হাস্যকর – তারাপদ রায়

হাস্যকর - তারাপদ রায়

ডাক্তারবাবু তাকে সিগারেট খেতে মানা করেছেন। বলেছেন, যদি চান, সন্ধের দিকে মদ একটু-আধটু খেতে পারেন, অল্প মদ শরীরের পক্ষে খারাপ নয়, বরং স্বাস্থ্যকর। কিন্তু সিগারেট নৈব। নৈব চ।

অর্ণব দত্ত বলেছিলেন, কিন্তু সিগারেট ঠোঁটে না থাকলে এক লাইন লিখতে পারি না।

ডাক্তারবাবু, তিনি কোনও সামান্য ডাক্তার নন, একশো টাকা ভিজিট, ডাক্তারসাহেব বলাই উচিত, তিনি বললেন, অন্য কোনও উপায় দেখুন! একেকটা সিগারেট গড়ে তিন ঘণ্টা করে পরমায়ু কমিয়ে দেয়।

অর্ণব দত্ত একজন খ্যাতনামা লেখক। অবশ্য নিতান্ত এইটুকু বললে তার অবমাননা করা হয়। এখনকার বাংলা ভাষার পাঠক-পাঠিকারা তাকে জানেন, হাসাহাসির গল্পে তার জুড়ি নেই।

বছরে দু-চারটে বই বেরোয় অর্ণব দত্তের। সেই বইগুলোও চমৎকার বিক্রি হয়। সম্প্রতি একটি বই অর্ণববাবু উক্ত ডাক্তারসাহেবকেও উৎসর্গ করেছেন। তাঁর আশা ছিল হয়তো ডাক্তারবাবু এর পরে আর ভিজিট নেবেন না। কিন্তু তা হয়নি, ডাক্তারবাবু এর পরেও অত্যন্ত নির্বিকারভাবে ভিজিটের টাকা নিয়েছেন।

অবশ্য উৎসর্গের ব্যাপারটাও খুব সুবিধের নয়। বই উৎসর্গ করতে লেখকের কোনও পরিশ্রম বা অর্থ ব্যয় করতে হয় না। একটু ভেবে-চিন্তে চেনাজানা বা দামি কোনও লোকের নামে এই উৎসর্গ করলেই হল। অথচ উৎসর্গ করলে উৎসর্গপত্র ও তার পরের সাদা পৃষ্ঠাটি সমেত বইয়ের দুই পৃষ্ঠা বেড়ে যায়। যার জন্যে বইয়ের দাম আজকের বাজারে পঞ্চাশ ষাট পয়সা বেশি হয়। আনুপাতিক হারে লেখকের রয়ালটিও বাড়ে।

 তা ছাড়া কারও নামে খ্যাতনামা লেখক বই উৎসর্গ করলে সেই ব্যক্তি যদি অনুগত বা প্রিয়জন কেউ হন, তিনি কৃতার্থ বোধ করেন। আবার ইচ্ছে হলে, নামীদামি লোকদেরও বই উৎসর্গ করে খুশি করা যায়।

অর্ণব দত্তের মতো জনপ্রিয় লেখকের একটা উৎসর্গীকৃত বই পেয়ে ডাক্তারসাহেবও নিশ্চয় খুব। খুশি হয়েছিলেন, কিন্তু তার কোনও বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি, তার ভিজিট তিনি যথারীতিই নিয়েছেন।

সে যা হোক, অর্ণব দত্তের শরীরের আজ বেশ কিছুদিন হল বেহাল অবস্থা চলছে। ডাক্তারের নিষেধ অমান্য করা তাঁর পক্ষে উচিত নয়।

তবে এ বয়সে মদ ধরা তার পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়। জিনিসটা পার্টি-টার্টিতে দুয়েকবার খেয়ে দেখেছেন অর্ণববাবু, তার মোটেই সহ্য হয় না। অনেক সময় বমি পর্যন্ত করে ফেলেছেন। মাথা ঘুরেছে, পা টলেছে, পরের দিন সকালে কপাল টনটন করেছে। তাঁর তালেবর বন্ধুরা অর্ণববাবুকে বলেছেন, এসব কিছু নয়। ধীরে ধীরে নিয়মিত খেয়ে যাও সয়ে যাবে। সকলে খেতে পারে, আর তুমি পারবে না।

কিন্তু অর্ণববাবুর মদ্যপানে রুচি নেই। ডাক্তারসাহেবের নির্দেশের পরে একদিন এক বোতল মদ কিনে সন্ধ্যাবেলা লেখার টেবিলে নিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু অল্প একটু পান করার পরে লেখা তো এগোলই না, বরং সবকিছু ঘুলিয়ে গেল।

