রাজি করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এটাই একটা ঘরের জন্য সবচেয়ে বড় শান্তির উপায় যে ঘরের বাসিন্দারা সবসময় জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ঘরের প্রতিটি লোক নেক আমলে লেগে থাকবে, জান্নাতের প্রস্তুতি নিতে থাকবে। আর এ পরিবেশ তখনই সম্ভব যখন স্বামী স্ত্রী একে অপরের সাথে মহব্বতের সাথে জীবনযাপন করেন, যদি স্বামীর স্বভাব এমন হয় যে আমি স্ত্রীকে ধমক ও চোখ রাঙ্গানোর মাধ্যমে আমার কথা শুনিয়ে ছাড়ব তাহলে সেখানে আর শান্তি সুখের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

এক বুযুর্গ বলে যে লোক মহব্বতের দ্বারা স্ত্রীকে বশ করতে পারে না সে তলোয়ারের মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে বশ করতে পারবে না। যদি একে অপরের সাথে মহব্বত থাকে সম্মান থাকে তাহলে ঘরে অবশ্যই শান্তি বজায় থাকবে জীবনটা অত্যন্ত আরামে কেটে যাবে।

সারা দুনিয়ায় স্বামী স্ত্রীর মহব্বতের ব্যপারে হাজারো রিসার্চ হয়েছে, এক রিসার্চে উঠে এসেছে আশ্চর্য্য ধরনের টিপস, সেখানে বলা হয়েছে যে স্বামী দিনে ৫ বার নিজের স্ত্রীকে মহব্বতের মেসেজ দিবে – মেসেজ অর্থ হয়ত তাকে ছুঁয়ে দিবে বা সাহস যোগাবে, কাজে সহযোগীতা করবে, খোশ গল্প করবে কিংবা এমন নাম ধরে ডাকবে যে ডাকে সে খুশী হয়, এভাবে কোন স্বামী যদি দিনে ৫ বার নিজের স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় সে স্ত্রী কখনো হতাশ হবে না বা ডিপ্রেশনের শিকার হবে না। রিসার্চকারী বলেন আমি অসংখ্য স্বামী স্ত্রীর উপর এই রিসার্চ করেছি যে সব স্বামী স্ত্রীদের প্রতি দিনে অন্তত ৫ ভাবে বা ৫ বার নিজের মহব্বতের প্রকাশ করবে সে স্ত্রী কখনো ডিপ্রেশনের শিকার হবে না।

আজ যে সব স্বামী স্ত্রী ঘরের মধ্যে নানান অশান্তিতে আছেন তারা চিন্তা করুন আপনি কি কখনো নিজের স্ত্রীকে সুন্দর নামে ডেকেছেন? স্ত্রীর সাথে হাসি মুখে কথা বলেছেন? স্ত্রীর সাথে খোশ গল্প করেছেন? স্ত্রীর কাজে সহযোগীতা করেছেন? স্ত্রী কোন সমস্যার কথা বললে তা মনযোগ দিয়ে শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁকে সাহস যুগিয়েছেন? যদি এসব না করেন তাহলে আপনার স্ত্রী খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাবে আপনার কথা তার ভাল লাগবে না, সে হতাশ জীবন যাপন করবে এবং ঘরে সব সময় অশান্তি বিরাজ করবে। তাই স্ত্রীদেরকে হতাশা থেকে বের করা স্বামীদের জন্য কোন ব্যপার না । আল্লাহ তায়ালা স্বামীদের হাতে যাদু দিয়েছেন, এমন যাদু আছে স্বামী শুধু স্ত্রীর হাত ধরলে স্ত্রী সব দুঃখ ভুলে যায়। সকল অভিমান ভুলে যায়। সকল রাগ মুছে যায়।

অনেক স্বামীরা স্ত্রীকে বশ করার জন্য তাবিজ খুঁজে, অথচ স্ত্রীকে মানানোর জন্য শক্তিশালী তাবিজ স্বামী নিজেই, স্ত্রীকে মানানোর জন্য দরকার স্ত্রীর প্রতি মহব্বত প্রকাশ করা, তাঁর সম্মান রাখা, মহব্বত ও পেয়ারের সাথে কথা বলুন স্ত্রীকে রেসপেক্ট দিতে থাকুন তাহলে দেখবেন আপনার স্ত্রী আপনার খাতিরে কোরবান হতেও প্রস্তুত হয়ে যাবে। তবে শতকরা ১ -২% এর ব্যতীক্রম হতে পারে, যারা স্বামীর কোন পরোয়াই করে না তাঁদের কথা ভিন্ন। কিন্তু বেশীর ভাগ স্ত্রী স্বামীর মহব্বত ও সম্মান পেলে যদি না খেয়েও থাকে, পড়ার কাপড়ও না পায় তবুও সে স্বামীর সাথে সুখেই থাকে। তাই সফল বৈবাহিক জীবন যাপনের জন্য নববী সুত্র হল স্ত্রীর প্রতি মহব্বত প্রকাশ করা এবং তাঁকে রেসপেক্ট করা, সন্তানদের সামনে স্ত্রীকে এমন কথা না বলা যাতে সন্তান তাদের মাকে অপছন্দ করেন।

আপনি যদি সন্তান ও আত্মিয় স্বজনের সামনে আপনার স্ত্রীকে সম্মান দেখান রাণীর মত আচরন করেন আপনার সন্তান আত্মিয় স্বজনও আপনার স্ত্রীর সাথে সম্মান দেখাবে। আর আপনি যদি সন্তানদের সামনে আত্মিয়দের সামনে নিজের স্ত্রীকে বাঁদির মত ব্যবহার করেন আপনার সন্তানও আত্মিয় স্বজনও আপনার স্ত্রীর সাথে বাঁদির মতই আচরন করবে, ফলে আপনার স্ত্রী ডিপ্রেশনের শিকার হবে এবং আপনার স্বর্গসুখের ঘর আর বজায় থাকবে না, তাই ঘরটাতে জান্নাতী পরিবেশ বজায় রাখতে একটাই সুত্র ভালবাসা ও সম্মান।

What’s your Reaction?
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0
+1
0

You May Also Like