অপদার্থ - সত্যজিৎ রায়

অপদার্থ – সত্যজিৎ রায়

অপদার্থ কথাটা অনেক লোক সম্বন্ধে অনেক সময়ই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন আমাদের চাকর নবকেষ্ট। নব, তুই একটা অপদার্থ–এই কথাটা ছেলেবেলায় মার মুখে অনেকবার শুনেছি। নব কিন্তু কাজ ভালই করত; দোষের মধ্যে…

জুটি - সত্যজিৎ রায়

জুটি – সত্যজিৎ রায়

আজ আমি একজন ফিল্মস্টারের কথা বলতে যাচ্ছি, চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন তারিণীখুড়ো। কে তিনি? তাঁর নাম কী? আমরা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠলাম। তাঁর নাম তোরা শুনিসনি, বললেন তারিণীখুড়ো। তিনি যখন রিটায়ার করেন তখন…

রামধনের বাঁশি - সত্যজিৎ রায়

রামধনের বাঁশি – সত্যজিৎ রায়

রামধনের লোকটাকে চেনা চেনা লাগায় আরেকটু কাছে গিয়ে একটা গাছের আড়াল থেকে দেখে তার বুকের ভিতরটা হিম হয়ে গেল। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও চিনতে কোনও অসুবিধা নেই। এই সেই খগেশবাবু। খগেশ খাস্তগির,…

নিতাই ও মহাপুরুষ - সত্যজিৎ রায়

নিতাই ও মহাপুরুষ – সত্যজিৎ রায়

কোনও এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলে গেছেন যে মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই মাঝারি দলে পড়ে। কথাটা হয়তো সত্যি, কিন্তু নিতাইকে মাঝারিও বলা চলে না। অনেক ব্যাপারেই সে অত্যন্ত খাটো। দেহের দিক দিয়ে যেমন, মনের…

সত্যজিৎ রায়

রণ্টুর দাদু – সত্যজিৎ রায়

রন্টুর বয়স পনেরো, কিন্তু এর মধ্যেই তার গানের গলা হয়েছে চমৎকার। সে সকালে ওস্তাদের কাছে একঘণ্টা গান শেখে। যে তার গান শোনে সেই বলে, এ ছেলে আর কয়েক বছরের মধ্যেই আসরে গান…

সত্যজিৎ রায়

সাধনবাবুর সন্দেহ – সত্যজিৎ রায়

সাধনবাবু একদিন সন্ধ্যাবেলা কাজ থেকে ফিরে তাঁর ঘরে ঢুকে দেখলেন মেঝেতে একটা বিঘতখানেক লম্বা সরু গাছের ডাল পড়ে আছে। সাধনবাবু পিটপিটে স্বভাবের মানুষ। ঘরে যা সামান্য আসবাব আছে–খাট, আলমারি, আলনা, জলের কুঁজো…

মহিম সান্যালের ঘটনা - সত্যজিৎ রায়

মহিম সান্যালের ঘটনা – সত্যজিৎ রায়

তারিণীখুড়ো তাকিয়াটা বুকের কাছে টেনে নিয়ে বললেন, চমকালের কথা তো তোদের বলেছি, তাই না? হ্যাঁ হ্যাঁ, বলল ন্যাপলা। সেই ম্যাজিশিয়ান তো? যাঁর আপনি ম্যানেজার ছিলেন? হ্যাঁ। কিন্তু আরেকজন জাদুকর আছেন–অবিশ্যি যখনকার কথা…

প্রফেসর হিজি বিজ্ বিজ্ - সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর হিজি বিজ্ বিজ্ – সত্যজিৎ রায়

আমার ঘটনাটা কেউ বিশ্বাস করবে বলে বিশ্বাস হয় না। না করুক–তাতে কিছু এসে যায় না। নিজে চোখে না দেখা অবধি অনেকেই অনেক কিছু বিশ্বাস করে না। যেমন ভূত। আমি অবিশ্যি ভূতের কথা…

পিন্টুর দাদু - সত্যজিৎ রায়

পিন্টুর দাদু – সত্যজিৎ রায়

পিন্টুর আপসোস এইখানেই। তার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেরই দাদু আছে, কিন্তু কই, তাদের কেউই তো তার নিজের দাদুর মতো নয়। রাজুর দাদুকে সে দেখেছে নিজে হাতে লাল আর বেগুনি কাগজের ফিতে পর পর…

বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম - সত্যজিৎ রায়

বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম – সত্যজিৎ রায়

নিউ মার্কেটের কালীচরণের দোকান থেকে প্রতি সোমবার আপিস-ফেরতা বই কিনে বাড়ি ফেরেন। বিপিন চৌধুরী। যত রাজ্যের ডিটেকটিভ বই, রহস্যের বই আর ভূতের গল্প। একসঙ্গে অন্তত খান। পাঁচেক বই না কিনলে তাঁর এক…

ক্লাস ফ্রেণ্ড - সত্যজিৎ রায়

ক্লাস ফ্রেণ্ড – সত্যজিৎ রায়

সকাল সোয়া নটা।মোহিত সরকার সবেমাত্র টাইয়ে ফাঁসটা পরিয়েছেন, এমন সময় তাঁর স্ত্রী অরুণা ঘরে ঢুকে বললেন, ‘তোমার ফোন।’‘এই সময় আবার কে?’কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে নটায় অফিসে পৌঁছানোর অভ্যাস মোহিত সরকারের; ঠিক বেরোনোর মুখে…

পুরস্কার - সত্যজিৎ রায়

পুরস্কার – সত্যজিৎ রায়

বয়স চব্বিশ, লম্বা, রোগাটে। হাত-পা রোগা, মুখখানা শীর্ণ, পকেটের দশা আরও কাহিল। লোকটি একজন শিল্পী। গল্পের সূচনায় তাকে তেপায়া একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। যেভাবে বসে আছে, তাতে মনে হয়, নড়াচড়া…