তখন আরও একটু খেলেন। এবার কিন্তু ফ্লো এসে গেল। তাড়াতাড়ি কাগজকলম টেনে নিয়ে তরতর করে লিখে গেলেন।

পরের দিন সকালবেলা আগের রাত্রে লেখা পাণ্ডুলিপি পড়তে গিয়ে তার চোখ কপালে উঠল। এসব কী আবোল তাবোল লিখেছেন। গল্পের নায়ক শেয়ালদা স্টেশন থেকে পুরী এক্সপ্রেসে চড়ে আসানসোল চলেছে। গল্পের শুরুতে নায়কের স্ত্রীর নাম মালতী, আসানসোল বাড়িতে তার স্ত্রীর নাম সরমা, পরে পুরী থেকে নায়ক স্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন প্রিয়তমা অমলিনা বলে। অবশ্য নায়কের নামও ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়েছে, প্রথমে পুরন্দর, তারপরে পুণ্ডরীকাক্ষ অবশেষে পৌন্ড্রবর্ধন।

নিজের লেখা রচনা পড়ে অর্ণব দত্ত একেবারে থ মেরে গেলেন। টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, প্রায় আধবোতল মদ খেয়েছেন কালরাতে। পরে রাতে বিছানা থেকে উঠে বমিও প্রচুর করেছেন। এই সকালবেলায় বাথরুম দিয়ে টক গন্ধ বেরোচ্ছে। জমাদার ডাকিয়ে পরিষ্কার করাতে হবে।

কিন্তু এই গল্পটা কাল রাতেই শেষ করার কথা ছিল। পুরনো দেয়ালঘড়ির দিকে তাকিয়ে অর্ণব দত্ত দেখলেন সাড়ে দশটা বাজে। অতিরিক্ত মদ্যপান করে এবং শেষ রাত পর্যন্ত ঘর-বাথরুম করে অর্ণব দত্ত ঘুম থেকে উঠতে বেলা করে ফেলেছেন, সাড়ে নটা বেজে গেছে।

এখন আর লেখার সময় নেই। আরেকবার করুণ চোখে গতরাতের হাবিজাবি লেখাটার দিকে তাকালেন অর্ণব দত্ত। মদ খেয়ে, কঠোর পরিশ্রম করে, হেঁচকি তুলতে তুলতে গল্পটা লিখেছিলেন অর্ণববাবু। খুব বেশি লেখা এতটা মেহনত করে তিনি লেখেননি। এখন লেখাটা সামনের কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

এই রকম ভাবতে ভাবতে নিজের মনে একটু হাসলেন অর্ণববাবু। জ্ঞানী, গুণী লোকেরা, সমালোচকরা অনেকেই অনেক সময় বলেন অর্ণব দত্তের কোনও লেখাই পড়বার যোগ্য নয়। বাজে কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া উচিত, আজ অবশেষে তিনি নিজেই তার এত কষ্টের লেখা বাজে কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দিচ্ছেন।

ফেলে না দিয়ে উপায় নেই। কিন্তু এখন কী করা যাবে? রামলগন তেওয়ারির এগারোটার সময় আসার কথা, পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে অর্ণববাবু জানেন যে কাঁটায় কাটায় এগারোটাতেই রামলগন এসে যাবেন।

কাল রাতে রামলগনের গল্পটাই লেখার কথা ছিল অর্ণববাবুর। এর জন্যে ইতিমধ্যে কিছু আগামও তিনি নিয়েছেন।

রামলগন ভাল টাকা দেন। তার চেয়ে বেশি টাকা আজকাল আর কেউ দেন না। রামলগন তেওয়ারির কাগজের নাম নবযুগ। কলকাতা থেকে একসঙ্গে পাঁচটি ভাষায় প্রকাশিত হয়, বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া, অহমিয়া এবং নেপালি–পূর্বাঞ্চলের সব কয়টি ভাষায়।

প্রত্যেক ভাষায় একজন করে আলাদা সম্পাদক আছে। কিন্তু সে নামমাত্র। রামলগনই সব। তিনিই প্রতিষ্ঠাতা, তার নিজস্ব কোম্পানি রামলগন অ্যান্ড সন্সই কাগজগুলির মালিক।

 রামলগনের অবশ্য কোনও ছেলে নেই। তিনি এখন পর্যন্ত বিয়েই করেননি। কিন্তু ভবিষ্যতে বিয়ে করলে, তখন যদি ছেলে হয়, তাদের মালিকানার ক্ষেত্রে তাঁর মৃত্যুর পরে যদি কোনও বাধা হয় তাই আগে থেকেই ব্যাপারটা তিনি কোম্পানির নামকরণের মধ্যে দিয়ে সেরে রেখেছেন।

