ঘড়িদাসের গুপ্তকথা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ইতর-ভদ্র – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

রাত্রি প্রায় এগারটার সময় রস রোডে প্রফেসার সরকারের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করিয়া সমরেশ বাসায় ফিরিতেছিল। অনেকটা পথ যাইতে হইবে, তাহার বাসা মির্জাপুর স্ট্রীটে, কিন্তু এত রাত্রে ট্রাম ও বাসের যাতায়াত কমিয়া আসিয়াছিল;…

গুহা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

গুহা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

একটি গুহার অভ্যন্তর। পিছন দিকে পাথরের গায়ে আঁকাবাঁকা ফাটল রহিয়াছে, উহাই গুহার প্রবেশ-পথ। ফাটল দিয়া দেখা যায় বাহিরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি পড়িতেছে, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাইয়া মেঘ ডাকিতেছে। গুহার ভিতরে মলিন স্যাঁতা আলোয়…

মায়ামৃগ - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়ামৃগ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

এই কাহিনীটি আমার নিজস্ব নয়; অর্থাৎ মস্তিষ্কের মধ্যে ধূম বিশেষ সহযোগে ইহার উৎপত্তি হয় নাই। তাই সর্বাগ্রে নিজের সমস্ত দাবি-দাওয়া তুলিয়া লওয়া উচিত বিবেচনা করিতেছি। যে হঠাৎ-লব্ধ বন্ধুটির মুখে এ কাহিনী শুনিয়াছিলাম,…

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

মরণ-ভোমরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বড়দিনের ছুটি শেষ হইতে আর দেরি নাই। গত কয় দিন হইতে পছিয়াঁ বাতাস দিয়া দুর্জয় শীত পড়িয়াছে। সন্ধ্যার পর আমরা মাত্র তিনজন ক্লাবের সভ্য চারিদিকের দরজা-জানালা বন্ধ করিয়া দিয়া চিনির গগনে আগুনের…

ছোট কর্তা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ছোট কর্তা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আভার বিবাহের সময় বরপক্ষ ও কন্যাপক্ষের মধ্যে কি একটা মতান্তর হইয়াছিল। কিন্তু দুই পক্ষই ভদ্রলোক, তাই মতান্তর ঝগড়ায় পরিণত হয় নাই। বরপক্ষ আভাকে লইয়া চলিয়া গিয়াছিলেন, তারপর পনেরো বছর আভা আর পিত্রালয়ে…

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখোস – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই যে মুখে মুখোস পরিয়া ছদ্মবেশে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে, এই গুঢ় তত্ত্বটির প্রতি সাধারণের সতর্ক মনোযোগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন। আমি আপাতত মাত্র চারিটি চরিত্র নমুনাস্বরূপ সর্বসমক্ষে হাজির করিতেছি, আশা করিতেছি এই…

ট্রেনে আধঘণ্টা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ট্রেনে আধঘণ্টা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ট্রেন স্টেশন ছাড়িয়া চলিতে আরম্ভ করিয়াছে, এমন সময়ে মণীশ ছুটিতে ছুটিতে আসিয়া একটা ছোট ইন্টার ক্লাস কামরায় উঠিয়া পড়িল। রাত্রি এগারটা পঁচিশের প্যাসেঞ্জার ধরিয়া আজ বাড়ি ফিরিবার কোনও আশাই তাহার ছিল না;…

রমণীর মন - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

রমণীর মন – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি। দুপুর রাত্রে গাঁয়ের জমিদার বাড়িতে ডাকাত পড়ল। পঁচিশজন ঘোড়সওয়ার ডাকাত মশাল জ্বালিয়ে বাড়ি ঘেরাও করল। জমিদার অবনীধর রায় নিজের শয়নকক্ষে সস্ত্রীক ঘুমোচ্ছিলেন, বাইরে গণ্ডগোল শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল।…

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

তা তা থৈ থৈ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ভোম্বলদার সঙ্গে অনেক দিন দেখা হয় নাই। তিনি আমাকে ভালবাসেন, কিন্তু পছন্দ করেন না। অপছন্দর কারণ, তিনি সঙ্গীতবিদ্যার উপর হাড়ে চটা এবং আমি সুরধুনী গ্রামাফোন রেকর্ড কোম্পানির প্রচারসচিব। সুরধুনীর নাম অবশ্য আপনারা…

কর্তার কীর্তি - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

কর্তার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বর্ধমান জেলার ধনী ও বনিয়াদি জমিদার বাবু হৃষীকেশ রায় তাঁহার জ্যেষ্ঠ পুত্র হেমন্তকে বাড়ি হইতে দূর করিয়া দিয়াছিলেন। ইহার কারণ সে তাঁহার মনোনীতা পাত্রীকে উপেক্ষা করিয়া একটি আই-এ পাস করা মেয়েকে নিজে…

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

টিকটিকির ডিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

শীতের সন্ধ্যায় আমরা কয়েকজন ক্লাবে বসিয়া রাজনৈতিক আলোচনা করিতেছিলাম, যদিও ক্লাবে বসিয়া উক্তরূপ আলোচনা করা ক্লাবের আইনবিরুদ্ধ। বেহার প্রদেশে বাস করিয়া বাঙালীর ক্লাব করিতে হইলে ঐ রকম গুটিকয়েক আইন খাতায় লিপিবদ্ধ করিয়া…

ঘড়িদাসের গুপ্তকথা - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজ্ঞাপন বিভ্ৰাট – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

সংবাদপত্র পাঠ করিতেছিল এবং সিগারের প্রভুত ধূমে ঘরটি প্রায়ই অন্ধকার করিয়া ফেলিয়াছিল। বেলা প্রায় সাড়ে সাতটা, এমন সময় বন্ধু প্রমথনাথ ঘরে ঢুকিয়াই অতি কষ্টে কাশি চাপিতে চাপিতে বলিল, পর্বতো বহ্নিমান ধূমাৎ। তুমি…