রম্য গল্প: বুনো ওল ও বাঘা তেঁতুল

buno ol bagha tetul

এক লোক বিশেষ এক উচ্চপদে আসীন হলেন। বহু ক্ষেত্রে যেমন হয় আমাদের এই নব-উচ্চপদাধিকারীর ক্ষেত্রে তাই হলো। অর্থাৎ তিনি অতিশয় পদমর্যাদা সচেতন হতে গিয়ে অনেকটা নাক উঁচু ও সাফকাপুড়ে ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন। শুধু এইটুকু হলেও কোন ক্ষতি ছিল না। আসলে তিনি দৃষ্টিকটু রকমের উন্নাসিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে সদাসর্বদা কি হনুরে’ রোগে আক্রান্ত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে লাগলেন। প্রকৃত প্রস্তাবে পদগৌরবে তিনি আর মানুষকে মানুষই মনে করতেন না।

নিম্নপদস্থদের সঙ্গে কুকুর-বিড়ালের সঙ্গে মানুষ যে ধরনের আচরণ করে সেই মতো আচরণ করতেন। সাধারণ মানুষ ও আমজনতাকে তিনি তার আজ্ঞাবহ দাসানুদাস মনে করতেন। সমপর্যায়ের লোকদেরও তিনি কিছুমাত্র পাত্তা দিতেন না। শেষে অবস্থা এমন হলো যে, তিনি নিজের বন্ধু-সুহৃদ এবং ঘনিষ্ঠজনকেও উচ্চপদের অহঙ্কারে চিনতে না পারার ভান করতেন। এইসব কথা মুখে মুখে রাষ্ট্র হয়ে দূরদূরান্তরে পৌঁছে গেল। এই সমাচার অবগত হয়ে উক্ত পদাধিকারীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তার সঙ্গে দেখা করার জন্য একদিন তার কার্যালয়ে উপস্থিত হলেন। উচ্চপদাধিকারী তাকে দেখে হৃদ্যতাপূর্ণ কোন সম্ভাষণ দূরে থাক বরং উপেক্ষার দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকে একেবারেই না চেনার ভান করলেন। আগন্তুক এই অবস্থা দেখে দমলেন না। মনে মনে বললেন : তুই যেমন বুনো ওল, আমিও তেমনি বাঘা তেঁতুল! এই বলে উচ্চপদাধিকারীর টেবিলে এক ঘুষি মারলেন।

উচ্চপদাধিকারী বললেন : আরে একি? আপনি কে? কি চান? এমন উদ্ভট আচরণের জন্যে আমি আপনাকে শাস্তি দিতে পারি তা জানেন?

আগন্তুক তখন বললেন : আমি তোর এক পুরনো বন্ধু। শুনেছি তুই সম্প্রতি অন্ধ হয়ে গেছিস। তাই তোর টেবিলে ঘুষি মেরে জানান দিলাম যে আমি দেখা করতে এসেছি।

You May Also Like