রামলগন অ্যান্ড সন্স তথা রামলগন তেওয়ারির আর কোনও ব্যবসা নেই, একমাত্র পত্রিকা প্রকাশ করা ছাড়া। মাসে মাসে পাঁচটি ভাষায় মোটমাট বেশ কয়েক লক্ষ পত্রিকা ছাপা হয় এবং দ্রুত নিঃশেষিত হয়ে যায়। পাঠককুলে নবযুগ পত্রিকার খুব চাহিদা।

সব কাগজে একই লেখা ছাপা হয়। হিন্দি ধারাবাহিক উপন্যাস, ওড়িয়া রম্যরচনা, বাংলা গল্প ইত্যাদি একেকটি ভাষায় অনুবাদ হয়ে একেকটি পত্রিকায়। যোগ্য অনুবাদকদের ভাল মাইনে দিয়ে রেখেছেন রামলগন। সেই অনুবাদকদের নামই যার যার ভাষায় পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে ছাপা হয়।

সাহিত্য ছাড়াও সিনেমা, থিয়েটার, যাত্রা, দূরদর্শন আছে, আছে খেলাধূলা, ফুটবল, ক্রিকেট। এসবের ওপর রামলগনের প্রবল উৎসাহ, অধিকাংশ মূল রচনাই হিন্দিতে তৈরি করেন তিনি। নানা খবরের কাগজ থেকে টুকে। ৪৮

তবে নবযুগ পত্রিকা মূলত হালকা চরিত্রের কাগজ। রম্যরচনা, হাসির গল্প, কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির কাহিনি এই সবের জন্যে পাবলিক নবযুগ পড়ে, কাড়াকাড়ি করে পড়ে।

কিন্তু রাজনীতির লাইনে রামলগন বা তার কাগজ নবযুগ নেই। রাজনীতি থেকে শতহাত দূরে থাকার চেষ্টা করে নবযুগ। তবু আজকালকার বাজারে রাজনীতির মধ্যেও এতসব হাসাহাসি মজার ব্যাপার এসে গেছে যে একটা তরল পত্রিকার পক্ষে সব সময় রাজনীতি বর্জন করে দূরে থাকা সম্ভব হয় না।

.

এই গল্পে রামলগন তেওয়ারি এবং তার প্রবর্তিত জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা নবযুগ সম্পর্কে বোধহয় আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

এবার আমরা ফিরে যাব শ্রীযুক্ত অর্ণব দত্তের শয়নকক্ষে। বেলা প্রায় এগারোটা বাজে। একটু পরেই রামলগন গল্প নিতে আসবেন।

অর্ণব দত্ত থাকেন উত্তর-পূর্ব কলকাতার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লেকটাউনের কাছাকাছি। নিজেই বাড়ি করেছেন। দোতলা করার ইচ্ছে আছে, সেই ভাবেই প্ল্যান পাশ করিয়েছেন, কিন্তু এখনও দোতলা করে উঠতে পারেননি। দোতলায় সিঁড়ির মুখে একটা বড়সড় চিলেকোঠা মতন ঘর করেছেন, সেটাই অর্ণববাবুর আস্তানা, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের হাসাহাসির গল্পের পীঠস্থান।

এই চিলেকোঠা ঘরই অর্ণববাবুর শয়নকক্ষ, ঘরের একপাশে দক্ষিণ দিকের জানলার পাশে একটি মাঝারি সাইজের খাট আছে। ঘরের অন্যপাশে উত্তর-পূর্ব কোণে দেয়াল ঘেঁষে লেখার টেবিল, তার দুদিকে দুটো চেয়ার। একটায় বসে অর্ণববাবু লেখাপড়া করেন, অন্যটায় বাইরের কেউ এলে বসে। টেবিলে লেখার প্যাড, কালিকলম। বইয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলা ইংরেজি অভিধান, সঞ্চয়িতা আর কয়েকটি বিলিতি জোকবুক। বইপত্র এ ঘরে বিশেষ নেই। সবই একতলায় বইয়ের ঘরে আলমারিতে, কিছু অতি প্রয়োজনীয় এবং সদ্য উপহার পাওয়া তৎসহ নিজের সদ্যপ্রকাশিত বই দোতলায় উঠবার সিঁড়ির বাঁকে একটা ছোট সেলফে রয়েছে।

অর্ণববাবুর তিন ভাই নীচতলায় সপরিবারে থাকেন। ভাইয়েরা বিশেষ কোনও উপার্জন করেন।। তাদের সংসার বলতে গেলে অর্ণববাবুই প্রতিপালন করেন। তার বিনিময়ে এঁরা তার দেখাশোনা করেন। খাওয়া পরার ব্যবস্থা করেন। অসুখ হলে ডাক্তার ডেকে আনেন। তাঁর লেখার সময়ে টেলিফোন এলে বলেন, বাথরুমে আছেন।

অনেকের ধারণা অর্ণব দত্ত চিরকুমার, কোনও কালে দার পরিগ্রহ করেননি। কথাটা ঠিক নয়।

এখন অর্ণববাবুর বয়স প্রায় পঞ্চাশ। পঁচিশ বছর আগে একটি চলনসই সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। অর্ণব দত্ত তখনই বেশ খ্যাতনামা, নবোদিত গল্পকার। আর সেই মহিলা, যাঁর ডাক নাম ছিল মালতী, ভাল নাম ছিল সরমা আর যিনি পদ্য লিখতেন শ্রীমতী অমলিনা এই ছদ্মনামে, তখন উদীয়মতী কবি।

.

আজ এই ঘন বর্ষার সকালবেলা আদিগন্ত হ্যাং ওভার মাথায় এবং একটি বাতিল পাণ্ডুলিপি চোখের সামনে নিয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন স্মৃতিচর্চা করছিলেন অর্ণব দত্ত।

সামনের লেখার টেবিলে গতকাল রাতের আধবোতল মদ নির্বিকার পড়ে আছে, অর্ণববাবুর যত রাগ গিয়ে পড়ছে ডাক্তারসাহেবের ওপর। এ কী রকম ডাক্তার, রোগীকে মদ খাওয়ার তাল দেয়। মেডিকাল কাউন্সিল কিংবা কনজিউমার্স কোর্টে গিয়ে ডাক্তারের ভিটেতে ঘুঘু চরিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু পরক্ষণেই তার খেয়াল হয় ডাক্তারসাহেব তো লিখিতভাবে মদ খাওয়ার পরামর্শ দেননি, শুধু মুখের কথা ধোপে টিকবে না। তখন মানহানির মামলায় অর্ণব নিজেই জেলে যাবেন।

হ্যাং ওভারের ব্যাপারটা হ্যাং পার্লামেন্টের মতোই গোলমেলে। পোড় খাওয়া মাতালেরা হ্যাং ওভারটা মোটামুটি ম্যানেজ করে নেন কিন্তু অর্ণব দত্তের এটা নতুন অভিজ্ঞতা, তিনি ক্রমাগত দোল খেতে লাগলেন, ডাক্তারসাহেব জেলে যাচ্ছেন, আমি জেলে যাচ্ছি।

এরই পাশাপাশি একটা স্মৃতিচারণ কাজ করছিল অর্ণববাবুর মনে। এসব কথা ভুলেই গিয়েছিলেন তিনি, সেই পঁচিশ বছর আগের কথা।

গতকাল রাতে মদ খেয়ে গল্প লিখতে লিখতে কাহিনির প্রধান স্ত্রী চরিত্রের যে তিনটি নামকরণ তিনি করেছেন সেটা কোনও কাল্পনিক ব্যাপার নয়, পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে অবচেতন মনের দৌলতে। অর্ণববাবুর সেই উদীয়মতী কবিপত্নীর যে যে নাম ছিল সেগুলি ওই স্ত্রী চরিত্রে আরোপিত হয়েছে।

বিয়ের পরে মাস ছয়েক সুখে, তারপরে বছর খানেক সুখ-দুঃখে কেটেছিল অর্ণববাবুর। তবে বিবাহিত জীবনের দুর্ভোগ তার পরে আর খুব বেশি সইতে হয়নি তাকে। শ্রীমতী অমলিনা পৌনে দু বছরের মাথায় কেটে পড়েছিলেন।

 অর্ণববাবুর সেই প্রথম যুগের একটা ছোট গল্প নিয়ে তখন সিনেমা করবেন ঠিক করেছিলেন এক পরিচালক। সেই পরিচালকের উপদেষ্টা তথা অভিভাবক ছিলেন নেলোদা নামে এক ব্যক্তি। খদ্দরের পাজামা, পাঞ্জাবি, পকেটে নস্যির কৌটো মুখময় বসন্তের দাগ। সব সময়ে হাসি হাসি ভাব, ডাইনে-বাঁয়ে সত্যি-মিথ্যে বলেন। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সবাইকে কথা দেন। একদা টালিগঞ্জের ভরাডুবি হয়েছিল যাদের জন্যে নেতোদা তার অন্যতম।

 তা এই নেলোদার সঙ্গে একদিন কেটে পড়লেন শ্রীমতী অমলিনা। রাজকাপুর না দেবানন্দ কে যেন নতুন নায়িকা খুঁজছেন; কবিত্বের বদলে রূপালি পর্দার মায়াজালে আকৃষ্ট হয়ে ঘর ছাড়লেন অমলিনা।

তারপর আর অমলিনার কোনও খোঁজ নেননি অর্ণব দত্ত। এবং স্বস্তি পেয়েছিলেন এত তাড়াতাড়ি ঘাড় থেকে নেমেছে বলে। অমলিনার অবশেষে কী হয়েছিল সেটাও আর খোঁজ করেননি অর্ণব, সে স্পৃহাও ছিল না।

মধ্য দিয়ে ঝড়ের মতো বিশ-পঁচিশ বছর কেটে গেছে। প্রথম দিকে ছোটখাটো একটা টুকটাক চাকরি করেছিলেন, তারপর শুধু লেখা। সোজা গল্পে খুব একটা সুবিধে করতে পারেননি, তখন বাঁকা গল্পের দিকে বেঁকেন। ব্যঙ্গ-কৌতুক, টীকা-টিপ্পনি। ফাঁকে ফাঁকে দুয়েকটা করে রস ও রহস্যের উপন্যাস। পাবলিক তার লেখা পড়ে, সেটা তাঁর রচনার চাহিদা এবং বইয়ের কাটতি দেখে টের পান অর্ণব দত্ত। তবে তিনি এটাও বুঝতে পারেন, তার যতটা নাম হয়েছে ততটা খ্যাতি-প্রতিপত্তি হয়নি।

আজকাল খ্যাতি-প্রতিপত্তি, প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি পেতে গেলে কিছুটা ভেক লাগে, কিছুটা বোলচাল লাগে। গল্পে কাহিনিতে সমাজচিন্তা, আর্থ-রাজনীতিক মশলা দিতে হয়। অর্ণব দত্তের সেসব আসে না।

সেসব চুলোয় যাক। অর্ণববাবু এসব নিয়ে আর মাথা ঘামান না। এখন তিনি মাথা ঘামাচ্ছেন, রামলগনবাবুকে কী বলবেন তাই নিয়ে।

রামলগনবাবু বোধহয় এসে গেছেন। এই মাত্র নীচে কলিং বেলের আওয়াজ শোনা গেছে।

দোতলায় সিঁড়ি দিয়ে বড় ভাইপো অলক উঠে এল, এসে ঘোষণা করল, রামবাবু এসেছেন। ঠিক তার পিছনেই রামলগন ছিলেন, তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন, অলক নীচে নেমে গেল।

রামলগন তেওয়ারি হৃষ্টপুষ্ট লোক। সব সময় হাসিখুশি। তার নাম শুনে যে ছবি মনে আসে তিনি মোটেই তা নন। শৌখিন মানুষ, ঘিয়ে রঙের সাফারি স্যুট পরে এসেছেন আজ, পায়ে সাদা রঙের চামড়ার চপ্পল কাম-কাবুলি।

অর্ণববাবু বসতে বলার আগেই রামলগন চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলেন। কপালটা বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে টিপে মুখ ব্যাজার করে অর্ণব দত্ত বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসেছিলেন। তিনি ইঙ্গিতে রামলগনকে চেয়ারটা বিছানার কাছে টেনে নিয়ে আসতে বললেন।

রামলগন চেয়ারটা নিয়ে অর্ণববাবুর কাছে এসে বসলেন। ঘুরে বসার সময় তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপরে অর্ধশূন্য পানীয়ের বোতলের দিকে। একটু মৃদু হেসে বোতলটির দিকে অর্থবহ। দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে রামলগন জিজ্ঞাসা করলেন, কী হয়েছে আপনার?

অর্ণব দত্ত বললেন, মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। এদিকে আপনার গল্পটাও লেখা হয়নি।

রামলগন বললেন, আপনি ডোবালেন। একদিনে একসঙ্গে পাঁচটা কাগজ বের করতে হয়। ডেট ঠিক না থাকলে খুব গড়বড় হয়ে যায়।

অর্ণব দত্ত বললেন, গল্পটা তো লিখেছিলাম।

রামলগন চঞ্চল হয়ে বললেন, সে কী? অন্য কাগজে দিয়ে দিলেন নাকি?

অর্ণব দত্ত মাথা নেড়ে বললেন, তাই হয় নাকি? আপনার গল্প অন্যকে দিয়ে দেব? গল্পটা আমার নিজের দোষে মাঠে মারা গেছে।

রামলগন নড়েচড়ে বসলেন, আপনার কথার মানেটা বুঝলাম না।

কপালের শিরা দুটো এখনও দপদপ করছে, সে দুটো চেপে ধরে আস্তে আস্তে অর্ণব দত্ত গতকাল রাতের ঘটনা এবং তার আগে ডাক্তারের পরামর্শ সবই রামলগনকে বললেন। এরপর লেখার টেবিলের মদের বোতলটা দেখিয়ে তিনি বললেন, ওই আধা বোতলটা খেয়েছিলাম।

কথাটা শুনে রামলগন যেন একটু খুশিই হলেন। বললেন, মদ খেয়ে তো ঠিক কাজই করেছেন। মদ খেয়ে লিখলে গল্পে যোশ হয়।

যোশ জিনিসটা যে কী সেটা অর্ণব দত্ত জানেন না, এর আগে শব্দটা তিনি শোনেননি। তিনি প্রশ্ন করলেন, যোশ? যোশ আবার কী? আপনি কি যশের কথা বলছেন?

রামলগন বললেন, আরে তা নয়। যোশ হল লেখার আসল জিনিস। আপনার গল্পে হাসিঠাট্টা পাওয়া যায় কিন্তু যোশ থাকে না। এই দেখুন বনমালী মৈত্রের উপন্যাস যোশে ভর্তি, কলেজের ছেলেমেয়েরা হইহই করে পড়ে। বনমালীবাবুর লেখা নিয়ে চায়ের কাপে তুফান উঠে যায়। টিভিতে সিরিয়াল হয়।

হ্যাং ওভারের মাথা জোরে নাড়াতে গেলে কষ্ট হয়। তবুও মাথা নাড়িয়ে অর্ণববাবু প্রতিবাদ জানালেন, অসম্ভব কথা বলছেন মিঃ তেওয়ারি। আমি মরে গেলেও কখনও বনমালী মৈত্রের মতো লেখার কথা ভাবব না।

বনমালীবাবুর ওপর আপনার রাগ আছে আমি জানি, তেওয়ারি বললেন, কিন্তু যোশের কথা যদি বলেন, কাল একটা লেখা পেয়েছি মুম্বই থেকে, মুনিয়ার ঘরে রাত। কী যোশ তাতে পাতায় পাতায়, লাইনে লাইনে যোশ। পড়তে পড়তে মনে হয় মুনিয়ার সুখে আমি সুখী, এমন মধুর রাত যেন না ফুরোয়।

ভাল করে এসব কথা শুনছিলেন না অর্ণব দত্ত, অন্যমনস্ক ভাবে জিজ্ঞাসা করলেন, লেখা কার?

রামলগন বললেন, একদম নতুন লেখিকা। শ্রীমতী অমলিনা, মহিলা প্রথম লেখাতেই বাজার মাত করবেন।

শ্রীমতী অমলিনা নামটি শুনে অর্ণব একটু নড়েচড়ে বসলেন, প্রশ্ন করলেন, মুম্বই থেকে লেখা পাঠিয়েছেন?

তেওয়ারি বললেন, বুঝলেন দত্তদা, সব এক্সপেরিয়েন্সের ব্যাপার। আপনিও আপনার এক্সপেরিয়েন্সের কথা লিখুন। এখন মদ ধরেছেন, দেখবেন শোঁ শো করে যোশের লেখা কলম থেকে বেরবে।

যোশের নিকুচি করেছে। হ্যাং ওভারটা তখন চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে আধকপালেতে পরিণত হয়েছে। অর্ণব দত্ত খেঁকিয়ে উঠলেন, মদ খেয়ে কখনও গল্প লেখা যায়। কাল রাতে কাগজ, কলম, স্বাস্থ্য সব নষ্ট হয়েছে। বৃথা পণ্ডশ্রম করেছি।

 এতক্ষণে তেওয়ারি আসল জায়গায় এসে গেছেন। অর্ণব দত্তের মতো জনপ্রিয় লেখক মদ খেয়ে বেসামাল হয়ে কী লিখেছেন, সেটা দেখা দরকার। তিনি কথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কাল রাতের গল্পটা কী করলেন?

শুকনো মুখে অর্ণববাবু বললেন, ওয়েস্ট পেপার বাসকেটে ফেলে দিয়েছি।

টেবিলের পাশেই বাজে কাগজের ঝুড়ি। রামলগন একটু উঠে গিয়ে গল্পটা সেখান থেকে তুলে আনলেন। ওপরেই রয়েছে, খুঁজতে হল না। তারপর পাকা সম্পাদকের মতো গভীর অভিনিবেশ সহকারে পড়তে লাগলেন।

পড়তে পড়তে উত্তেজিত হয়ে পড়লেন রামলগন। কেয়াবাৎ, কেয়াবাৎ, সুপার-ডুপার এইসব বিশেষণ স্বগতোক্তি করতে লাগলেন, সেই সঙ্গে জোরে জোরে বলতে লাগলেন, কী যোশ, কী যোশ।

ওই অখাদ্য এলেবেলে গল্প পড়ে ঝুনো সাহিত্য ব্যবসায়ী রামলগন তেওয়ারি এমন বিহ্বল হয়ে যাবেন, সেটা কল্পনারও অতীত। অর্ণব দত্ত বিমূঢ় দৃষ্টিতে তেওয়ারির দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তেওয়ারি বললেন, দত্তদা, আপনার এ গল্প বাংলা ভাষার সুরাযুগের পথিকৃৎ হয়ে থাকবে। কিন্তু আগে আমাকে বলুন, আপনার গল্পে দেখলাম শ্রীমতী অমলিনার কথা লিখেছেন। ওনাকে জানলেন কবে?

একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে অর্ণব বললেন, খুব ব্যক্তিগত ব্যাপার, ও প্রসঙ্গ বাদ দিন। কিন্তু আপনি বলুন তো এ গল্প চলবে কী করে? নায়কের নাম তিনবার বদলে গেল, তিন জায়গায় নায়কের বউয়ের নাম তিনরকম। পুরী এক্সপ্রেস শেয়ালদা থেকে ছাড়ছে। একটা কাহিনিতে এত গোলমাল থাকা উচিত?

এবার তেওয়ারির সম্পাদক-স্বরূপ দেখা গেল। পাঁচটি ভারতীয় ভাষায় সর্বাধিক প্রচারিত নবযুগ মাসিক পত্রের প্রধান সম্পাদক রামলগন অর্ণবকে বললেন, আপনার এই গল্প যেটা কাল মদ খেয়ে লিখেছেন, এরকম যোশের গল্প লেখা সোজা কথা নয়। শুধু দু-চারটে ঠেকা দিতে হবে।

গল্পে ঠেকা দিতে হবে? গল্পে আবার কী করে ঠেকা দেয়, ঠেকা কীভাবে দিতে হয়, অর্ণব দত্ত তার তিন দশকের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা নিয়ে চিন্তায় পড়লেন, সতত পরিবর্তনশীল চরিত্র নামগুলি এবং রেলপথের ধাঁধা এ দুয়ের সমাধান হবে কী করে?

রামলগনবাবু তুখোড় সম্পাদক, তুখোড়তর ব্যবসায়ী। তিনি অর্ণবকে বললেন, আপনি আপনার গল্পের প্রথমে যেখানে ভূমিকা থাকে সেখানে একটা ফুটনোট বা পাদটীকা দিয়ে দিন।

অর্ণব দত্ত বিড়ম্বিত বোধ করলেন, গল্পের প্রথমে ফুটনোট, পাদটীকা?

রামলগন বললেন, ওসব প্রশ্ন বাদ দিন দত্তদা। ফুটনোট না দিয়ে ভূমিকা না হয় দিলেন। প্রথমে লিখে দিন এ গল্পের নায়ক হাওলা, গাওলা আর মওলা করেন।

অর্ণব দত্ত কিছুই বুঝতে না পেরে বললেন, হাওলা তো দিল্লির ব্যাপার কাগজে দৈনিক দেখছি। আর গাওলা হল গোরুর খাবার চুরি। এটা পাটনার। এ দুটো না হয় বুঝলাম। কিন্তু মওলাটা আবার কী?

রামলগন ব্যাখ্যা করলেন, মওলা হল মৌলবাদ, ওটা মুম্বইয়ের ব্যাপার, মুম্বই ব্লাস্ট তো জানেন।

 চিন্তিত অর্ণব দত্ত বললেন, কিন্তু এতে আমার গল্পের নায়কের কী সুবিধে হবে?

তেওয়ারি বললেন, তার না হোক আপনার সুবিধে হবে। সে যখন হাওলা করে তখন সে পুরন্দর, যখন গাওলা করে তখন…

অর্ণব তেওয়ারিকে থামিয়ে বললেন, ও আর বলতে হবে না। কিন্তু তিন জায়গায় তিন বউয়ের কী হবে? রেলের স্টেশনগুলোর নাম না হয় কেটে ঠিক করে দিলাম।

ঠিক এই সময়ে বাধা পড়ল। নীচতলা থেকে ভাইপো ওপরে এসে বলল, জেই, এক ভদ্রমহিলা এসেছেন, বলছেন আমি তোমার জেঠিমা। বালকের কথা শেষ হওয়ার আগেই এক মধ্য বয়সিনী মহিলা অর্ণব দত্তের ঘরে প্রবেশ করলেন।

সকলেই বুঝতে পারছেন যে কাহিনি এবার নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে। পাঠক-পাঠিকাদের অনাবশ্যক উত্তেজনার মধ্যে রাখা আমার পছন্দ নয়। অনতি অতীতের মানে এই গত চব্বিশ ঘণ্টায় দুয়েকটি ঘটনা একটু বললেই, আশা করি, উত্তেজনা প্রশমন হবে।

ডাক মারফত গতকালই রামলগন শ্রীমতী অমলিনার গল্পটি পেয়েছেন। ডাকের কোনও লেখাই রামলগন ফেলে রাখেন না। ছাপতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন, ছাপতে না পারলে লেখেন, আরও ভাল লেখা দিন। আশা করি ভবিষ্যতে আপনার সহযোগিতা হতে বঞ্চিত হব না।

আসলে রামলগন জানেন যারা লেখা পাঠায় তাদের অধিকাংশই কাগজের পাঠক, তাই তিনি তাদের চটাতে চান না।

সে যা হোক, গতকালই অমলিনার গল্পটি তিনি পড়েছেন এবং নতুন লেখিকার লেখায় অসাধারণ যোশ পেয়ে চমৎকৃত হয়েছেন। তিনি তখনই অমলিনাকে চিঠি লিখে জানাতে যাচ্ছিলেন যে লেখাটি ভাল লেগেছে এবং শিগগিরই ছাপা হবে। এমন সময় অমলিনার ফোন আসে।

রামলগন অমলিনাকে বলেন যে তার লেখাটি ছাপা হচ্ছে। তখন অমলিনা তাঁকে জানান যে তিনি দুদিন আগে কলকাতায় এসেছেন, কাল দুপুরের ফ্লাইটে মুম্বই ফিরে যাচ্ছেন, যাওয়ার আগে একবার দেখা করে যেতে চান।

রামলগন তখন বলেন, কাল সকালে দেখা হতে পারে। তবে সকালে আমি অফিসে থাকি না, লেখকদের বাড়ি যাই। তারপর ডায়েরি দেখে বললেন, কাল সকাল এগারোটায় আমি গল্পকার অর্ণববাবুর বাড়িতে যাচ্ছি। আপনার সুবিধেই হবে বাড়িটা এয়ারপোর্টের পথেই, ওখানেই চলে আসুন, ঠিকানাটা নিয়ে নিন।

তখন অমলিনা প্রশ্ন করেন, অর্ণববাবু মানে কি অর্ণব দত্ত?

 রামলগন বললেন, তা ছাড়া আর কী? লেখক অর্ণববাবু উনি একাই।

এবার ফোনের ওপারে অমলিনা একটু চিন্তা করলেন এবং ঠিকানাটা নিয়ে বললেন, ঠিক আছে, আমি যাব।

সেই তিনি, শ্রীমতী অমলিনা, এসেছেন।

বহুকাল হয়ে গেছে, জীবন গিয়েছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার। তবুও সাবলীলভাবে ঘরে ঢুকে অর্ণবের পাশে খাটের ওপরে বসে রামলগনের দিকে একবার তাকিয়ে বললেন, আপনি নিশ্চয় রামলগনবাবু। তারপর মুখ ঘুরিয়ে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে বললেন, ভীষণ মুটিয়ে গেছ তুমি। একেবারে গোলগাল, নাদুসনুদুস। নামও খুব করছ শুনছি।

অমলিনার এই আকস্মিক প্রবেশে অর্ণব দত্ত যতটা বিস্মিত হয়েছেন, তার থেকে অনেক বেশি বোকা বনে গেছেন রামলগন।

রামলগন বললেন, এ কী ব্যাপার। আপনাদের পরিচয় আছে নাকি। অর্ণববাবু আপনি তো সাংঘাতিক লোক।

 অর্ণব নির্নিমেষ নয়নে অমলিনার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। একটু সময়ের ছাপ পড়েছে একটু বয়েসের কারিকুরি। তবু চোখের কোনায় এখনও পুরনো দিনের বিদ্যুৎ ঝিলিক দিচ্ছে।

চোখ নামিয়ে নিয়ে রামলগনকে বললেন, ইনি আমার স্ত্রী।

স্তম্ভিত ও উল্লসিত রামলগন বললেন, এ তো রাজযোটক। বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগ যে এসে গেল। তারপর ব্যবসায়ী বুদ্ধিবশত অমলিনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার প্লেন কখন? ছেড়ে যাবে না তো? অমলিনা বললেন, যাক।

Facebook Comment

You May Also Like